default-image

ক্লাবের নাম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংক্ষেপে এনএসইউএসএস। বছরের দুটো সময় ভীষণ ব্যস্ততায় কাটে এই সংগঠনের সদস্যদের। এক. যখন সামনে কোনো অনুষ্ঠান থাকে। দুই. যখন সামনে কোনো অনুষ্ঠান থাকে না! নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুভার সংগঠনটির কাঁধে। পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন আয়োজনের পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, মহড়া—সেসবের চাপ তো আছেই; অনুষ্ঠান না থাকলেও ব্যস্ততা কি কম? মোটেই না। অমুকের চুলে রং লাগাও, তমুকের হাত-পা বেঁধে কাতুকুতু দাও... এমন ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ কাজে সময় কেটে যায় তাদের! সেমিস্টার শেষেও সংগঠনের সদস্যরা দল বেঁধে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। কখনো বান্দরবান, কখনো রাঙামাটি—ঘুরে ঘুরে চলে ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্ট-পরীক্ষার ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে নিজেদের প্রাণবন্ত রাখার চেষ্টা।
বছরের শুরু থেকেই অবশ্য একের পর এক অনুষ্ঠান আয়োজনের চাপে দম ফেলার ফুরসত মেলে না। পয়লা ফাল্গুন, পয়লা বৈশাখের মতো উৎসবগুলোর বিশাল আয়োজন তো আছেই, সঙ্গে একুশে ফেব্রুয়ারি, ছাব্বিশে মার্চ, ষোলোই ডিসেম্বরের মতো জাতীয় দিনগুলোতেও থাকে ভিন্ন আয়োজন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীরা সারা বছর অপেক্ষা করে এইসের (অ্যানুয়েল কালচারাল ইভিনিং) জন্য। সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মো আবরার ফয়সাল বলছিলেন, ‘এইস যে আমাদের কাছে কী, সেটা বলে বোঝানো যাবে না। অনেকে ভাবতে পারে নর্থ সাউথের অ্যানুয়েল কালচারাল ইভিনিং, নিশ্চয়ই কনসার্ট-ডিজে এসব হয়। ব্যাপারটা একেবারেই তা নয়। একেকটা এইসের একেকটা থিম থাকে। এর আগে পরিবর্তন, রং, মুখোশ, ইতিহাস, রূপকথা—এমন অনেক থিম নিয়ে আমরা কাজ করেছি। সামনের এইস নিয়েও পরিকল্পনা চলছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪৬ নম্বর রুমে এনএসইউএসএসের আস্তানা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে সংগঠনের সদস্যরা ঢুঁ মারেন ক্লাবের রুমে। নাচ-গান-মহড়া-আড্ডা-খুনসুটি চলতেই থাকে। নাচে, গানে, অভিনয়ে পারদর্শীরা আছেন, কেউ ভালো আঁকেন, কেউ ভালো রং করেন, কেউ বা ভালো স্কচটেপ ছিঁড়তে পারেন—সবাইকে নিয়েই এনএসইউএসএস পরিবার। সংগীতশিল্পী তপু, এমিল, এলিটা—এমন অনেকেই একসময় ছিলেন এ পরিবারের সক্রিয় সদস্য। তপুর গাওয়া এনএসইউএসএসের ‘থিম সং’ সংগঠনটির লক্ষ্য বলে দেয় অনেকখানি—‘আমরা স্বপ্নে বাঁচি, স্বপ্ন গড়ি, স্বপ্ন বুকে ধরে দেব পাড়ি বহুদূর...’।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন