default-image

দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগরের ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। ১৯৭১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি যখন যাত্রা শুরু করে, তখন কথা ছিল গবেষণায় সবচেয়ে জোর দেওয়া হবে। রাজধানী থেকে দূরে নিরিবিলি মনোরম পরিবেশে শিক্ষা ও গবেষণায় নিবেদিত থাকবেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু পাঁচ দশক পরে এসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক চরিত্র হারিয়েছে। দেশের আর পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই এটির বিভাগ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বাজেট ও অবকাঠামো বেড়েছে, কমেছে শিক্ষার মান, যা বলছেন শিক্ষকেরাই। দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেসব সমস্যায় জর্জরিত—ছাত্ররাজনীতির নামে সহিংসতা, শিক্ষকরাজনীতির নামে দলের লেজুড়বৃত্তি, দলীয় পরিচয়ে শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণায় নজর না দেওয়া, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ—এসব সমস্যা জাহাঙ্গীরনগরেও প্রকট।

সুবর্ণজয়ন্তীতে গর্ব করার মতো কী আছে—জানতে চাওয়া হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে। তাঁদের বক্তব্যের সারাংশ মোটামুটি এমন, বিশ্ববিদ্যালয়টি নির্যাতন ও মৌলবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রশংসনীয় অবস্থান দেখিয়েছে। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব এবং নৃবিজ্ঞানের মতো বিভাগ দেশে প্রথমবারের মতো জাহাঙ্গীরনগরেই খোলা হয়েছিল। অনেক কালজয়ী নাটক, নাট্যাভিনেতা ও নির্মাতা তৈরি হয়েছে জাহাঙ্গীরনগরে। দেশের বেশ কয়েকটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান খনন ও ইতিহাস উদ্ধারের কাজ করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় সাফল্য দেখিয়ে সমাদৃত হয়েছেন।

কিন্তু সার্বিক মূল্যায়ন কী—এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য আবদুল বায়েস বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানে যে অবনতি, জাহাঙ্গীরনগর তার ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষকদের আন্তরিকতা কমেছে। সেই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষার্থীও নেই।

আবদুল বায়েস জানান, জাহাঙ্গীরনগরকে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল গুরু-শিষ্যের মতো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-গবেষণায় নিবেদিত থাকার সুযোগ দেওয়া। বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণায় সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু আবাসিক বৈশিষ্ট্যটি আর টিকে নেই।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার অদূরে সাভারে ৬৯৮ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত। প্রাকৃতিক পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। সেখানে প্রতিবছর প্রচুর শীতের পাখি আসে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট, আর ক্লাস শুরু হয় ১৯৭১ সালের ৪ জানুয়ারি। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ওই বছরের ১২ জানুয়ারি। তাই এই দিনটিকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার করোনাভাইরাসের কারণে ছোট পরিসরে ভার্চ্যুয়াল কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জাহাঙ্গীরনগর যাত্রা শুরু করে চারটি বিভাগ নিয়ে—অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত ও পরিসংখ্যান। এখন ৩৪টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। শিক্ষার্থী ছিলেন মাত্র ১৫০ জন। এখন দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার। শুরুর ২১ জন থেকে বেড়ে শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১৮।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে গত ১০ বছরে আটটি নতুন বিভাগ ও দুটি নতুন ইনস্টিটিউট হয়েছে। নতুন বিভাগগুলো হলো জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ, চারুকলা, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, মার্কেটিং, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ এবং আইন ও বিচার বিভাগ। ইনস্টিটিউট দুটি হলো—বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি এবং রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএস।

আবাসিক শুধু নামেই

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের (১৯৭০-৭১) গণিতের ছাত্র ছিলেন দেলোয়ার হোসেন। বছর দুই আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যে কক্ষটিতে থাকতাম সেখানে গিয়ে দরজার সামনে দেখি ৮ থেকে ১০ জোড়া জুতা। যে কক্ষে আমরা টেবিল টেনিস খেলতাম সেটিতে গণরুম করে শিক্ষার্থীরা থাকেন।’ তিনি বলেন, ‘এই হলো এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক অবস্থা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকে একটিমাত্র আবাসিক হল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। এখন রয়েছে ১৬টি। তবে শিক্ষার্থী আসনসংখ্যার অনেক বেশি। বর্তমানে ছাত্রীদের জন্য আটটি হলে আসন রয়েছে ৩ হাজার ৯১২টি। থাকেন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ছাত্রী। আর ছাত্রদের আটটি হলে আসন আছে ৪ হাজার ৫৪০টি। থাকেন প্রায় সাত হাজার ছাত্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ছাত্র এক শিক্ষার্থী বলেন, হলের যে কক্ষে দুজনের থাকার কথা, সেখানে তাঁরা আটজন থাকেন। শুধু শোয়ার মতো একটু জায়গা আছে। কক্ষে পড়ার পরিবেশ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগুজে একটি নিয়ম বলছে, হলে আসন থাকা সাপেক্ষে প্রতিবছর শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে। কিন্তু প্রতিবছর প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর কেউ আসন পান না। কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রদের আটটি আবাসিক হলে প্রশাসনের কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অলিখিতভাবে এসব হলে আসন বণ্টনের কাজ করেন ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে বেশ কিছু বিভাগ খোলা হয়, এ জন্য আবাসনসংকট হয়েছে। সংকট নিরসনে নতুন হল তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানে যে অবনতি, জাহাঙ্গীরনগর তার ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষকদের আন্তরিকতা কমেছে। সেই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষার্থীও নেই।
অধ্যাপক আবদুল বায়েস, সাবেক উপাচার্য, জাবি

সেশনজটে সংকট বেড়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের স্নাতক সম্মান কোর্স (বি. ফার্ম) পাঁচ বছরের। বিভাগটির ৪১ ও ৪২তম ব্যাচের (২০১১-১২ এবং ১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি এই কোর্স শেষ করেছেন ৭ বছরে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সব কটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটই এখন বড় ধরনের সেশনজটের মধ্যে ছিল। তা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর কারণ গত কয়েক বছরে বিভিন্ন আন্দোলনে দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা এবং করোনা সংক্রমণ।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের নভেম্বরে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলার পর ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এক মাস পর ক্যাম্পাস খুললেও অনেক বিভাগের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। এরপর করোনার সংক্রমণে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জাহাঙ্গীরনগরও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অবশ্য অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা হচ্ছে।

এদিকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা থাকলেও শিক্ষকদের একটি অংশ ‘উইকেন্ড কোর্স’ নিয়ে ব্যস্ত। ১৮টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে এই বেসরকারি শিক্ষা চলছে।

আন্দোলনে বিদায় ৫ উপাচার্যের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৫০ বছরে দায়িত্ব পালন করেছেন মোট ১৮ জন উপাচার্য। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন উপাচার্যকে আন্দোলনের মুখে বিদায় নিতে হয়।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন হয়। আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় হাজার কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিয়ে উপাচার্যের ‘মধ্যস্থতায়’ ছাত্রলীগকে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্তের দাবি করেছিলেন। একই ঘটনায় ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে সরে যেতে হয়। এখন উন্নয়নকাজ চললেও এ দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টির এখনো সুরাহা হয়নি।

গবেষণায় সামান্য বরাদ্দ

জাহাঙ্গীরনগরে গবেষণায় বরাদ্দ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই কম। ২০২০-২১ অর্থবছরের জাহাঙ্গীরনগরের বাজেটের আকার ছিল প্রায় ২৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে গবেষণায় বরাদ্দ দেখানো হয় ৪ কোটি টাকার কিছু বেশি, যা মোট বাজেটের মাত্র ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরেও হারটি ১ শতাংশের সামান্য কিছু বেশি ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের। এই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচটি অনুষদে মোট ১৮৩টি গবেষণা প্রকল্প অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ৩৪টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউটে ওই শিক্ষাবর্ষে মোট ৩২৮টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

দুই শিক্ষকের সাম্প্রতিক এক অর্জনে গর্বিত শিক্ষার্থীরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষকদের প্রকাশিত একটি জার্নালে গবেষণার ‘সাইটেশনের’ দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগরের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুন এবং প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিলের নাম আসে। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে এ এ মামুনের ৪১৭টি প্রকাশনা রয়েছে। তাঁর গবেষণা থেকে ১২ হাজারেরও বেশি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি প্লাজমা ফিজিকস, কোয়ান্টাম ফিজিকস ও মেডিকেল ফিজিকস নিয়ে গবেষণা করেন।

ইব্রাহিম খলিলের ১১০টি প্রকাশনা রয়েছে। তিনি মূলত মধুর ঔষধি গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা করেন।

র‌্যাঙ্কিংয়ে নেই

শিক্ষার মান নিয়ে বর্তমান প্রশাসনের মূল্যায়ন জানতে চাওয়া হয়েছিল সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেনের কাছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিভাগ ও ইনস্টিটিউট বাড়ানোর ফলে শিক্ষার সম্প্রসারণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র-শিক্ষক দেশে-বিদেশে সমাদৃত, প্রতিষ্ঠিত। তবে স্বীকার করতে হবে, দেশের সার্বিক শিক্ষার মান নিম্নগতি। তার মধ্যেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মান বাড়াতে বা ধরে রাখতে সচেষ্ট আছে। তবে যেভাবে শুরু হয়েছিল, তা হয়তো নেই।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন তাদের ওয়েবসাইটে এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং ২০২০ শীর্ষক তালিকা প্রকাশ করে। এতে এশিয়ার সেরা ৪৮৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জাহাঙ্গীরনগর পায়নি। অবশ্য শিক্ষকেরা এ জন্য ওয়েবসাইটে তথ্যঘাটতির কথা বলছেন। উপাচার্যের দাবি, এটি নিয়ে তিনি খুব একটা চিন্তিত নন।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজের মত হলো, দেশের স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সবখানেই গুণমান কমেছে। সেটা থেকে জাহাঙ্গীরনগরের যাত্রাটিও ভিন্ন কিছু নয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন