বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উত্তর

ক. প্রতিদিন সকালবেলা রঙের মেলা দেখা যায়।

খ. কবি আলোর পাখি বলতে সকালবেলা পূর্ব দিকে উদিত লাল সূর্যকে বুঝিয়েছেন। এই আলোর পাখির সঙ্গে নবীন প্রাণের আশার আলো ছড়িয়ে দেওয়া শিশু-কিশোরদের তুলনা করেছেন। প্রকৃতির অপূর্ব জগতের মতো শিশু-কিশোরদেরও রয়েছে একটা নিজস্ব জগৎ। আকাশের নীলের মধ্যে রয়েছে যে উদারতা, ফুলের মধ্যে রয়েছে যে পবিত্রতা, পাখির গানের মধ্যে রয়েছে যে সুর, তার সবই পেয়েছে শিশু-কিশোরেরা। তাই কবি তাদের সকালবেলা পূর্ব আকাশে উদিত লাল সূর্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

গ. অনুচ্ছেদের সঙ্গে ‘মেলা’ কবিতার মূল বক্তব্যের একটা সুন্দর সুস্পষ্ট মিল লক্ষ করা যায়। প্রকৃতির সঙ্গে শিশুদের মিল রয়েছে। সারা পৃথিবীতে শিশুরা তাদের উদারতা ও সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয়। ভালোবাসার ঢেউ বইয়ে দেয় জগতে। দেশকালের সীমানা পেরিয়ে অন্তরের ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলতে চায় সুন্দর জগৎ।

‘মেলা’ কবিতায় বলা হয়েছে, শিশুরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয় নবীন আশার আলো। তারা গড়ে তুলতে চায় সাজানো বাগানের মতো সুন্দর পৃথিবী, যে পৃথিবী হবে সব মানুষের জন্য অভিন্ন ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল। অন্যদিকে উদ্দীপকের প্রধান অতিথি মনে করেন, এরা ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটা স্বপ্নের পৃথিবী গড়ে তুলবে। শিশু-কিশোরেরাই একসময় শান্তির পতাকা ওড়াবে। তাদের অন্তরের স্নেহ-প্রীতির সজীবতা দিয়ে গড়ে তুলবে নতুন জগৎ। পৃথিবীর সব শিশু ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দর একটি পৃথিবী গড়ে তুলবে।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শিশুদের মধ্যে অপার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। কবির মতো তিনিও বলেছেন, আজকের শিশুরা আগামী দিনের সম্ভাবনা।

ঘ. আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই শিশু-কিশোরদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সুন্দর ও সমৃদ্ধ পৃথিবীর স্বপ্ন। ‘মেলা’ কবিতায় নতুন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছেন কবি, যে পৃথিবী কিশোরেরাই গড়ে তুলবে। ঠিক তেমনি উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রধান অতিথিও তাঁর বক্তব্যে শিশুদের সারা বিশ্বের সম্ভাবনা বলে চিহ্নিত করেছেন। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে দেখতে গেলে শিশু-কিশোরদেরই প্রাধান্য দিতে হবে।

কবি শিশু-কিশোরদের নবীন প্রাণের উচ্ছ্বাসে নতুন পৃথিবীর জাগরণ প্রত্যাশা করেছেন। এই পৃথিবী হবে আনন্দময় ও বিভেদহীন। শিশু-কিশোরেরা দেশ-কালের সীমানা ভেঙে অন্তরের ভালোবাসা দিয়ে সাজানো বাগানের মতো সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলবে। আর শিশু-কিশোরদের এই সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার ভিত্তি হলো প্রকৃতি। আকাশের নীলের মধ্যে যে উদারতা রয়েছে, ফুলের মধ্যে যে পবিত্র সুবাস রয়েছে, পাখির গানের মধ্যে যে সুর রয়েছে, তার সবই পেয়েছে শিশু-কিশোরেরা। প্রকৃতির সৌন্দর্যে শিশু-কিশোরেরা সুন্দর মনের মানুষ হয়ে ওঠে এবং সুন্দর মনের স্নেহ-প্রীতির প্রকাশ ঘটিয়ে বিশ্বজগৎকে সুন্দর করে তোলে।

আলোচনা শেষে বলা যায়, কবি যেমন শিশুদের ভবিষ্যৎ পৃথিবী গড়ে তোলার কান্ডারি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, তেমনি উদ্দীপকের প্রধান অতিথিও শিশুদের আগামী দিনের সমৃদ্ধিশালী পৃথিবী গড়ে তোলার কর্ণধার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।’

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন