জীবন সঙ্গীত

নশ্বর এ পৃথিবীতে সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী

default-image

অপরূপ সুন্দর এ পৃথিবীর সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী। নদীর স্রোতের মতো সময় গড়িয়ে যায়, কারও জন্য অপেক্ষা করে না। ধন-সম্পদ, অর্থ-বিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তি, রূপ-যৌবন—এ সবকিছুই প্রবহমান সময়ের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়। মানুষের আয়ুও শৈবালের ওপর জমে থাকা এক বিন্দু শিশিরের মতো স্বল্পস্থায়ী, যেকোনো মুহূর্তে তা ক্ষয়ে যাবে। তাই সীমিত এ সময় কাজে লাগিয়ে জীবনকে সার্থক করতে হবে। এ জন্য কবি বলেছেন, এ পৃথিবী একটা যুদ্ধক্ষেত্র। সব ধরনের নেতিবাচকতা আমাদের পরম শত্রু। আর সেই শত্রুপক্ষের সঙ্গে প্রাণপণে লড়াই করে আমাদেরকে জয়ী হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ও সুখের অতীত নিয়ে সময় নষ্ট না করা

সমাজে কিছু মানুষ আছে, যারা অতীতের বিভিন্ন সুখস্মৃতি মনে করে আফসোস করে সময় নষ্ট করে। অনেকে আবার সম্ভাব্য আগামীর সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন কল্পনা করে সময় নষ্ট করে। কবি এ উভয় স্বভাবের মানুষের উদ্দেশেই বলেছেন, এসব ভাবনা ভেবে বৃথা সময় নষ্ট করা উচিত নয়। কারণ, অতীত অতীত হয়ে গেছে, আর ভবিষ্যৎ অনাগত সম্ভাব্য। তাই এ দুটোকে নিয়ে ভেবে ভেবে সময় নষ্ট করা যাবে না। বর্তমান সময়কে কাজে লাগাতে হবে। তবেই জীবন সার্থক হবে।

অগ্রজ মহাপুরুষদের অনুসরণ করে নিজের মহৎ কীর্তি স্থাপন

কবি আলোচ্য কবিতায় অগ্রজ স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তিবর্গের পথ অনুসরণ করে আমাদের নিজস্ব মহৎ কীর্তির পথ তৈরি করতে বলেছেন। অগ্রজ মহাজ্ঞানী-মহাজন জীবনসংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে যেভাবে সফলতা পেয়েছেন, তাঁদের জীবনের সে অভিজ্ঞতা আমাদের চলার পথের পাথেয়। কারণ, আমরা সে পথ অনুসরণ করে নিজেদের মহৎ কীর্তি স্থাপন করতে পারি। আর তাহলেই কেবল পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের সেই মহৎ কীর্তিকে অনুসরণ করে জেগে উঠবে। তাই সংসার নামের এ মহাযুদ্ধের সমুদ্রতীরে আমাদের আপন কীর্তির পদাঙ্ক বা ছাপ রেখে যেতে হবে। তাহলেই পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে অমরত্ব লাভ করা যাবে।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন