default-image

লকডাউন সীমিত করার সরকারি রোডম্যাপের পর স্কুলের ইউনিফরমের বিক্রি বেড়েছে ইংল্যান্ডে। শুধু স্কুল পোশাকই নয়, একই সঙ্গে বেড়েছে কম্পিউটার ও গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রিও। জানুয়ারিতে কিছুটা কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে গেলেও ফেব্রুয়ারিতে এসে খুচরা বাজারের বিক্রি অনেকটাই বেড়েছে দেশটিতে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, লকডাউন শেষে ৮ মার্চ থেকে যুক্তরাজ্যের স্কুলগুলো খুলেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরতে শুরু করেছে। আর তাই বিক্রি বেড়েছে স্কুলের ইউনিফরমের। আবার অনেকে ছাড়েও পণ্য বিক্রি করছেন। স্কুল ইউনিফর্মের অনলাইন বিক্রি কোনো কোনো স্টোরের কয়েক গুণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি বেড়েছে ছেলেদের ট্রাউজারগুলো।

ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়াম (বিআরসি) বলছে, কেবল ইউনিফর্ম ও কম্পিউটার বিক্রির মাধ্যমেই খুচরা বাজারের বিক্রির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। দীর্ঘদিন লকডাউনে একরকম গৃহবন্দী থাকার পর ভালোবাসা দিবসে কেনাকাটা করার সুযোগ হাতছাড়া করেননি যুবক-যুবতী, প্রেমিক-প্রেমিকারা। আর এটি খুচরা বাজারের বিক্রিতে উন্নতির প্রভাব ফেলেছে।

তবে আসছে মাসগুলো ব্যবসায়ীদের জন্য আরও চ্যালেঞ্জের হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিআরসি। সংস্থাটির সিইও হেলেন ডিকিনসন ওবিই বলেন, লকডাউন সীমিত করার ঘোষণায় অনেক খুচরা ব্যবসায়ীর প্রত্যাশা হলো, তাঁদের দোকানে আগের মতোই ক্রেতারা আসবেন।

default-image
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের অফিস অব ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের মতে, কোভিডের বিধিনিষেধের কারণে জানুয়ারিতে খুচরা বিক্রি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম ছিল। বিআরসি বলছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ঘোষণায় ২২ ফেব্রুয়ারি অনেক কিছু শিথিল হয়। খোলে কিছু কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে গত মাসে বেড়ে যায় বিক্রিবাট্টার পরিমাণ।

এসব সূচকের পরিসংখ্যানগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, খাদ্য নয় এমন পণ্যের অনলাইনে বিক্রি ৮২ শতাংশ বেড়েছে। এসব দোকানে লকডাউনের কারণে বিক্রি হ্রাস পেয়েছিল। প্রযুক্তিপণ্য, আসবাব ও বাড়ির আনুষঙ্গিক পণ্যের চাহিদা আরও বেড়ে গেছে। আর বাবা-মা তাঁদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করার ফলে স্কুলের ইউনিফর্মগুলোর বিক্রি বেড়েছে। খাদ্যপণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকায় সুপারমার্কেট এবং মুদিদোকানগুলো খুলতে শুরু করে ফেব্রুয়ারিতে। এর আগে এ দোকানগুলো বন্ধ ছিল। গত তিন মাসের চেয়ে ফেব্রুয়ারি থেকে বিক্রি বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত।

default-image

হেয়ারফোর্ডের স্কুল ইউনিফর্ম টেইলারিং দোকানের মালিক লুক কনড বলেছেন, ‘আমরা খুব ভাগ্যবান। গত এক বছরের মধ্যে আমাদের খুচরা দোকানগুলোর অর্ধেকের বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল। তবে এ মাসে (ফেব্রুয়ারি) আমরা যে ব্যবসা করেছি, তা অনেক গুণ বেশি, কোনো ক্ষেত্রে ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত কয়েক সপ্তাহে আমরা স্কুল ইউনিফর্মের অনলাইন বিক্রিতে দুই হাজার গুণ বাড়তে দেখেছি। সবচেয়ে বেশি বিক্রি বেড়েছে ছেলেদের ট্রাউজারগুলোতে।’

লুক কনড বলেন, ‘গত গ্রীষ্মে আমাদের স্টোরগুলো খোলা ছিল। আমাদের অনলাইন স্টোর ছিল। আমরা লক্ষ করেছি, সম্ভবত অনলাইন স্টোর থেকে বিক্রিবাট্টা বেড়ে লাভ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।’

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন