বাংলা

পাটগাছ কেটে পানিতে কিছুদিন ভিজিয়ে রাখা হয়। পাটের আঁশ পচে নরম হলে তা ছাড়ানো হয়। এরপর আঁশ ধুয়ে রোদে শুকানো হয়। সেই আঁশকে পাট বলা হয়। ছবি: হাসান রাজা
পাটগাছ কেটে পানিতে কিছুদিন ভিজিয়ে রাখা হয়। পাটের আঁশ পচে নরম হলে তা ছাড়ানো হয়। এরপর আঁশ ধুয়ে রোদে শুকানো হয়। সেই আঁশকে পাট বলা হয়। ছবি: হাসান রাজা

* রচনা লেখো:
যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন
প্রিয় পরীক্ষার্থী, বাংলা বিষয়ের ১৫ নম্বর প্রশ্ন থাকবে রচনা লেখার ওপর। প্রশ্নটি হবে যোগ্যতাভিত্তিক। রচনা থাকবে চারটি; এর মধ্যে একটির উত্তর লিখতে হবে। রচনায় ইঙ্গিত দেওয়া থাকবে। অনুশীলনের সুবিধার্থে আজ দুটি রচনার নমুনা দেওয়া হলো।

পাট/বাংলাদেশের সোনালি আঁশ
[ভূমিকা-আকৃতি-উত্পত্তিস্থান-প্রকারভেদ-চাষপ্রণালি-রপ্তানি-পাটকল-ব্যবহার-উপসংসহার]
ভূমিকা: বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের মধ্যে পাট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাট একটি অর্থকরী ফসল। দেশে-বিদেশে পাটের অনেক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ পাট রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। তাই পাটকে সোনালি আঁশ বলা হয়।
আকৃতি: পাটগাছ একটি তৃণজাতীয় উদ্ভিদ। এটি দেখতে লম্বা কাঠির মতো। এগুলো প্রায় পাঁচ থেকে দশ হাত পর্যন্ত লম্বা হয়।
উত্পত্তিস্থান: বাংলাদেশের জলবায়ু ও মাটি পাট চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে ভালো পাট জন্মে। কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর ও নওগাঁ জেলায় পাটের উত্পাদন বেশি হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, মিসর ও আমেরিকায় পাটের চাষ হয়।
প্রকারভেদ: দেশি, তোষা ও মেসতা—এই তিন ধরনের পাট আমাদের দেশে হয়ে থাকে। দেশি পাটের আঁশ সাদা, তোষা পাটের আঁশ লালচে এবং মেসতা পাটের আঁশ অপেক্ষাকৃত মোটা হয়ে থাকে।
চাষপ্রণালি: পাট চাষের জন্য উষ্ণ জলবায়ু ও প্রচুর বৃষ্টিপাত দরকার হয়। ফাল্গুন ও চৈত্র মাস পাট বোনার উপযুক্ত সময়। শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে পাটগাছ কেটে ছোট ছোট আঁটি বাঁধা হয়। আঁটিগুলো পানিতে কিছুদিন ভিজিয়ে রাখা হয়। পাটের আঁশ পচে নরম হলে তা ছাড়ানো হয়। এরপর আঁশ ধুয়ে রোদে শুকানো হয়। সেই আঁশকে পাট বলা হয় এবং পাটের ভেতরের কাঠিকে পাটকাঠি বলে।
রপ্তানি: বাংলাদেশের পাটই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো। পাট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। ইউরোপ ও আমেরিকায় প্রচুর পাট রপ্তানি করা হয়।
পাটকল: আমাদের পাটকলগুলো প্রধানত নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, খুলনার দৌলতপুরসহ নদীতীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
ব্যবহার: পাট অনেক প্রয়োজনীয় বস্তু। পাট থেকে রশি, সুতা, বস্তা, কাপড়, কার্পেট ইত্যাদি তৈরি করা হয়। পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে এবং বেড়া ও কাগজ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। পাট দ্বারা কৃত্রিম রেয়ন তৈরি হয়।
উপসংহার: বাংলাদেশে পাট অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি ফসল। সম্প্রতি পাটের জিনরহস্য আবিষ্কারের ফলে পাট নিয়ে সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে। কৃষকেরা যাতে পাটের সঠিক মূল্য পেতে পারেন, সেদিকে সরকারের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

কাগজ
[ভূমিকা-উদ্ভাবন-প্রস্তুতপ্রণালি-
প্রকারভেদ-প্রপ্তিস্থান-ব্যবহার-উপসংহার]
ভূমিকা: আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে কাগজ অন্যতম। জ্ঞানের বিকাশ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কাগজের অবদান অতুলনীয়। কাগজ আমাদের শিক্ষা ও সভ্যতার বাহন।
উদ্ভাবন: প্রায় দুই হাজার বছর আগে চীন দেশে প্রথম কাগজ উদ্ভাবন হয় বলে অনেকের ধারণা। মিসরের প্যাপিরাস নামক একপ্রকার গাছের পাতা দিয়ে কাগজ তৈরি হতো। ১৮৭৩ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম কাগজের কল তৈরি হয়।
উপকরণ: পাটকাঠি, খড়, বাঁশ, তুলা, ঘাস প্রভৃতি দিয়ে কাগজ তৈরি করা হয়। বর্তমানে ফার নামক কাঠ দিয়েও কাগজ তৈরি হচ্ছে।
প্রস্তুতপ্রণালি: কাগজ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো যন্ত্রের সাহায্যে চূর্ণ করে নিতে হয়। এর সঙ্গে আঠালো একরকম জিনিস মেখে প্রস্তুত করা হয় কাগজের মণ্ড। এই মণ্ডকে শোধন করে ভেতরের পানি বের করে নেওয়া হয়। পরিণত মণ্ডের সঙ্গে নানা রকম রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে আধুনিক কাগজ তৈরি হয়।
প্রকারভেদ: কাগজ নানা আকারের ও রঙের হয়ে থাকে। ফুলস্ক্যাপ, ডাবল ব্রাউন, রয়েল, ডিমাই প্রভৃতি আকারের কাগজ বই ছাপার কাজে ব্যবহূত হয়ে থাকে। ‘নিউজপ্রিন্ট’ কাগজ মূলত সংবাদপত্র ছাপার কাজে ব্যবহার করা হয়।
প্রাপ্তিস্থান: পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কাগজের কল আছে। বাংলাদেশের কাগজের কলগুলোর মধ্যে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল, চন্দ্রঘোনা পেপার মিল, পাকশী পেপার মিল উল্লেখযোগ্য।
ব্যবহার: দৈনন্দিন জীবনে কাগজ একটি আবশ্যকীয় উপাদান। কাগজ প্রধানত বইখাতা, পত্রিকা, প্যাকেট ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহূত হয়। কাগজ আছে বলেই আমরা ঘরে বসে বিশ্বের নানা খবর সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পারছি।
উপসংহার: কাগজ মানবসভ্যতার ধারক ও বাহক। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাগজের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। মানুষের সভ্যতা যত দিন থাকবে, তত দিন কাগজও থাকবে।
শিক্ষক
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা