default-image

স্নাতক পর্যায়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন রোমানা ইসলাম। এখন পড়ছেন স্নাতকোত্তর পর্যায়ে। শুভাকাঙ্ক্ষী ও বন্ধুদের বিশ্বাস, স্নাতকোত্তর পর্যায়েও ভালো ফল করবেন তিনি। তাই রোমানাকে সবাই বলেন, ‘পেছন ফিরে তাকানোর কিছু নেই, এখন তোমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।’
রোমানার তবু পেছন ফিরে তাকাতে ভালো লাগে। ফেলে আসা এক টুকরো শৈশব দেখতে ভালো লাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে সিজিপিএ ৩.৭৯ পেয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা রোমানা স্মৃতিচারণা করেন, ‘আমার পরিবারের সবাই চেয়েছিলেন, আমি যেন গানের শিল্পী হই। ছোটবেলায় আমার দাদা আমাকে গানের স্কুলে ভর্তিও করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমার ভালো লাগেনি গান শিখতে। আমি দাদাকে বলেছিলাম, আমি ছবি আঁকব!’
পরিবারে রোমানাকে সবাই ডাকে রূপা বলে। ছোট্ট রূপার আবদার ফেলেননি দাদা। ছবি আঁকা শেখার ব্যবস্থা করেছেন শিক্ষক হারুন-উর-রশীদের কাছে। এরপর শিল্পকলা একাডেমী, শিশু একাডেমী, কচিকাঁচার মেলা, মুক্তমেলা, খেলাঘর—জামালপুরের সব সংগঠনের সঙ্গে ছোট্ট রোমানার সম্পৃক্ততা বেড়ে যায়। দুবার জাতীয় পুরস্কার ছাড়াও নতুন কুঁড়ি বিজয়ী এ শিল্পীর ঝুলিতে যুক্ত হয় অসংখ্য পুরস্কার।
পাশাপাশি চলতে থাকে পড়ালেখা। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পর মা-বাবা চাইলেন মেয়ে চিকিৎসক হোক। কিন্তু মেয়ের ইচ্ছা তো চারুকলায় পড়ার। আবারও সেই দাদাই দিলেন অনুপ্রেরণা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ভর্তি পরীক্ষা দিলেন তিনি। তারপর সুযোগ পেলেন গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার।
গ্রাফিক ডিজাইন পড়লেও কেবল সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তাঁর পদচারণ। জলরং, পেনসিল স্কেচ, তেলরং, পোস্টার রং থেকে মিশ্র মাধ্যম—সবখানেই স্বচ্ছন্দ বিচরণ তাঁর। অংশ নিয়েছেন ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারুকলার সব বার্ষিক প্রদর্শনীসহ জলের ধারা এবং চিত্রলেখা গ্রুপের প্রদর্শনীতেও। জলের ধারায় প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। এ ছাড়া করেছেন শিশুতোষ ১৫টি বইয়ের অলংকরণ (ইলাস্ট্রেশন)। ২০১৩ সালে অর্জন করেছেন মিডিয়া বেস্ট পুরস্কার (মাধ্যম—জলরং) এবং পোস্টার ডিজাইন (দুর্নীতি দমন কমিশন) পুরস্কার।
‘প্রয়াত শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ও শিল্পী সমরজিৎ রায়চৌধুরী আমার অনুপ্রেরণার উৎস। পরিবার ও কাছের ভালো বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষীর অকুণ্ঠ উৎসাহে আমার এত দূর পথচলা।’ সদা হাস্যোজ্জ্বল রোমানা এভাবেই প্রকাশ করলেন তাঁর মনের কথা।
জামালপুরের মেয়ে রোমানা স্বপ্ন দেখেন নিজের একটি ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান দেওয়ার। সেই সঙ্গে চালিয়ে যেতে চান পেইন্টিংয়ের চর্চাও।

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন