default-image

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বাংলা ১ম পত্রের ‘লাল ঘোড়া’ নামের গল্প থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব।
# নিচের অনুচ্ছেদ পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
তপুর পোষা কুকুরটির নাম টমি। সে সারা দিন তপুর সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়। তপুর যেকোনো বিপদে সে অতন্দ্রপ্রহরীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। একদিন রাতে তপুদের বাড়িতে কয়েকটি চোর আসে। টমি চোরদের পিছু নেয়। তার চিৎকারে সারা বাড়ির মানুষ জেগে ওঠে। এভাবেই টমি তাদের চোরের হাত থেকে রক্ষা করে।
প্রশ্ন:
ক. ‘লাল ঘোড়া’ গল্পের কিশোরটির বয়স কত?
খ. কিশোর ছেলেটি শিয়ালের কবল থেকে কীভাবে বেঁচে গেল?
গ. উদ্দীপকের টমির সঙ্গে ‘লাল ঘোড়া’ গল্পের লালুর সাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. ‘তপুর যেকোনো বিপদে সে অতন্দ্রপ্রহরীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে।’—লাল ঘোড়া গল্পের আলোকে বর্ণনা করো।

উত্তর-ক.
লাল ঘোড়া গল্পের কিশোরটির বয়স ১৩ বছর।
উত্তর-খ.
লাল ঘোড়া গল্পের লালু নামের ঘোড়াটি একসময় অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। ঘোড়াটি কোনো বাধা না মেনে ছুটে বেরিয়ে যায়। তারপর সে আবার ফিরে আসে। কিশোরটি তাকে দেখতে পেয়ে তার পিঠে চড়ে বসে এবং সে ছুটতে থাকে।
একসময় কিশোরটি ছুটন্ত ঘোড়ার পিঠ থেকে একটি কবরস্থানে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারায়। জ্ঞান ফিরে এলে দেখতে পায় সে একটি গর্তে পড়ে আছে এবং একদল শিয়াল তার দিকে এগিয়ে আসছে। তখন লালু তাকে বাঁচাতে শিয়ালগুলোর সঙ্গে লড়াই শুরু করে। লালু সজোরে পা ছুড়ে এবং বিকট শব্দ করে শিয়ালদের থেকে কিশোর ছেলেটিকে রক্ষা করে।

উত্তর-গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত তপুর পোষা কুকুর টমির সঙ্গে লাল ঘোড়া গল্পের লালু নামের ঘোড়াটির আচরণের বেশ মিল রয়েছে। উদ্দীপকের টমি নামের কুকুরটি সারাক্ষণ তপুকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে। তপুর যেকোনো বিপদে সে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।
নিজের জীবন বাজি রেখেও তার জীবনকে নিরাপদ রাখতে সে বদ্ধপরিকর। শুধু তাই নয়, সে রাতে মনিবের বাড়িকে চোরমুক্ত রাখতেও ভূমিকা রাখে। কোনো অযাচিত ব্যক্তির উপস্থিতিতে ঘেউ ঘেউ করে সবাইকে সতর্ক করে দেয়।
অন্যদিকে লাল ঘোড়া গল্পের লালু একসময় অস্বাভাবিক আচরণ করে এবং কোনো বাধা না মেনে ছুটে বেরিয়ে যায়। তারপর একাই ফিরে আসে। গল্পের বক্তা কিশোরটি তাকে দেখতে পেয়ে তার পিঠে চড়ে বসে। ঘোড়াটি ছুটতে শুরু করে।
একসময় ছুটন্ত ঘোড়ার পিঠ থেকে কিশোর ছেলেটি পড়ে যায়। খুব ব্যথা পেয়ে সে জ্ঞান হারায়। জ্ঞান ফেরার পর সে নিজেকে একটি গর্তে আবিষ্কার করে। আসলে জায়গাটি ছিল একটি কবরস্থান। চারদিক থেকে হিংস্র শিয়ালগুলো কিশোর ছেলেটির দিকে এগিয়ে আসছিল। লালু তখন বিদ্যুৎবেগে পা ছোড়ে এবং তীক্ষ্ণ চিঁ-হিঁ-হিঁ শব্দ করে শিয়ালগুলোকে ছেলেটির পাশে ভিড়তে দেয়নি। এভাবে লালু কিশোর ছেলেটিকে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা করে।
এর থেকে বলা যায়, লালু ও টমি এ দুটি প্রাণীই তাদের মনিবদের প্রতি তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রমাণ রেখেছে। উল্লিখিত বৈশিষ্টে্যর আলোকে তাদের চরিত্রকে সাদৃশ্যপূর্ণ বলা যায়।

উত্তর-ঘ.
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘লাল ঘোড়া’ গল্পে লালুর আচরণের মাধ্যমে মানুষের প্রতি পশুর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। টমি তপুর পোষা কুকুর। এটি তপুর যেকোনো বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
রাতে চোরের উপস্থিতি বুঝতে পেরে টমি চিৎকার করতে থাকে। ততক্ষণে সবাই জেগে যায়। নিশ্চিত চুরির হাত থেকে রক্ষা পেল তপুদের মূল্যবান সম্পদ। অন্যদিকে লাল ঘোড়া গল্পের লালু ছিল কিশোর ছেলেটির পরিবারের সদস্যস্বরূপ।
ঘটনাক্রমে লালু কিশোর ছেলেটিকে নিয়ে এক কবরস্থানে অবস্থান করে। সেখানে ছেলেটি ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। ওই কবরস্থানে ছিল হিংস্র শিয়ালের বাসস্থান। ছেলেটি যখন অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল, তখন ওই শিয়ালগুলো তাকে আক্রমণের চেষ্টা করে। কিন্তু লালু তার পা ছোড়ে এবং চিঁ-হিঁ-হিঁ শব্দ করে ওই শিয়ালগুলোকে তাড়িয়ে দেয়। সারা রাত সে শিয়ালগুলোর সঙ্গে লড়াই করে।
সুতরাং গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, ঠিকমতো পোষ মানালে পশুপাখিরা স্বাভাবিকভাবেই খুব প্রভুভক্ত হয়ে ওঠে। সুযোগ পেলেই তারা মানুষের প্রতি তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রমাণ দেয়। গল্পের লালু তেমনই একটি ঘোড়া, সে কিশোর ছেলেটির প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রমাণ দেয়। অর্থাৎ গল্পে এবং উদ্দীপকে প্রাণী জগতের সঙ্গে মানুষের একটি নিবিড় ভালোবাসার সম্পর্ক ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক কলেজ, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন