default-image

‘শুনতে পাচ্ছেন?’ আপনি মাথা ঝাঁকিয়ে উত্তর দিলেন, হুমম, মাঝেমধ্যেই কোকিলের কুহু ডাক শুনতে পাচ্ছি, মানে বসন্ত এসে গেছে বাংলার প্রকৃতিতে।
পয়লা ফাল্গুন, ১৩ ফেব্রুয়ারি। বসন্তের প্রথম দিনে রাজধানীর মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামের প্রবেশমুখে কথা হয় ক্রিকেটপ্রেমী কজন তরুণের সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামির শাকের বলেন, ‘১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের। তাই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরু হবে মূলত ওই দিন থেকেই। বসন্তের প্রথম দিনে আমরা এসেছি বাংলাদেশ দলের জন্য আয়োজিত শুভকামনায় শরিক হতে।’
ক্রিকেটামোদী বাঙালির ঘরে-বাইরে এখন প্রস্তুতি চলছে ক্রিকেট উৎসবে যোগ দেওয়ার। হ্যাঁ, বাঙালি শুধু খেলা দেখেই না, উপভোগও করে। মনে-প্রাণে অংশ নেয় এ উৎসবে। তাই ক্রিকেট খেলা দেখা উপলক্ষে তাদের থাকে বিস্তর প্রস্তুতি। শুনুন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আন্না খন্দকারের প্রস্তুতির কথা, ‘আমরা বন্ধুরা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সির আদলে জার্সির অর্ডার দিয়েছি। প্রতিটি জার্সিতে লেখা থাকবে আমাদের নিজেদের নাম। এই জার্সি গায়ে দিয়েই আমরা বাংলাদেশের খেলা দেখতে চাই। বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার এর চেয়ে ভালো পদ্ধতি আর কী হতে পারে!’
ওদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অন্বিতা রায় বন্ধুদের ফেলে চলে যাচ্ছেন। তাঁর ছোটাছুটি দেখলে যে কেউ মনে করতে পারেন, তিনি বোধ হয় ট্রেন মিস করে ফেলেছেন শেষ মিনিটের দোষে! ব্যাপারটা খোলাসা করলেন তিনি নিজেই, ‘নারে ভাই, ট্রেনফ্রেন কিছুই মিস করি নাই, বাসায় ফিরে যাচ্ছি ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করার জন্য। যে করেই হোক ১৮ ফেব্রুয়ারি আগে অ্যাসাইনমেন্টটা শেষ করতে হবে। তা না হলে ঠান্ডা মাথায় খেলা দেখতে পারব না তো!’
গালিব, শাওন, ইমতেনাম থাকেন ঢাকা কলেজের হলে। খেলা দেখবেন হলের টেলিভিশনে। গায়ে বাংলাদেশের জার্সি তো থাকবেই, মাথায়ও বাঁধবেন বাংলাদেশের পতাকার ব্যান্ডেনা, গালে আঁকবেন রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ‘এখন প্রস্তুতি চলছে হলের দেয়াল পতাকা দিয়ে মুড়ে দেওয়ার।’ জানালেন এই তিন বন্ধু।
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আশরাফি নূর শ্রাবণী জানালেন, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখবেন টিএসসিতে। ‘দলবেঁধে খেলা দেখার মজাই আলাদা।’ বলেন শ্রাবণী।
মেহেদী, সাকিব, মুন ও শুভ থাকেন মেসে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাঁরা কিনে ফেলেছেন টিভিকার্ড। কম্পিউটারে টিভিকার্ড লাগিয়ে ঘরে বসে মেসের সব সদস্য একসঙ্গে উপভোগ করতে চান খেলা। সাকিব বলেন, ‘যেদিন বাংলাদেশের খেলা থাকবে, সেদিন আমরা খিচুড়ি রান্না করব আর একসঙ্গে খেলা দেখব। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই এক শক্তি, সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলে।’
গতকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৫-এর আসর শুরু হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডে। চার বছর পর আবার এসেছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট উন্মাদনা। আবার ক্রিকেটপ্রেমীরা মাঠে কিংবা টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসে পড়েছে ওয়ানডে ক্রিকেটের রথী-মহারথীদের জমজমাট লড়াই দেখতে। খেলছে বিশ্বের ১৪টি দেশ, উন্মাদনায় ভাসছে গোটা বিশ্ব। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। ব্যক্তিগত আয়োজনের পাশাপাশি পাড়া, মহল্লা আর ক্লাবের মাঠে মাঠে চলছে বিশ্বকাপ দেখার আয়োজন। বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের একটাই প্রত্যাশা, বাঘের গর্জন শুনুক বিশ্ব; গর্জে উঠুক বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন