ইতিমধ্যে শিক্ষাবর্ষের চার মাস চলে গেছে, তাহলে এ পরীক্ষা নিয়ে আপনাদের অবস্থান কী—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত দুই বছর শিখনে ঘাটতি ছিল। আমরা চাইছি এ ঘাটতি পূরণ করে তারপর পরীক্ষার চিন্তাভাবনা করব।’ তার মানে কি বলা যায় চলতি বছর এ পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা নেই? জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আরও পরে বলেন। দু-তিন মাস আগে জানিয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করুক।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমে এ পরীক্ষা (প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী) নেই।

তাহলে যে পাঠপরিকল্পনা করা হয়েছে, সেখানে কি এ পরীক্ষা ধরেই পরিকল্পনা করা হয়েছে, নাকি কেবল ঘাটতি পূরণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘আমাদের লেখাপড়া পরীক্ষাকেন্দ্রিক নয়। শিক্ষাক্রমের শিখনযোগ্যতা অর্জনের জন্য শিশুরা পড়াশোনা করে। গত দুই বছরে বিভিন্নভাবে সেই যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও সশরীরে যেহেতু আসতে পারেনি, তাই শিখনঘাটতি রয়েই গেছে। এ কারণে যে সময়সূচি দেওয়া হয়েছে, সেখানে শিখনঘাটতি পূরণে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা আপাতত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার টেনশন আর দিতে চাই না।’

মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘এমনিতেই ভবিষ্যতে নতুন শিক্ষাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষাই থাকবে না। ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়নে যাবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের বাড়তি টেনশন দিতে চাইছি না। আস্তে আস্তে তারা অভ্যস্ত হয়ে যাবে।’

এ সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, তাহলে তো প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হবে কি না, তা বলে দিলেই হয়। সিদ্ধান্ত না জানানোর কারণেই তো অনেকে টেনশনে আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, কারণ বড়দের ঘাটতি পূরণের প্রক্রিয়া ও ছোটদের ঘাটতি পূরণ এক প্রক্রিয়া নয়। তাই পরীক্ষাকেন্দ্রিক বিষয়কে সামনে এনে, বিতর্ক করে আমরা এই স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহটিকে ধরতে চাই না। তারা পড়াশোনা করবে। যদি পরীক্ষা দিতে হয় দেবে, আর যদি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে দেবে না। তাই এ নিয়ে এত আগে মন্তব্য করা উচিত নয়।’

তাহলে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, পরীক্ষা না বলে মূল্যায়ন হচ্ছে। সেটি নিয়মিত মূল্যায়ন, সাপ্তাহিক মূল্যায়ন হবে, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক এবং বার্ষিক মূল্যায়ন হবে। এ মুহূর্তে ‘পরীক্ষা’ শব্দটি বলতে তাঁরা রাজি নন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের টেনশন দিতে চান না। শিক্ষার্থীরা মূল্যায়িত হবে। পঞ্চম শ্রেণি শেষ করার পর যে যোগ্যতা অর্জন করার কথা, সেই লেখাপড়ার যোগ্যতা যেন অর্জন করে। এখন যদি বলে দেওয়া হয়, তাহলে ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেবে না। পরীক্ষায় কোন প্রশ্ন আসবে, সেই হিসাব-নিকাশ করবে। তাই পাঠ্যসূচিতে যা আছে, সবই যেন শিক্ষার্থীরা পড়ে। সেভাবেই এগোচ্ছেন। যেহেতু মূল্যায়ন করবেন, তাই একটা পর্যায়ে গিয়ে ঘোষণা দেবেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে সচিব আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে অভিভাবকদের জানাতে চাই, এই পরীক্ষাকেন্দ্রিক চিন্তা করা এবং এ নিয়ে অস্থিরতা দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী যে আনন্দঘন পরিবেশে শিশুদের বিকাশের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেই অনুযায়ীই আমরা নতুন শিক্ষাক্রমে যাচ্ছি। সবার পরামর্শ নিয়ে আগে যখন পরীক্ষা হতো (নভেম্বর), তার তিন মাস আগে বলতে পারব।’

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন