অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, শিক্ষায় বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। যদিও অর্থের সংস্থান কম। উপবৃত্তির টাকা বাড়ানো উচিত। এসব ক্ষেত্রে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যতটুকু করা দরকার, তা তিনি করবেন।

সভাপতির বক্তব্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, শিক্ষায় অনেক অগ্রগতি আছে, আরও অগ্রগতি হতে হবে। শিক্ষার মানে যতটা মনোযোগ দেওয়ার দরকার, ততটা দেওয়া হয়নি। সে জন্য মান নিয়ে এখনো অনেক সমস্যা প্রায় সব পর্যায়ে আছে। তার একটি হলো, পরীক্ষানির্ভরতা। একটার পর একটা পরীক্ষা। সারা বছর পরীক্ষার মধ্যে থাকলে শিখবে কখন?

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। অনেক শিক্ষাবিদের মতে, এই পরীক্ষা ছোট শিশুদের ওপর চাপ তৈরি করে। এ জন্য এই পরীক্ষা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করে আসছেন তাঁরা। নতুন শিক্ষাক্রমে এই পরীক্ষার কথা নেই। তবে তা কবে বাতিল হচ্ছে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা এখনো দেয়নি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, শিক্ষায় পরিকল্পনায় সমস্যা নেই। কিন্তু বাস্তবায়ন যেভাবে এগিয়ে নেওয়ার কথা, তা হচ্ছে না। ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি করা হয়েছে, কিন্তু শিক্ষা আইনই হয়নি। শিক্ষা আইন না হওয়ায় শিক্ষানীতির অনেক কিছুই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

শিক্ষার বাজেটের সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট জুড়ে না দেওয়ার আহ্বান জানান গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষাকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। বাজেটে শিক্ষা অবশ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।

ব্র্যাকের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। দুই বছর পড়াশোনা না করে শিক্ষার্থীরা ওপরের শ্রেণিতে উঠেছে। এতে একটি প্রজন্মের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষতি পূরণের যথেষ্ট আলাপ-আলোচনা দেখা যাচ্ছে না। এটাই বড় সমস্যা।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা ফেলো মুনতাসীর কামাল। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে যে শিখন ঘাটতি হলো, সে জন্য একটি উদ্যোগ চিন্তা করা যায়। যখন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, সেখানে যাতে শিখন ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ থাকে। করোনার কারণে শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে, তা কীভাবে পূরণ করা হবে, সে বিষয়ে সামনের দুই-তিন অর্থবছরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

মুনতাসীর কামাল বলেন, ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ে স্কুলে অনুপস্থিতির হার কমে এসেছিল। কিন্তু ২০২১ সালে এসে এটি ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়। এটা করোনার সরাসরি প্রভাব, এ কথা অনুমান করা যায়।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অনুষ্ঠানে তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসব সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি করেন। তাঁদের দাবির মধ্যে ছিল, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা মাসে মাসেই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া, টাকার অঙ্ক বাড়ানো, বিদ্যালয়গুলো বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শৌচাগারের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন দাবি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাংসদ আরমা দত্ত, প্রবীণ শিক্ষক নেতা কাজী ফারুক আহমেদ, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার জাভেদ প্যাটেল, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের প্রথম সচিব হ্যান্স ল্যামব্রেক, ইউনিসেফের প্রতিনিধি ভিরা মেনডোনকা, গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক কে এম এনামুল হক প্রমুখ।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন