default-image

দেশে অনেক উৎসাহী, আগ্রহী ও কেয়ারিং তরুণ আছেন, যাঁরা নতুন ও উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে দেশ ও সমাজকে আরও সুন্দর করে তুলতে চান। অনেকেই আছেন, যাঁরা উৎসাহ থাকার পরও কোনো কারণে সেটিকে অনুসরণ করে সামনে এগোতে পারেন না। সেই সব তরুণের উৎসাহটা বাড়াতে এবং যতটা পারা যায় সাহায্য করে পাশে থাকতে ক্লেমন নিয়ে এসেছে ‘স্কুল অব ফ্রেশনেস’।

ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেস একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম। যা কিছু নতুন এবং ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে, এমন বিষয় নিয়েই তৈরি হয়েছে এই প্ল্যাটফর্ম। দেশে ইতিবাচক একটা পরিবর্তন আনতে এ রকম একটা প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে এই প্রথম। ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের প্রথম পর্বটি ফিল্মমেকিং নিয়ে। প্যাশনকে যাঁরা প্রফেশন বানাতে চান, যাঁরা ফিল্মমেকিংয়ে আসতে চান, তাঁদের জন্যই এই পর্ব। সামনের পর্বগুলোতে ক্লেমন আরও নতুন বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারে। যেমন তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির পরামর্শ, আমাদের চারপাশ কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, দেশকে আরও বড় পরিসরে কীভাবে সাহায্য করা যায় ইত্যাদি।

ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেস সিজন-০১-এর অনলাইন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তরুণ নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন। তিনি এই সিজনের প্রথম পর্বে ফিল্মমেকিং বিষয়ের প্রশিক্ষক হিসেবে থাকছেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন বিজ্ঞাপন নির্মাতা আশফাক বিপুল।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতে নুহাশ হুমায়ূনের কাছে জানতে চাওয়া হয় ‘ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেস’ ও এই প্রকল্পে তিনি কীভাবে যুক্ত হলেন। নুহাশ হুমায়ূন বলেন, ‘ক্লেমনের এই আইডিয়াটা আমার কাছে একদমই আলাদা মনে হয়েছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে এর “ফ্রেশনেস” শব্দটা। তখনই আমার মনে হয়েছে কীভাবে এই প্ল্যাটফর্মের ফিল্মমেকিংয়ের কনটেন্টগুলো একদম সতেজ এবং আলাদা করা যায়। কারণ, আমি নিজেও অনেক দিন ধরে ভাবছিলাম যে আজকের স্বপ্নবাজ তরুণ যাঁরা ফিল্ম মেকিং নিয়ে কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য কিছু টিপস বা গাইডলাইন কীভাবে দেওয়া যায়। অনেকেই এ রকম পরামর্শ চায় এবং সত্যি বলতে আমাদের দেশে ফিল্ম মেকিং শেখার সে রকম কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। তাই এই স্কুল অব ফ্রেশনেস প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে আগ্রহীদের যদি সাহায্য করা যায়, সেই চিন্তা থেকেই যুক্ত হওয়া।’

নুহাশ হ‌ুমায়ূন নিজে কীভাবে ফিল্ম মেকিং শুরু করলেন, সেই অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমি খুব ছোটবেলা থেকেই ফিল্ম মেকিং নিয়ে আগ্রহী থাকলেও প্রফেশনালি আমার কাজ শুরু হয়েছে মাত্র তিন বছর হলো। যখন আমি ছোট ছিলাম বা পড়াশোনা শেষ করে ফিল্ম মেকিংয়ের ওপর কাজ করতে চেয়েছিলাম, তখন দেখেছি, আমাদের শেখার জন্য কোনো মেন্টর ছিল না, যার কাছে পরামর্শ চাওয়া যায় বা শেখা যায়। তাই নিজে থেকে কাজ শুরু করে বারবার ভুল করার মাধ্যমেই শিখতে হয়েছে, অভিজ্ঞতা হয়েছে।’

‘ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেস’–এর কনটেন্ট বানানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নুহাশ বলেন, ‘আমাদের দেশে একটা কালচার আছে, যেখানে ছোট কাউকে দেখলেই মানুষ অহেতুক উপদেশ দিতে চায়। নতুন কাজ শুরু করার আগে না চাইলেও কেউ উপদেশ দিলে আসলে ভালো লাগে না বা নিজস্ব সত্তা বা ফ্রেশনেস হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আমার কনটেন্টে আমি কাউকে উপদেশ দেওয়ার মতো করে কোনো কথা বলিনি। আমি আমার অভিজ্ঞতা বলেছি, কাজ করতে গিয়ে আমি কী ধরনের সমস্যায় পড়েছিলাম, সেগুলো তুলে ধরেছি। আমার মনে হয়, একদম ক্যাজুয়াল ভঙ্গিতে বানানো কনটেন্টগুলো এখনকার তরুণদের ভালো লাগবে।’

এভাবেই দুই তরুণ গুণী মানুষ নুহাশ হ‌ুমায়ূন ও আশফাক বিপুলের মজার আড্ডা ও আলোচনা এগিয়ে চলে। গল্পের মধ্যে উঠে আসে তাঁদের কাজের ধরন, কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হওয়া, কাজের স্বীকৃতি, মজার অভিজ্ঞতা, ভালো লাগা, মন্দ লাগা ইত্যাদি নানা বিষয়। ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের প্রথম সিজনের পর্বগুলো শুরু হতে যাচ্ছে খুব শিগগিরই। সতেজ আপডেট পেতে চোখ রাখতে হবে ক্লেমন ও প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0