বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উত্তর

ক. যেসব কোষ জীবের যৌন জননকাজে অংশগ্রহণ করে, মূল দেহ গঠন করে না তাকে জনন কোষ বলে।

খ. জড় ও শক্ত যে প্রাচীর দিয়ে উদ্ভিদকোষ পরিবেষ্টিত থাকে, তাকে কোষপ্রাচীর বলে। কোষপ্রাচীর প্রধানত সেলুলোজ, হেসিসেলুলোজ, পেক্টোজ, লিগনিন, সুবেরিন প্রভৃতি কার্বোহাইড্রেটজাতীয় উপাদানে গঠিত। কোষের আকৃতি দান, কোষকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা, প্রয়োজনীয় দৃঢ়তা প্রদান এবং কোষের ভেতর ও বাইরের মধ্যে তরল পদার্থের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ কোষপ্রাচীরের কাজ।

গ. S চিহ্নিত অংশটি ক্রোমোজোম। কোষস্থ নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত অনুলিপন ক্ষমতাসম্পন্ন যেসব সুতাকৃতির বংশগতীয় উপাদান নিউটেশন, প্রকরণ প্রভৃতি কাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, তাকে ক্রোমোজোম বলে। একটি আদর্শ ক্রোমোজোম নিচের অংশ নিয়ে গঠিত। যথা:

স্যাটেলাইট, সেকেন্ডারি কুঞ্চন, সেন্টোমিয়ার, ক্রোমোনেসা, বাহু ।

ক্রোমোনেসা: প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে একটি বা দুটি সূত্র দ্বারা গঠিত। এই সূত্রকে ক্রোমোনেসা বলে।

সেন্টোমিয়ার: প্রতিটি ক্রোমোজোমে সাধারণত একটি সেন্টোমিয়ার থাকে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক সেন্টোমিয়ার দেখা যায়।

বাহু: সেন্টোমিয়ারের পাশে ক্রোমোজোমের অংশকেই বাহু বলা হয়।

সেকেন্ডারি কুঞ্চন: ক্রোমোজোমে সেন্টোমিয়ার ব্যতীত অন্য কুঞ্চন থাকলে তাকে সেকেন্ডারি কুঞ্চন বলে।

স্যাটেলাইট: ক্রোমোজোমের প্রান্তের দিকে গোলাকৃতি অঞ্চলকে স্যাটেলাইট বলে।

ঘ. P চিহ্নিত অঙ্গাণুটি মাইটোকন্ড্রিয়া ও r চিহ্নিত অঙ্গাণুটি ক্লোরোপ্লাস্ট। মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট উভয়ই কোষের নানা প্রকার শারীরবৃত্তীয় কার্যের সঙ্গে জড়িত।

যেকোনো জীবের বেঁচে থাকার জন্য শক্তি প্রয়োজন। সূর্য থেকে এই শক্তি জীবজগতে আসে উদ্ভিদের মাধ্যমে। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করে এবং নিজ দেহে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। ক্লোরোপ্লাস্টে অবস্থিত ক্লোরোফিল অণু সালোকসংশ্লেষী বর্ণকণিকা, যার উপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়াটি সংঘটিত হয়। ক্লোরোপ্লাস্টের অনুপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতো না। জীবদের প্রাথমিক খাদ্যভান্ডার অর্থাৎ উদ্ভিদের শর্করাজাতীয় খাদ্যপ্রাপ্তি সম্ভব হতো না। খাদ্য না পেলে প্রাণীদের বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না। সুতরাং উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্ট না থাকলে উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের জীবন বিপন্ন হতো।

খাদ্য গ্রহণের ফলে জীবকোষের মধ্যে জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং উৎপন্ন শক্তি দিয়েই জীবের সব ধরনের ক্রিয়া-বিক্রিয়া পরিচালিত হয়। শক্তি উৎপাদনের এই প্রক্রিয়া ঘটে মাইটোকন্ড্রিয়ায়। শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম ও কো-এনজাইম মাইটোকন্ড্রিয়ায় থাকে। কোষে মাইটোকন্ড্রিয়ার অনুপস্থিতিতে শ্বসন প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে এবং শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে না। তাই মাইটোকন্ড্রিয়ার অনুপস্থিতিতে জীব শক্তিহীন হয়ে পড়বে। অর্থাৎ কোষের শারীরবৃত্তীয় কাজ বন্ধ হয়ে যাব।


মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, মাস্টার ট্রেইনার
প্রভাষক
রূপনগর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন