বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উত্তর

ক. ‘বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন’ প্রবন্ধটির লেখক সেলিনা হোসেন।

খ. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারী আন্দোলনের অগ্রদূত। রোকেয়া যে সময়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সে সময়ে বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীদের শিক্ষার অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। বিশ শতকের শুরুর দিকে তিনি একক প্রচেষ্টায় মেয়েদের শিক্ষার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি মেয়েদের জন্য স্কুল স্থাপন করেন এবং নিজের রচনায় নারীমুক্তির দিকনির্দেশনা দেন। তা ছাড়া ১৯১৫ সালে তিনি ‘আঞ্জুমানে খাওফাতিনে ইসলাম’ নামে একটি মহিলা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে দুস্থ নারীদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করা হতো।

গ. বেগম রোকেয়া নারীশিক্ষার অগ্রদূত হিসেবে বাঙালি মুসলিম সমাজের কাছে শ্রদ্ধেয়। যখন তাঁর জন্ম হয়েছিল, তখন বাঙালি মুসলমান সমাজে শিক্ষার ব্যাপক প্রচলন ছিল না। ফলে মুসলমানরা শিক্ষা-দীক্ষা, চাকরি এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠার দিক থেকে পিছিয়ে ছিল। মেয়েদের অবস্থা ছিল আরও শোচনীয়। পর্দাপ্রথা কঠোরভাবে মানা হতো, তাই মেয়েদের শিক্ষালাভের কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু মেধাবী রোকেয়ার শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ সমাজের এসব নিয়মকানুন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। রক্ষণশীল পরিবারে তাঁর জন্ম হয়েছিল। অন্যদিকে কিশোরী বয়সেই ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তবে বিয়ের পরও তিনি বড় ভাইবোন ও স্বামীর সহযোগিতায় তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যান।

রোকেয়ার এই মানসিকতা উদ্দীপকের নাসরিন সুলতানার ভেতরেও প্রতিফলিত হয়েছে। মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরোতেই বিয়ে হয়ে যায় নাসরিন সুলতানার। সংসারের দায়িত্ব পালন ও ছেলেদের বড় করে তুলতেই পার হয়ে যায় দীর্ঘ ষোলোটি বছর। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও শিক্ষার প্রতি তার অনুরাগে একটুও মরিচা পড়েনি, বরং প্রবল উৎসাহিত হয়ে নিজ ছেলের সঙ্গে একই ক্লাসে পড়াশোনা শুরু করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং পরপর দুটি পাবলিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে সফল হয়ে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেন।

সুতরাং বলা যায়, নাসরিন সুলতানার মধ্যে বেগম রোকেয়ার মানসিকতা সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই বেগম রোকেয়া নারীদের কল্যাণে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিলিয়ে দিয়েছেন। নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলাই ছিল তাঁর একমাত্র ইচ্ছা। নানা বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে সমাজের কঠোর অনুশাসনের পরও নিজেকে শিক্ষিত নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তখন এ দেশের নারীরা শিক্ষা-দীক্ষা ও সব অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। কঠোরভাবে পর্দাপ্রথা মানা হতো বলে মেয়েদের শিক্ষালাভের সুযোগ ছিল না। কিন্তু মেধাবী রোকেয়ার প্রবল আগ্রহ ছিল লেখাপড়ার প্রতি। তাই কিশোরী বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও নিজেকে লেখাপড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে সক্ষম হন। কেবল নিজেই শিক্ষিত হননি, বরং তৎকালীন বাঙালি মুসলমান নারীসমাজকে শিক্ষিত করার জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঘরে ঘরে গিয়ে মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর জন্য মা-বাবার কাছে ছুটে যান। অপর দিকে উদ্দীপকের নাসরিন সুলতানার বিয়ে হয় কৈশোর পার হওয়ার আগেই। এ ক্ষেত্রে তাঁর মা-বাবা তাঁর পড়াশোনার ইচ্ছার প্রতি সম্মান না দেখিয়ে বিয়ে দেন। কিন্তু এই বিয়ে, সন্তান জন্মদান, সন্তান লালন-পালন, মাঝখানে পেরিয়ে যাওয়া দীর্ঘ ষোলো বছর, কোনো কিছুই তাঁর পড়াশোনার প্রবল আগ্রহকে দমাতে পারেনি। সুযোগ পাওয়ার মাত্র তিনি আবারও পড়াশোনা শুরু করেন। ছেলের সঙ্গে একই ক্লাসে ভর্তি হতে দ্বিধা করেননি; বরং ছেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভালো ফলের মাধ্যমে নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছেন।

শেষে বলা যায়, ‘সমাজে নাসরিন সুলতানা বেগম রোকেয়ারই প্রতিনিধি’—উক্তিটি যথার্থ।


আমিনুল ইসলাম, প্রভাষক
উত্তরা মডেল স্কুল, ঢাকা

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন