আমরা অনেক সময় ভাবি, সৃজনশীল মানুষের মাথায় দারুণ সব আইডিয়া হঠাৎ কীভাবে আসে? এটা কি জন্মগতভাবে পাওয়া গুণ, নাকি পরিবার থেকেই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আসে? নুহাশ হ‌ুমায়ূন বলেন, আইডিয়া জেনারেশন বা মাথায় হঠাৎ কোনো দারুণ আইডিয়া পাওয়াটা আসলে সাঁতার শেখার মতো। চোখ-কান খোলা রেখে আশপাশের মানুষ, ঘটনা পর্যবেক্ষণ করলেই সাধারণ বিষয় থেকেই অনেক গল্প ও ধারণা উঠে আসে। এভাবেই চিন্তাভাবনা করতে করতে আইডিয়া পাওয়া যায়। আইডিয়া নিয়ে এভাবেই নুহাশ হ‌ুমায়ূন তরুণদের উপদেশ দিয়েছেন ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের দ্বিতীয় পর্বে।

বিজ্ঞাপন

ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের প্রথম সিজন চলছে, যেখানে নুহাশ হ‌ুমায়ূন ফিল্ম মেকিংয়ের ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে তরুণদের পরামর্শ দিয়েছেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। আজকের তরুণ প্রজন্ম, যারা ফিল্ম মেকিং নিয়ে কাজ করতে চায়, তারা প্রায়ই নুহাশকে ইনবক্সে মেসেজ করে থাকে যে তারা শর্টফিল্ম বানাতে চায়, কিন্তু মাথায় আইডিয়া আসে না। এই আইডিয়া কীভাবে পাওয়া যায়? নুহাশ তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি সব সময় নোট রাখেন, যেখানেই যান বা যে ঘটনাই দেখেন, নোটবুকে বা মোবাইলে টুকে রাখেন।

চোখ-কান খোলা রেখে চারপাশের সাধারণ ঘটনাগুলোই লক্ষ করলে নতুন আইডিয়া পাওয়া যায়। যেমন সকালে রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে হয়তো আলাদা টেবিল পাওয়া গেল না, অন্য কোনো টেবিলে যেখানে আরও মানুষ বা বন্ধুরা বসেছে, সেখানে বসলেন। তারা কী নিয়ে গল্প করছে, হয়তো একটু খেয়াল করলেন, হতে পারে তাদের গল্প থেকেই নতুন আইডিয়া চলে আসতে পারে। আবার সব সময় একই রুমে বা জায়গায় থেকেও হয়তো একঘেয়েমি চলে আসে, তাই মাঝেমধ্যে একটু ভ্রমণে বের হওয়া যেতে পারে। ভ্রমণ মানে বিদেশে যেতে হবে বা শহরের বাইরে কোথাও যেতে হবে তা নয়, বাড়ির বাইরে, রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়েও কিন্তু নতুন গল্প খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন
default-image

নুহাশ হ‌ুমায়ূন জানান ‘ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টিস্ট’ শর্টফিল্মের আইডিয়া কীভাবে পেয়েছিলেন। তাঁর এক বন্ধু তাঁকে এক মুরগিওয়ালার গল্প বলেছিলেন, যেখানে মুরগিওয়ালার ছেলে বিদেশে ভালো স্কুলে স্কলারশিপ পেয়েছে, কিন্তু বাবাকে মুরগিওয়ালা হিসেবে পরিচয় দিতে তার লজ্জা লাগছে। সেই মুরগিওয়ালার কাহিনির সঙ্গে সম্পূর্ণ আলাদা একটা ঘটনা—যেমন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টিস্টদের সংগ্রাম বা তাদের গল্প—মেশানো হলে তৈরি হয় একদম নতুন একটি আইডিয়া বা গল্প।

তরুণদের উদ্দেশে নুহাশ হ‌ুমায়ূন বলেন, একটা নোটবুক নিয়ে বাইরে বেরিয়ে পড়ো, আশপাশের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে কোনো গল্প পেলে সেগুলো লিখে ফেলো এবং পাঠিয়ে দাও ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের ফেসবুক পেজে।

আইডিয়া জেনারেশনের উপায় তো জানা হলো, পরবর্তী পর্বে জানা যাবে এই আইডিয়াকে কীভাবে স্ক্রিনে ফুটিয়ে তোলা যায়। পরের পর্ব দেখতে এবং আরও সতেজ আপডেট পেতে চোখ রাখতে হবে প্রথম আলো এবং ক্লেমনের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

মন্তব্য করুন