বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উত্তর

ক. এক জোড়া সমসংস্থ ক্রোমোজোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে যে অংশের বিনিময় ঘটে তাকে ক্রসিংওভার বলে।

খ. মিয়োসিস-১ কোষ বিভাজনে প্রোফেজ-১–এর প্যাকাইটিন উপপর্যায়ের শেষের দিকে হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের মধ্যে বিকর্ষণ দেখা যায়। ফলে একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরতে থাকে। হোমোলোগাস ক্রোমোজোমগুলো সম্পূর্ণরূপে আলাদা হতে পারে না। কারণ নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মাধ্যমে এরা এক বা একাধিক স্থানে যুক্ত থেকে ইংরেজি ‘x’ অক্ষরের ন্যায় অবস্থা সৃষ্টি করে। দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের ‘x’ আকৃতির জোড়াস্থলকে একবচনে কায়াজমা এবং বহুবচনে কায়াজমাটা বলে।

. উদ্দীপকে উল্লিখিত ধাপটি সাইটোসিসের অ্যানাফেজ। কোষ বিভাজনের যে পর্যায়ে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরুমুখী চলতে শুরু করে সে পর্যায়কে অ্যানাফেজ বলে। সেন্ট্রোমিয়ারের পূর্ণ বিভক্তির ফলে প্রতিটি ক্রোমাটিড একটি অপত্য ক্রোমোজোমে পরিণত হয় এবং প্রতিটি অপত্য ক্রোমোজোম এদের নিকটস্থ মেরুর দিকে ধাবিত হয়। অপত্য ক্রোমোজোমের মেরু অভিমুখী চলনে সেন্ট্রোমিয়ারই অগ্রগামী থাকে এবং বাহুদ্বয় অনুগামী হয়। ফলে সেেন্ট্রামিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমগুলো V (মেটাসেট্রিক), L (সাবমেটাসেন্ট্রিক) J (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) বা I (টেলোসেন্ট্রিক)–এর আকার ধারণ করে। ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান মাঝখানে হলে ক্রোমোজোম Vএর মতো দেখায়। ক্রোমোজোমে একটু কিনারের দিকে হলে Lএর মতো দেখায়। ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান প্রান্তের দিকে হলে Jএর মতো দেখায় এবং ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান একেবারে প্রান্তে হলে Iএর মতো দেখায়।

ঘ. উল্লিখিত ধাপটি মাইটোসিসের অ্যানাফেজ। অ্যানাফেজ ধাপের পরবর্তী ধাপটি টেলোফেজ। কোষ বিভাজনের যে পর্যায়ে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো দুই বিপরীত মেরুতে স্থির অবস্থান নেয়, সে পর্যায়কে টেলোফেজ বলে। এ পর্যায়ে ক্রোমোজমগুলোতে আবার জলযোজন ঘটে। ফলে এরা ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হয়। ক্রোমোজোমগুলো ক্রমশ সরু ও লম্বা হতে থাকে। এ পর্যায়ের শেষের দিকে দুই মেরুতে ক্রোমোজোমগুলোর চারদিকে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং স্যাট ক্রোমোজোমের গৌণ কুঞ্চনে নিউক্লিওলাসের পুনরায় আবির্ভাব ঘটে। ফলে দুই মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়। স্পিন্ডল ফাইবারগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। বিষুবীয় অঞ্চলে লাইসোজোমের ন্যায় ফ্রাসমোজোম জমা হয় এবং পরে এরা মিলিত হয়ে প্লাজমালেমা নামক ঝিল্লির সৃষ্টির সৃষ্টি করে। প্লাজমালেমা নামক ঝিল্লির ওপর অন্যান্য দ্রব্য জমা হয়ে এটি কোষপ্লেটে পরিণত হয়। কোষপ্লেটের ওপর হেমিসেলুলোজ ও অন্যান্য দ্রব্য জমা হয়ে কোষপ্রাচীর গঠন করে। কোষপ্রাচীর গঠনের ফলে মাতৃকোষটি পরবর্তী সময়ে দুই ভাগে ভাগ হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। সুতরাং ওপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে উদ্দীপকের পরবর্তী ধাপের (টেলোফেজ) বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে কোষ বিভাজনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন