বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
গুটিকয় কলেজে চাপ বেশি হয়, কারণ সেখানে পড়াশোনা ভালো হয়। তাহলে এই সমস্যার সমাধান করতে হলে বিদ্যমান অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের বিকল্প নেই।
অধ্যাপক এস এস ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক মহাপরিচালক, মাউশি

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় এবার মোট পাস করেছে ২০ লাখ ৯৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। আর ১১টি বোর্ড মিলিয়ে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জন। মাদ্রাসার দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ভোকেশনাল পাস করা শিক্ষার্থীদের বিরাট অংশও কলেজে ভর্তি হয়। করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে ভয় ও শঙ্কার মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে এত ভালো ফল করায় স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু এই উচ্ছ্বাসের রেশ কাটতে না কাটতেই ভর্তির চিন্তায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। কারণ, এক সপ্তাহ পর ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে একাদশ শ্রেণির ভর্তির প্রক্রিয়া। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষেও (২০২১-২২) একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে আগের মতোই এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে। ভর্তির জন্য কোনো পরীক্ষা হবে না। ভর্তির জন্য অনলাইনে (www.xiclassadmission.gov.bd) আবেদন গ্রহণ ৮ জানুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হবে ১৫ জানুয়ারি। এরপর যাচাই এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে ফেব্রুয়ারির ১৯ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভর্তির কাজ শেষ করতে হবে। এরপর ২ মার্চ শুরু হবে একাদশ শ্রেণির ক্লাস।

default-image

নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইনে সর্বনিম্ন ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করা যাবে। একজন শিক্ষার্থী যত কলেজে আবেদন করবে, সেগুলোর মধ্য থেকে মেধা, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটিমাত্র কলেজে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

আগেরবার ভর্তির সময়ও দেখা গিয়েছিল নির্ধারিত কিছুসংখ্যক কলেজের ভর্তির চাপ বেশি থাকে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে এই ধরনের ‘ভালো বা মোটামুটি ভালো মানের’ কলেজ আছে প্রায় ২০০টি। যেগুলোতে সব মিলিয়ে আসন হতে পারে এক লাখের মতো। এ ধরনের ২০টির মতো কলেজ ঢাকায় অবস্থিত। এগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন আছে কমবেশি ২০ হাজার। তবে এগুলোর কয়েকটিতে বিদ্যালয় শাখা আছে। ফলে ভর্তিতে ওই প্রতিষ্ঠানের বিদ্যালয় শাখার শিক্ষার্থীরাই অগ্রাধিকার পাবে। এর বাইরে ঢাকা কলেজ, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ, সিটি কলেজগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চাপ বেশি হবে। বিভিন্ন বিভাগীয় শহর এবং কিছু জেলা শহরে এ রকম কিছু কলেজ আছে।

যেমন ঢাকা কলেজে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে আসন আছে ১ হাজার ২০০। ফলে স্বাভাবিকভাবে এই কলেজে চাপ বেশি হবে বলে মনে করছেন কলেজের শিক্ষকেরা।

শুধু জিপিএ-৫ নয়, এবার যত শিক্ষার্থী পাস করেছে, তাদের মধ্যে ২৮ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর ফল জিপিএ-৪ থেকে জিপিএ-৫–এর নিচে। এসব শিক্ষার্থীর সংখ্যা সোয়া ছয় লাখের বেশি। যেহেতু শুধু ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কাজটি হবে, ফলে এসব শিক্ষার্থীরও চাওয়া থাকবে তুলনামূলক ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া। ফলে এবার ভর্তির চাপটি বেশি।

তাহলে এই সমস্যা সমাধানের উপায় কী? এর উত্তরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এস এস ওয়াহিদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, গুটিকয় কলেজে চাপ বেশি হয়, কারণ সেখানে পড়াশোনা ভালো হয়। তাহলে এই সমস্যার সমাধান করতে হলে বিদ্যমান অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের বিকল্প নেই।

পড়াশোনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন