default-image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদবি ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এ পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ থাকায় তাঁকে এক নোটিশের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদের নীতিমালা প্রণয়নে প্রাক্তন উপাচার্যের গৃহীত ব্যবস্থার অনুমোদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন এখনো একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন হয়নি। পাশাপাশি ওই পদে নিয়োগের জন্য সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদবি ব্যবহার না করার জন্য আদেশক্রমে অনুরোধ করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সোমবার বিকেলে সাবেক উপাচার্যের কাছে নোটিশটি দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ৭ মার্চ ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ (গবেষণাকেন্দ্র) পদে গবেষক হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক এই উপাচার্য। তবে ‘নিয়ম অনুযায়ী’ ওই পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ার অভিযোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন না তৎকালীন সহ-উপাচার্য ও বর্তমান উপাচার্য শিরীণ আখতার। সিন্ডিকেট সভা ও একাডেমিক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন না নেওয়ায় উপাচার্যের এই পদে বসা নিয়ে ওই সময় বিতর্ক তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নিয়োগের বিষয়টি সুরাহা করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আট সিনেট সদস্য। পরে সাবেক উপাচার্য এই আট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক’ কাজে যুক্ত থাকার পাল্টা অভিযোগ তোলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু চেয়ার নির্বাহী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ওই পদের জন্য তৈরি নীতিমালার অনুমোদন করা হয়। একই দিন সাবেক উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য কমিটি সুপারিশ করে। কমিটির তৈরি নীতিমালার ৪ এর খ-তে বলা হয়, ‘নিয়োগ দেওয়ার জন্য কমিটির সুপারিশ সিন্ডিকেটে পেশ করা হবে এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে চুক্তি ভিত্তিতে উক্ত পদে নিয়োগ প্রদান করা হবে।’ সেই নীতিমালা ভঙ্গ করে সাবেক উপাচার্য এ পদে দায়িত্ব নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বর্তমান উপাচার্য শিরীণ আখতারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা।

নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সবাই বঙ্গবন্ধুকে মনে প্রাণে ধারণ করার চেষ্টা করছি। এ ধরনের চিঠির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এখনো বঙ্গবন্ধু চেয়ারে বহাল আছি। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আমরা সবাই লেখালেখি করছি। এ বর্ষকে সাদরে উদ্‌যাপন করার জন্য মুখিয়ে আছি। সে ক্ষেত্রে নোটিশের বিষয়টি বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করার শামিল।’

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন