বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উত্তর

ক. পৃথিবীতে প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে।

খ. প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার রাজবংশের রাজাদের উপাধি ছিল ‘ফারাও’।

মিশরীয় ‘পের–ও’ শব্দ থেকে ফারাও শব্দের উৎপত্তি। ফারাওরা স্রষ্টার প্রতিনিধি হিসেবে দেশ শাসন করত। নিজেদের তারা সূর্যদেবতার বংশধর মনে করত। ফারাও পদটি ছিল বংশানুক্রমিক। অর্থাৎ ফারাওয়ের ছেলে উত্তরাধিকার সূত্রে ‘ফারাও’ হতো। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় ফারাওরা ছিল অত্যন্ত ক্ষমতাশালী।

গ. উদ্দীপকের জনাব শহিদ মিয়া সিন্ধু সভ্যতার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শস্যাগার তৈরি করেছেন।

সিন্ধু সভ্যতার হরপ্পা নগরীতে যে বিরাট আকারের শস্যাগার পাওয়া গেছে, তা ওই সভ্যতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইমারত। এই শস্যাগারকে ‘কোষাগার’ বলা হতো। ইরাবতী নদীর তীরে ৪ ফুট উঁচু ভিতের ওপর নির্মিত শস্যাগারটিতে দুই সারিতে মোট ৬টি করে ১২টি ভান্ডার ছিল। মর্টিমার হুইলারের মতে, সমগ্র শস্যাগারটিতে ৯০০ বর্গফুট স্থান ছিল। সেখানে সারা বছরের জন্য শস্য মজুত করে রাখা হতো। শস্য যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল।

উদ্দীপকের শহিদ ফসল রাখার জন্য একটি বিরাট শস্যাগার তৈরি করেন। শস্য যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য এখানে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়। ওপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, এটা সিন্ধু সভ্যতার অভিজ্ঞতার আলোকেই গড়া।

ঘ. উদ্দীপকে যে সভ্যতার ইঙ্গিত রয়েছে, তা হচ্ছে সিন্ধু সভ্যতা। ভাস্কর্যশিল্পে উক্ত সভ্যতার যথেষ্ট অবদান রয়েছে।

ভাস্কর্যশিল্পে সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের অতুলনীয় দক্ষতা ছিল। সিন্ধু সভ্যতায় পাওয়া পাথরে খোদিত ভাস্কর্যের সংখ্যা কম হলেও সেগুলোর শৈল্পিক মান ও কারিগরি দক্ষতা ছিল উল্লেখ করার মতো। এ যুগে মোট ১৩টি ভাস্কর্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১টি শ্মশ্রুমণ্ডিত এবং আলখাল্লা ধরনের পোশাক পরা। ধারণা করা হয়, এগুলো কোনো পুরোহিত শাসকের হয়ে থাকবে। চুনাপাথরের তৈরি একটা মূর্তির মাথা পাওয়া গেছে, যাতে পাথর কেটে চমৎকার ঢেউ খেলানো চুল তৈরি করা হয়েছে। এ ভাস্কর্যের ঠোঁট আর কানের গড়ন ছিল নিখুঁত।

মহেঞ্জোদারোতে পাওয়া গেছে নৃত্যরত নারীমূর্তি, যার বাঁ হাতের পুরোটাই ছিল বালা দিয়ে ঢাকা। মূর্তিটির চোখ, নাক আর কোঁকড়ানো চুল সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া মাটির তৈরি ছোট ছোট মানুষ এবং পশুমূর্তিও পাওয়া গেছে। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম হলো বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৫০০ সিল।

আলোচনায় স্পষ্ট যে সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা নগর–পরিকল্পনার পাশাপাশি ভাস্কর্যশিল্পেও অসামান্য দক্ষ ছিল।


মিজান চৌধুরী, শিক্ষক
লালমাটিয়া উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন