বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথমবারের মতো কলেজের পোশাক পরে অনেক ভালো লাগছিল। ভেবেছিলাম, হয়তো এই শার্ট-প্যান্ট আর কোনো দিন পরা হবে না।
ক্লাস শুরু হবে নয়টায়। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির জন্য আমাদের দুটো পিরিয়ড হবে। আমি বাসা থেকে আটটায় বের হলাম কলেজের উদ্দেশে। বাসস্ট্যান্ডে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। বাসস্ট্যান্ডে, আমার কলেজের রুটের বাসটি দেখতে পেলাম। যেন আমার জন্যই অপেক্ষা করছিল বাসটি। দেরি না করে বাসে উঠে পড়লাম। যথা সময়ে কলেজে পৌঁছে গেলাম। মনের ভেতরে অনেক উত্তেজনা কাজ করছিল। কারণ, সব বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে পারব, তারপর নতুন নতুন বন্ধু হবে, আরও কত কী।

ভাবনাগুলো মাথায় ঘুরপাক করতে করতে কলেজের গেটের সামনে এসে পড়লাম। এসে দেখি সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একে একে প্রবেশ করছে। আমিও তাদের পিছু নিলাম। গেটে প্রবেশ করতেই দেখলাম সবার তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে করোনা পরিস্থিতির জন্য। আমার তাপমাত্রাও মাপা হলো। তারপর সামনে এগিয়ে গেলাম, দেখলাম কলেজের সব শিক্ষক আমাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য গোলাপ ফুল হাতে (গার্ড অব অনার স্টাইলে) দাঁড়িয়ে আছেন। এটি দেখে আমার অনেকটা ভালো লাগল। ক্ষণিকের জন্য নবীনবরণ না হওয়ার কষ্ট ভুলে গেলাম। সবাইকে একটি করে কাঁটাসহ গোলাপ ফুল দিয়ে বরণ করে নিল। অবশ্যই ইচ্ছাবশত নয়। গোলাপের কাঁটাগুলো ভালো করে ছাড়ানো হয়নি। এই যা, কলেজজীবনের প্রথম দিনই হাতে পেলাম কাঁটাসহ ফুল। মনে মনে ভাবলাম, হয়তো কাঁটাসহ এ গোলাপটাই আমাদের বর্তমান জীবন। করেনার সময়ে সুস্থ জীবনযাপনের সঙ্গে বেশ মিল খুঁজে পেলাম। জীবনটা ফুল। আর কাঁটাগুলো করোনাভাইরাস।

এরপর ছুটলাম শ্রেণিকক্ষ খুঁজতে। চতুর্থ তলায় উঠেই পেয়ে গেলাম আমার ক্লাস। ভেতরে ঢুকেই দেখি অনেকে এসে পড়েছে। আমি বরাবরই একটু লাজুক ধরনের, যার ফলে নতুন পরিবেশ একটু লজ্জাই করছিল। তাই পেছনের সারির দিকে একটি বেঞ্চে গিয়ে বসলাম। কিন্তু মনের মতো সিট পেলাম না। তারপর অন্য এক সারিতে গিয়ে মাঝামাঝি সারির একটি বেঞ্চে বসে পড়লাম। চারপাশে তাকিয়ে দেখি নতুন নতুন সব চেহারা।

অনলাইন ক্লাসে যেসব শিক্ষকদের কম্পিউটারের স্ক্রিনে দেখেছিলাম, অবশেষে তাঁদের ক্লাস সামনাসামনি করতে পারব— এসব ভেবে আনন্দ হচ্ছিল অনেক। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম কিছু ছাত্র তাদের দলবল নিয়ে পেছনে বসেছে। তাদের কথাবার্তা আমার ভালো লাগেনি। আর তারা অনেক চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। বলে রাখা ভালো, আমি একটু নীরব স্বভাবের ছেলে, তাই একটু কষ্ট হচ্ছিল। মনে মনে ভাবলাম, সারা বছর তো বাসায় বসে কিছুই পড়া হয়নি, এখন ক্লাসে এসে যদি এদের জন্য মনোনিবেশ করতে না পারি তাহলে সমস্যা রয়েছে অনেক। এদের সামনে বসলে আমার পড়াশুনা কিছুই হবে না। তাই আমি তাড়াতাড়ি জায়গা পরিবর্তন করে ফেললাম। এবার তৃতীয় বেঞ্চে বসলাম। যেই ছেলেটির সঙ্গে বসলাম, তাকে দেখে আমার অনেকটা চেনা মনে হলো। পরে মনে পড়ল, আরে এ তো আমার সেই স্কুলের বন্ধু সাকিব! তারপরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে ডাক দিয়ে বললাম, ‘ভাইয়া তুমি সাকিব না’? আমাকে দেখে সেও চিনতে পারল। অনেক দিন পর নিজের পুরোনো একজন বন্ধুকে পেয়ে আমার খুবই ভালো লাগল। তারপর দুজনে সুখ-দুঃখের আলাপ করলাম। অনেক দিন পর কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে যা হয় আর কী। কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লাস শুরুর ঘণ্টা পড়ে গেল।
সবাই যার যার আসন গ্রহণ করল। তারপর দুজন শিক্ষক আমাদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেন। সেই দুজন শিক্ষক আমাদের শ্রেণিকক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁরা একে একে নিজেদের পরিচয় দিলেন। তারপর আমরাও সবাই নিজেদের পরিচয় দিলাম। যেসব শিক্ষকের ক্লাস অনলাইনে করেছিলাম, তাঁদের সামনাসামনি দেখতে পেয়ে অনেক ভালো লাগছিল। তারপর তাঁরা আমাদের কলেজের নিয়মকানুন বুঝিয়ে বললেন। স্যারদের কথা বলার ধরন আমার খুব ভালো লাগছিল। এভাবে আমাদের ১ম পিরিয়ড শেষ হয়ে যায়। তারপর আমাদের শ্রেণিশিক্ষক রোলকল শেষ করলেন।

২য় পিরিয়ডে আমাদের রসায়ন স্যার শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেন। বলে রাখা ভালো, তাঁকে আমার আগে থেকেই অনেক ভালো লাগত। আমি নিয়মিত তাঁর ক্লাস করতাম।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন