বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাবা সুলতান রফিকের মনে ছিল উত্কণ্ঠা। কারণ, স্কুলের মূল ফটকের সামনেই শতাধিক অভিভাবকের ভিড়। এতে ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস। সুলতান রফিক বলেন, স্কুলে প্রবেশের আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে। তাপমাত্রা পরিমাপ করে মাস্কও দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। স্কুলের ভেতরে সবকিছু ঠিকঠাকই আছে। কিন্তু বাইরের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। অভিভাবকেরা ভিড় করেছেন। মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

সুলতান রফিকের মতো একই কথা বললেন প্রণতি সাহা, মোহাম্মদ সেলিম, সরল দেবদত্তসহ কয়েকজন অভিভাবক। প্রণতি সাহা বলেন, সামাজিক দূরত্ব মানার সুযোগ আদতে কম। তবে মাস্ক পরে থাকছেন তাঁরা। আর সন্তানের ব্যাগে অতিরিক্ত মাস্ক, পানি ও স্যানিটাইজার দিয়েছেন তিনি।

অভিভাবকের মনে ভয় থাকলেও একেবারে ফুরফুরে মেজাজে ছিল এসএসসি পরীক্ষার্থী ঋশিতা আলম। অনেক দিন পর ক্লাসে ফিরেছে সে। এত দিন অনলাইনে ক্লাস করায় সরাসরি অনেক বন্ধুর সঙ্গে তার দেখা হয়নি। আজ ক্লাসে এসেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠে ঋশিতা।

স্কুলটির অনেক শিক্ষার্থীকেই আবার স্কুল প্রাঙ্গণের বাইরে জটলা করতে দেখা যায়। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে বের হয়ে নগরের জামালখানের রাস্তায় ভিড় করেছে। একে অন্যের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠেছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অনেকেই আবার মুঠোফোনে সেলফি তুলছিল।

ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার বললেন, সব প্রস্তুতি নিয়েই তাঁরা ক্লাস শুরু করেছেন। পর্যাপ্ত মাস্ক ও স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে। একটি বেঞ্চে একজন শিক্ষার্থীকেই বসানো হচ্ছে।

এই উচ্চবিদ্যালয়ের মতো অনেকটা একই রকমের চিত্র ছিল বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি মানার চিত্র চোখে পড়লেও, বাইরে ছিল অভিভাবকদের ভিড়। অনেকেই বাইরে রাস্তার ধারে বসে ছিলেন। তাঁদের অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না।

এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণও ছিল আজ উৎসবমুখর। ফটকে টাঙানো ছিল সতর্কতামূলক ব্যানার। শিক্ষকদের কয়েকজন ফটকে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরিমাপ করছিলেন। কেউ আবার স্যানিটাইজার দিচ্ছিলেন। তবে শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, এক বেঞ্চে দুই–তিনজন করে শিক্ষার্থী। তবে সবার মুখে মাস্ক।

অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অভিভাবকদের জটলা থাকলেও ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ছিল ভিন্ন চিত্র। স্কুলটির আশপাশে কোনো ভ্রাম্যমাণ খুচরা দোকানিকেও দেখা যায়নি। সকালে শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে ফুল দিয়ে বরণ করেন শিক্ষকেরা।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন