বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে। আর এই দুই শিক্ষার্থী হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরের গ্রিন পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তবে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ঘটনা জেনে শনিবার রাতেই দুই পরীক্ষার্থীকে বিজ্ঞান বিভাগের নিবন্ধন কার্ড দেয়। আর রোববার পরীক্ষা শুরুর আগ মুহূর্তে দেড় ঘণ্টা আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে তাদের হাতে প্রবেশপত্র তুলে দেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। তাদের কেন্দ্র ছিল চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকার সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

বোর্ড সূত্র জানায়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চাপে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল দুই পরীক্ষার্থী। তবে অভিভাবকেরা পরিচিতজনের মাধ্যমে বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শনিবার সন্ধ্যায়। শিক্ষার্থীদের এই সমস্যার কথা জেনে সন্ধ্যার পরপরই বোর্ডে চলে আসেন কর্মকর্তারা। পরে ওই দিন রাতেই শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন কার্ড ইস্যু করা হয়।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ প্রথম আলোকে বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে বিদ্যালয়ের ভুল। বোর্ড থেকে ছয় মাস আগে নিবন্ধন কার্ড দেওয়া হয়েছিল। আর প্রবেশপত্র দেওয়া হয় ৩ নভেম্বর থেকে। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল আড়াল করতে শেষ মুহূর্তে দুই শিক্ষার্থীকে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড দেয়। অথচ ছেলে দুটি পড়েছে বিজ্ঞান বিভাগে। তাদের পরীক্ষা দিতে হতো ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে।

দুই পরীক্ষার্থীর মানবিক দিক বিবেচনা করে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রদীপ চক্রবর্তীর অনুমতি নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় রাতেই বিজ্ঞান শাখার নিবন্ধন কার্ড দেওয়া হয় বলে জানান নারায়ণ চন্দ্র নাথ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগে বোর্ড কর্মকর্তারাই নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীর হাতে প্রবেশপত্র তুলে দেন। দুই পরীক্ষার্থীতে শেষ পর্যন্ত স্বস্তিতে পরীক্ষা দিয়েছে বলে খবর নিয়েছেন। আর এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি সমাধান হয়ে গেছে।’

যোগাযোগ করা হলে তানজীম সরকারের মা নুপুর আক্তার ও ইব্রাহিমের বাবা মো. ইউসুফ বলেন, ছেলেরা সারা বছর বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জেনেছে তাদের নিবন্ধন করা হয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থী হিসেবে।

প্রবেশপত্রও এসেছে একই বিভাগের। এতে তাঁরা সবাই চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। পরে বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার চেষ্টায় তাঁদের সন্তানেরা বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিয়েছে। তবে পরীক্ষার আগের রাতে যেখানে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা সেখানে তাদের বোর্ডে ছুটতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাঁদের দুশ্চিন্তার অবসান হয়েছে, এটাই বড় স্বস্তি।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন