বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উত্তর

ক. টিস্যু: একই উৎস থেকে সৃষ্ট একগুচ্ছ অবিচ্ছিন্ন ও সুসংগঠিত কোষ একই প্রকার কাজ করলে, সেই কোষগুচ্ছকে টিস্যু বলা হয়।

খ. বিভাজনে সক্ষম কোষ নিয়ে গঠিত টিস্যুকেই ভাজক টিস্যু বলা হয়। কোষগুলো আয়তাকার বা ডিম্বাকার। কোষপ্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত এবং পাতলা। কোষের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত বড় এবং সাইটোপ্লাজম ঘন। ভাজক কোষে সাধারণত কোনো কোষগহ্বর থাকে না।

গ. চিত্রে প্রদর্শিত P ফ্লোয়েম টিস্যু। A চিহ্নিত অংশটির নাম সিভনল এবং B চিহ্নিত অংশটির নাম সঙ্গীকোষ।

নিচের কারণে A চিহ্নিত অংশ B চিহ্নিত অংশ হতে আলাদা:

১. পরিণত A চিহ্নিত অংশে (সিভনল) নিউক্লিয়াস থাকে না। কিন্তু B চিহ্নিত অংশে (সঙ্গীকোষ) নিউক্লিয়াস থাকে।

২. সিভনলে সাইটোপ্লাজম থাকে না। কিন্তু সঙ্গীকোষে প্রচুর সাইটোপ্লাজম থাকে।

৩. পাতায় তৈরি খাদ্য পরিবহন করাই A চিহ্নিত অংশের (সিভনল) কাজ। পক্ষান্তরে খাদ্য পরিবহনে সিভনলকে সহায়তা করাই B চিহ্নিত অংশের (সঙ্গীকোষ) কাজ।

ঘ. শারীরবৃত্তীয় ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে P টিস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিদের মূল থেকে কাণ্ড ও তার শাখা-প্রশাখা এবং শিরা-উপশিরার মাধ্যমে পাতা পর্যন্ত জটিল টিস্যু অবিচ্ছেদ্যভাবে অবস্থিত। ফ্লোয়েম টিস্যু পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্য দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করার মাধ্যমে উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম চালু রাখে। উদ্ভিদ অঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদান করে। প্রয়োজনে খাদ্য সঞ্চয় করে। আবার অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ফ্লোয়েম টিস্যু গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্থকরী ফসল পাট তথা পাটের আঁশ। পাটের আঁশ হলো সেকেন্ডারি ফ্লোয়েম ফাইবার অর্থাৎ বাস্ট ফাইবার। এই পাট থেকে বিভিন্ন পাটজাত দ্রব্য ও বস্ত্র তৈরি করা হয়, যা রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে শারীরবৃত্তীয় ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে P টিস্যু (ফ্লোয়েম টিস্যু) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, মাস্টার ট্রেইনার
প্রভাষক
রূপনগর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন