বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উত্তর

ক. ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষির প্রতিটি ষড়ভূজাকার দর্শন একককে ওমাটিডিয়াম বলে।

খ. ঘাসফড়িংয়ের দুটি পুঞ্জাক্ষির মাঝখানে তিনটি সরলাক্ষি বা ওসেলাস থাকে। প্রতিটি ওসেলাস স্বচ্ছ কিউটিকল নির্মিত লেন্স ও একগুচ্ছ আলোক সংবেদী কোষ নিয়ে গঠিত। প্রতিটি কোষ রঞ্জক পদার্থ সমৃদ্ধ। ওসেলাসের তলদেশে মস্তিষ্কে গমণকারী স্নায়ুতন্ত্র অবস্থিত।

গ. ঘাসফড়িংয়ের স্তিমিত ও উজ্জ্বল আলোয় দর্শনের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:

১. স্তিমিত আলোয় তীর্যক ও উল্লম্ব দুই ধরনের রশ্মি থেকেই প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে উজ্জ্বল আলোয় উল্লম্ব রশ্মি থেকে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।

২. স্তিমিত আলোয় রেটিনাল ও আইরিশ আবরণী সংকুচিত হয়। আর উজ্জ্বল আলোয় রেটিনাল ও আইরিশ আবরণী প্রসারিত হয়।

৩. স্তিমিত আলোয় বস্তুর সম্পূর্ণ অংশের অস্পস্ট ও সামগ্রিক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। অন্যদিকে উজ্জ্বল আলোয় বস্তুর ভিন্ন ভিন্ন অংশের পৃথক ও সুস্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।

default-image

ঘ. অর্পা তার উত্তরে বলেছিল, ঘাসফড়িং উজ্জ্বল আলোয় স্পষ্ট এবং স্তিমিত আলোয় অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। অর্পার উত্তরের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। নিচে এ সম্পর্কে আমার যুক্তি তুলে ধরা হলো:

তীব্র বা উজ্জ্বল আলোয় দর্শন প্রক্রিয়া: উজ্জ্বল আলোয় প্রতিটি ওমাটিডিয়াম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। উজ্জ্বল আলোতে রেটিনাল সিথের কোষের রঞ্জক পদার্থ ক্রিস্টালাইন কোণের নিচের দিকে এমনভাবে ছড়িয়ে যায়, যাতে তার চারদিকে একটি কালো পর্দার সৃষ্টি হয়। ফলে একটি ওমাটিডিয়াম কেবল নিজস্ব কর্ণিয়া থেকে আগত লম্বভাবে প্রতিফলিত রশ্মিই গ্রহণ করতে পারে। তির্যকভাবে আগত পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামের আলোকরশ্মি আইরিশের রঞ্জক পদার্থে শোষিত হয়।

এই ক্রিয়ার ফলে একটি ওমাটিডিয়াম কোনো বস্তুর অংশবিশেষের প্রতিবিম্ব ধারণ করে এবং বস্তুর ভিন্ন ভিন্ন অংশের পৃথক ও সুস্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।

মৃদু বা স্তিমিত আলোয় দর্শন প্রক্রিয়া:

মৃদু আলোতে রেটিনাল সিথের রঞ্জক কণিকা সংকুচিত হয়ে কর্ণিয়ার দিকে ঘনীভূত হয় এবং ক্রিস্টালাইন কোণের অধিকাংশ অনাবৃত হয়ে পড়ে। উল্লম্ব আলোকরশ্মি একটি ওমাটিডিয়ামের কর্ণিয়ার ভেতর প্রবেশ করে তার র​৵াবডোমে পৌঁছালেও তীর্যক আলোক রশ্মি একটি ওমাটিডিয়ামের ক্রিস্টালাইন কোণের অনাবৃত অংশের মধ্য দিয়ে পাশের ওমাটিডিয়ামের র​৵াবডোমে পৌঁছায়।

এই ক্রিয়ার ফলে প্রতিটি র​৵াবডোম তার নিজস্ব কর্ণিয়া থেকে আগত আলোকরশ্মি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামের কর্ণিয়া হতেও আলোকরশ্মি পেয়ে থাকে। পুঞ্জাক্ষির ওপর কোনো বস্তুর বিভিন্ন অংশের প্রতিবিম্বগুলো একে অপরের ওপর পড়ায় সম্পূর্ণ বস্তুটির অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।

default-image

চিত্র: স্তিমিত আলোতে সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব

সুতরাং ওপরের আলোচনা হতে অর্পার উত্তরই

সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়।


মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, প্রভাষক
রূপনগর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন