উত্তর

ক. প্রাতিষ্ঠানিক কোনো নিয়মনীতির ওপর ভিত্তি না করে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে যে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তা থেকে সৃষ্ট নেতৃত্বকে অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্ব বলে।

খ. সাধারণভাবে কর্মীদের কাছ থেকে কাজ আদায়ের লক্ষ্যে ব্যবস্থাপক কর্মীদের যে আদেশ ও নির্দেশ প্রদান করেন, তাকে নির্দেশনা বলে।

হৃৎপিণ্ড মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল রাখতে সাহায্য করে। এটি কাজ না করলে মানুষ অচল হয়ে পড়ে। ঠিক তেমনিভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন যেসব পরিকল্পনা ও নিয়মনীতি প্রণয়ন করে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য কর্মীদের নির্দেশনা প্রদান করা প্রয়োজন। নির্দেশনা প্রদান করা না হলে প্রশাসনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ জন্যই নির্দেশনাকে প্রশাসনের হৃৎপিণ্ড বলা হয়।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আরাফ তাঁর প্রতিষ্ঠানে মুক্ত বা লাগামহীন নেতৃত্ব প্রয়োগ করেন।

যে ধরনের নেতৃত্বে কর্মীদের কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয় এবং নেতা তাঁদের ওপর কোনো ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব আরোপ করেন না, তাকে লাগামহীন নেতৃত্ব বলে। কর্মীরা কী কাজ করবেন, কীভাবে করবেন, সে সিদ্ধান্ত নেতা গ্রহণ করেন না, তা কর্মীদের ওপর ছেড়ে দেন। তিনি অনুসারীদের দ্বারা গৃহীত সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন মাত্র। এরূপ নেতৃত্বের কার্যত কোনো সুবিধা নেই। প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ সময়ই বিশৃঙ্খলা বিরাজ করে এবং অনুসারীরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন।

উদ্দীপকে জনাব আরাফের প্রতিষ্ঠানের নেত্বৃত্বের ধরন হলো লাগামহীন নেতৃত্ব। উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আরাফ সব সময় কর্মচারীরা যা বলেন বা যেভাবে পরামর্শ দেন ও কাজ করতে চান, তিনি সেভাবে তাঁদের কাজ করতে দেন। সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি নির্লিপ্ত থাকেন। এর ফলে কর্মীরা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করেন এবং স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন। এতে তাঁর প্রতিষ্ঠান সব সময় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব শফিকুল ইসলামের প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বিদ্যমান।

যে ধরনের নেতৃত্বে নেতা অনুসারীর সামনে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে। এরূপ নেতৃত্বে কর্মীদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আরাফের চেয়ে জনাব শফিকুল ইসলামের নেতৃত্ব একটি উত্তম নেতৃত্ব। জনাব শফিকুল ইসলামের প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব প্রয়োগের ফলে অধীনস্থ কর্মীরা তা বাস্তবায়নের আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং সর্বাধিক সহযোগিতা দান করেন। যেহেতু এই ধরনের নেতৃত্বে নেতা অধস্তনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন, সে জন্য অধস্তনরা প্রতিষ্ঠানে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অংশ মনে করেন। এর ফলে তাঁদের মনোবল উঁচু হয় এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে জনাব আরাফ তাঁর প্রতিষ্ঠানে লাগামহীন নেতৃত্ব প্রয়োগ করেন, যেখানে তিনি কর্মীদের ওপর দায়িত্ব দিয়ে নিজে কর্মবিমুখ ও দূরে থাকেন। নেতা–কর্মীদের প্রতি সুনির্দিষ্টভাবে আদেশ–নির্দেশ দেন না, বা কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। এ ক্ষেত্রে কর্মীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজকর্ম করেন। এরূপ নেতৃত্বে নেতা শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়ে নিজে দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন। লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা থাকে না। ফলে এরূপ নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানে প্রায় সর্বদাই বিশৃঙ্খলা বিরাজ করে এবং কর্মীরা অনেক সময় স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন। যেহেতু এরূপ নেতৃত্বে অধস্তনরা প্রয়োজনের সময় নেতার সংস্পর্শ পান না, সেইজন্য প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানের উপায়ও খুঁজে পান না।

সুতরাং আলোচনা বলা যায়, জনাব শফিকুল ইসলামের নেতৃত্ব জনাব আরাফের নেতৃত্বের চেয়ে উত্তম বলে আমি মনে করি।