মো. মাহবুবুর রহমান, সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
বাংলা ১ম পত্রের ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব।

# নিচের অনুচ্ছেদ পড়ে এবং প্রশ্নের উত্তর দাও:
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ। এ দেশের রয়েছে হাজার বছরের ঐতিহ্য। রয়েছে রক্তাক্ত ইতিহাস। এ ইতিহাস স্বাধীনতার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। তবে আমাদের এই স্বাধীনতা সহজে আসেনি। দীর্ঘ নয় মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে, ৩০ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। তাই বাংলাদেশের মানুষের জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন:
ক. ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতাটি কবির কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
খ. ‘তোমার কী মুরতি আজি দেখিরে’—এ চরণ দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকে ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতায় প্রকাশিত কোন রূপটির প্রতিফলন ঘটেছে?
ঘ. ‘উদ্দীপক’ এবং ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতায় বাঙালি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রকাশ পেয়েছে —ব্যাখ্যা করো।
উত্তর-ক.
‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতাটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতবিতান’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

উত্তর-খ.
প্রকৃতির বিচিত্র রূপ দেখে কবি অভিভূত। বাংলা মায়ের অপূর্ব রূপ। আর তার প্রতিটি ঘরের দরজা সোনায় মোড়ানো। সবুজ-শ্যামল বাংলার এই রূপ টিকিয়ে রাখতে মমতাময়ী দেশমাতা আবার রুদ্র ও ভয়ংকর হয়ে ওঠে কখনো কখনো। তাঁর সন্তানদের দেন সংগ্রামের শিক্ষা। অর্থাত্ ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতায় সংগ্রামী ও মমতাময়ী এ দুটি হূদয়ের যুগপত্ প্রকাশ পেয়েছে। কবি এ চরণ দ্বারা তা-ই বোঝাতে চেয়েছেন।

উত্তর-গ.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলাদেশের হূদয়’ একটি দেশপ্রেমমূলক কবিতা। কবিতার শুরুতে কবি সুজলা, সুফলা ও সমৃদ্ধশালী একটি বাংলাদেশের ছবি এঁকেছেন। পরবর্তীকালে এই বাংলা মায়ের সংগ্রামী সন্তানদের সংগ্রামের কথা বলেছেন। যারা প্রতিনিয়ত প্রতিকূল পরিবেশকে মোকাবিলা করেই সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে। উদ্দীপকে প্রকাশিত বক্তব্যেও দেশমাতৃকার জন্য বাঙালিদের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। অর্থাত্ ‘উদ্দীপক’ এবং ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতার বক্তব্য একে অপরের পরিপূরক।
দেশমাতৃকার সন্তানদের কাছে দেশটি যেমন অনাবিল সুখ-শান্তির আধার, তেমনি এই সুখ-শান্তির সময় টিকিয়ে রাখার জন্য এই সন্তানদের কখনো কখনো জীবনসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়েছে। রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করে প্রায় ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া গেছে এই স্বাধীন ছোট্ট দেশটি। এই স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। অত্যাচার আর শোষণের কালো হাত গুঁড়িয়ে দেওয়ার শক্তি ও প্রেরণা এসেছে এই স্বাধীনতার সংগ্রাম থেকে। অন্যদিকে ঋতুবৈচিত্র্যের ফলে আমাদের দেশ নানা রূপ ধারণ করে। যেমন গ্রীষ্মে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বর্ষায় বন্যা, অতিবৃষ্টি; শীতকালে অতিরিক্ত শীত ইত্যাদি। কবি তাঁর এ কবিতায় বলেছেন, এসব প্রাকৃতিক বৈরী পরিবেশের বিরুদ্ধে ও মানুষকে সর্বদা সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
শেষে বলা যায়, কবিতায় এবং উদ্দীপকে স্বাধীন বাংলার সংগ্রামী মানুষের সংগ্রামী জীবনগাথা প্রকাশ পেয়েছে।

উত্তর-ঘ.
প্রতিটি মানুষের কাছেই তার জন্মভূমি অতুলনীয়। জন্মভূমির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মা, মাটি, প্রকৃতির মাধুর্যময় পরিবেশ আর চেনা মানুষ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বাংলাদেশের হূদয়’ নামক কবিতায় দেশ জননীর পরিপূর্ণ ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেছেন এই দেশমাতৃকা তাঁর সন্তানদের বরাবরই সংগ্রামের শিক্ষা দেন। দেশমাতৃকা একই সঙ্গে হয়ে ওঠেন সংগ্রামী ও মমতাময়ী। অন্যদিকে উদ্দীপকেও প্রকাশ পেয়েছে বাংলাদেশের রক্তাক্ত ইতিহাসের কথা, দীর্ঘ সংগ্রামের কথা।
দীর্ঘকালের স্বাধীনতার সংগ্রামে সোনার বরণ—বাংলা মায়ের মাঠ, পথ, ঘাট, ঘরের আঙিনা বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। বাইরের শক্তি যখন আমাদের শাসন ও শোষণ করেছে, তখন অনাদরে-অবহেলায় বাংলা মায়ের দুঃখের সীমা ছিল না। কিন্তু তাঁর মমতা ও প্রেরণায় বাংলা মায়ের সন্তানেরা সংগ্রাম করেছে হাজার বছর ধরে। বাঙালিরা দেশমাতার অধিকার রক্ষায় রাজপথে রক্ত দিয়েছে। বিদেশি শক্তির হাত থেকে বাংলা মাকে রক্ষা করতে জীবন দিয়েছে ৩০ লাখ সন্তান। শত অত্যাচারে, নিপীড়নেও পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে পারেনি। অদম্য সাহস ও দেশপ্রেম নিয়ে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে বাংলার দামাল ছেলেরা। ‘বাংলাদেশের হূদয়’ এবং উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই বাঙালি জাতির এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তাক্ত ইতিহাস সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপক এবং ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতায় বাঙালি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রকাশ পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন