সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের বাংলা ১ম পত্রের ‘বলাই’ গল্প থেকে একটি সৃজনশীল নমুনা প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব।
রাজিব বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে দেখল আমগাছের অনেক ছোট ছোট চারা। এগুলোর দুয়েকটি তার বন্ধুরা নষ্ট করে ফেলেছে। রাজিব মনে মনে ব্যথিত হয়। সে অবশিষ্ট চারাগাছগুলোকে পরম যত্নের সঙ্গে বাড়ির একটি পরিত্যক্ত জায়গায় রোপণ করে প্রতিদিন সে চারাগাছগুলোর গোড়ায় পানি দেয়। গাছগুলো দিনে দিনে বেড়ে উঠছে, যা দেখে রাজিবের মন অজানা এক আনন্দে ভরে ওঠে।
প্রশ্ন: ক. বলাই গল্পটির লেখক কে?
খ. বলাইকে তার বাবা বিলেতে নিয়ে গেলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের রাজিব চরিত্রটির সঙ্গে ‘বলাই’ গল্পের কোন চরিত্রটির সাদৃশ্য রয়েছে—ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘রাজিবের মন অজানা এক আনন্দে ভরে ওঠে’— উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর-ক: বলাই গল্পটির লেখক নোবেল বিজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
উত্তর-খ: ‘বলাই’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মা-হারা বলাই বেড়ে উঠেছে কাকা-কাকির আদরে। কারণ, বলাইয়ের বাবা ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করতে বিলেতে গিয়েছিলেন। তিনি বিলেত থেকে ফিরে বিলেতি কায়দায় শিক্ষা দেওয়ার জন্য বলাইকে প্রথমে সিমলা নিয়ে গেলেন। তারপর সেখান থেকে নিয়ে গেলেন বিলেতে।
উত্তর-গ: উদ্দীপকের রাজিবের সঙ্গে বলাইয়ের অনেক মিল। বলাইয়ের স্বভাবের মধ্যে যেমন গাছপালার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে, তেমনি রাজিবের মধ্যেও গাছপালার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা রয়েছে। বৃক্ষ-লতাপাতা-ঘাস ইত্যাদির প্রতি বলাইয়ের অপরিসীম দরদ। কেউ গাছ থেকে ফুল তোলে—এটি বলাই সহ্য করতে পারে না। তার সমবয়সী ছেলেগুলো যখন গাছে ঢিল ছোড়ে, গাছ থেকে পাতা ছেঁড়ে, তখন বলাই সেখান থেকে ব্যথিত মনে চলে যায়। তখন তার কাঁদতে ইচ্ছে করে। সে খুবই শান্ত ছেলে। প্রকৃতির সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই গভীর। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানই তার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। গাছের কান্না, নদীর আর্তনাদ সবই সে শুনতে পায়। প্রকৃতির আর্তনাদ বলাইয়ের বুকেও বেজে ওঠে। আবার প্রকৃতির আনন্দ তার মনে ছড়ায় আনন্দ-হিল্লোল। ঘাসিয়াড়াকে ঘাস কাটতে বারণ করার জন্য কাকিমাকে অনুরোধ করে। আবার রাস্তার মাঝখানে বেড়ে ওঠা শিমুলগাছটাকে উপড়ানোর কথাও সে ভাবতে পারে না। ঘাস, লতাপাতার শত্রুদের সে সহ্য করতে পারে না। প্রকৃতির সঙ্গে তার সম্পর্ক বন্ধুর মতো। তেমনি উদ্দীপকের রাজিব যখন দেখতে পায় তার খেলার সাথিরা কতগুলো আমগাছের চারা নষ্ট করে ফেলেছে, তখন সে মনে কষ্ট পায়। অবশিষ্ট চারাগুলোকে সে অন্যত্র নিরাপদ জায়গায় রোপণ করে। এদের যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। আর যখন সে নিবিড়ভাবে লক্ষ করে যে চারাগুলো দিনে দিনে বড় হয়ে উঠছে, তখন তার মন আনন্দে নেচে ওঠে। পরিশেষে বলা যায়, ‘বলাই’ গল্পের বলাই এবং উদ্দীপকের রাজিব উভয়েই প্রকৃতিপ্রেমী এবং বৃক্ষপূজারি।
উত্তর-ঘ: উদ্দীপকে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের কীভাবে একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গাছ, লতাপাতার সঙ্গে রাজিবের গভীর মিতালি। যেমনি আমরা ‘বলাই’ গল্পে বলাইয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ করি। প্রকৃতির রং বলাইয়ের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সে প্রকৃতির ভাষা বুঝতে পারে। প্রকৃতির আর্তনাদ তার হৃদয়েও বেজে ওঠে আর কান্না হয়ে ঝরে পড়ে সে ব্যথা। রাজিবও যখন দেখতে পেল যে তার খেলার সাথিরা আমগাছের চারাগুলো নষ্ট করে ফেলেছে, তখন তার অনেক মন খারাপ হলো। অবশিষ্ট চারাগুলো রক্ষা করার জন্য সে সেগুলোকে নিরাপদ স্থানে রোপণ করে। বাড়ন্ত গাছগুলো তাকে মুগ্ধ করে। সে পুলকিত মনে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই চারাগাছগুলোতে পানি দেয়। প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে উদ্দীপকের রাজিব চরিত্রের মাঝে। প্রকৃতির সৌন্দর্য তাকে আনন্দিত করে। গাছের কষ্টে তার মন কেঁদে ওঠে। তাই সে আমগাছের অপরিণত চারাগুলোকে রক্ষা করার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রকৃতিকে অবলম্বন করে মানুষের বসবাস। প্রকৃতি মানুষের পরম বন্ধু। প্রকৃতি ও মানুষ এক সত্তার অধিকারী। বলাইয়ের মতো প্রকৃতির সঙ্গে রাজিবের গভীর সখ্যের বিষয়টি উদ্ধৃতাংশে প্রকাশ পেয়েছে।
সহকারী শিক্ষক
ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন