default-image

অধ্যায় ৩ ও ৪

উদ্দীপক:

ঘটনা ১: আদমজী স্কুলে কবিতা পাঠের আসর বসেছে।

ঘটনা ২: মিতালী পুরান ঢাকার একটি নিদর্শন দেখতে যায়, যার নামকরণ করা হয়েছে শেষ মোগল সম্রাটের নামে।

প্রশ্ন

ক. সংস্কৃতি কী?

খ. সাংস্কৃতায়ন কী, ব্যাখ্যা করো।

গ. ঘটনা ১-এ আমাদের শিল্পকলার কোন দিকটির কথা বলা হয়েছে, ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ঘটনা ২-এ মিতালীর দেখা নিদর্শনটির রয়েছে একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. মানুষের সৃষ্টিশীল সব কাজই তার সংস্কৃতি।

খ. নিজ সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ন রেখে অন্য কোনো সাংস্কৃতিক উপাদানকে নিজ সংস্কৃতির সঙ্গে আত্মস্থ করার প্রক্রিয়াকে সাংস্কৃতায়ন বলে।

সাংস্কৃতায়ন প্রক্রিয়ার মূল কারণ হচ্ছে ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসা।

বিজ্ঞাপন

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, ইংরেজরা প্রায় দুই শ বছর আমাদের শাসক ছিল বলে অনেক ইংরেজি শব্দ আমাদের ভাষার সঙ্গে মিশে গেছে। সাংস্কৃতায়ন প্রক্রিয়া সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। সাংস্কৃতায়ন সংস্কৃতির পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

গ. ঘটনা ১-এ আদমজী স্কুলে কবিতাপাঠের আসর আমাদের শিল্পকলার অন্যতম বিষয় সাহিত্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। যেসব কাজে একটি জাতির চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়, তা শিল্পকলা নামে পরিচিত। সাহিত্যকর্ম বাংলার শিল্পকলার অন্যতম অঙ্গ। আবহমানকাল থেকেই সাহিত্য বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য সম্পদ হচ্ছে চর্যাপদ, বৈষ্ণব পদাবলি, পুঁথি সাহিত্য, কাব্যকাহিনি, গদ্য ইত্যাদি। বাংলাদেশের সংস্কৃতি-সাহিত্যের এসব উপকরণের মাধ্যমে ব্যাপক সমৃদ্ধ হয়েছে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা ১-এ বলা হয়েছে, আদমজী স্কুলে কবিতাপাঠের আসর বসেছে। এটি বাঙালি শিল্পকলার সাহিত্যের দিকটি ইঙ্গিত করে। কবিতা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম অংশ। প্রাচীনকাল থেকে কবিতা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। আনুমানিক ১২০০ বছর আগে বৌদ্ধ সাধকেরা রচনা করেন চর্যাপদ। চর্যাগীতির বিখ্যাত রচয়িতাদের মধ্যে লুইপা ও কাহ্নপা উল্লেখযোগ্য।

সুলতানি আমলে বৈষ্ণব ভাবধারার প্রভাবে কীর্তন গান রচনার জোয়ার আসে। অনেক মুসলমান কবিও বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেছেন। মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গল, ঘনরামের ধর্মমঙ্গল, বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল কাব্যকাহিনির মধ্যে উল্লেখযোগ্য। পুঁথি সাহিত্যেরও ব্যাপক প্রচলন ছিল এ দেশে। ইংরেজ আমলে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রমুখের সংস্পর্শে আধুনিক বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধি লাভ করেছে। এসবের প্রভাবেই সংস্কৃতির চর্চার মধ্যে কাব্যচর্চা উল্লেখযোগ্য। উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ঘটনা ১-এ আমাদের শিল্পকলার সাহিত্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।

ঘ. ঘটনা ২-এ উল্লিখিত মিতালীর দেখা নিদর্শনটি হচ্ছে ইতিহাস প্রসিদ্ধ বাহাদুর শাহ পার্ক, যা সিপাহি বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ইংরেজদের অমানবিক নির্যাতনের প্রতীক।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের প্রত্ননিদর্শনের মধ্যে বাহাদুর শাহ পার্ক অন্যতম। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে স্বাধীনতাকামী সৈনিকদের মধ্যে যারা ইংরেজদের হাতে ধরা পড়েছিল, তাদের তত্কালীন আন্টাঘর ময়দানে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়া হয়। ইংরেজদের এই বর্বরতার প্রতীক হওয়ার কারণে বাহাদুর শাহ পার্ক ঐতিহাসিকভাবে তাত্পর্যমণ্ডিত।

ঘটনা ২-এ উল্লেখ রয়েছে, মিতালী পুরান ঢাকার একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে যায়। যার নামকরণ করা হয়েছিল শেষ মোগল সম্রাটের নামে। অর্থাৎ সে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক দেখতে গিয়েছিল। বাহাদুর শাহ পার্ক সিপাহি বিদ্রোহ ও ইংরেজদের নির্যাতনের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৮৫৭ সালে সূচনা হয়েছিল প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতাযুদ্ধের। তবে তারা সে ক্ষেত্রে সফল হয়নি। তাদের মধ্যে যারা ইংরেজদের হাতে ধরা পড়ে, তাদের বাহাদুর শাহ পার্কে ফাঁসি দেওয়া হয়। তাই বাহাদুর শাহ পার্ক ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি ঢাকার নবাব আবদুল গনি আন্টাঘর ময়দানের নামকরণ করেন ভিক্টোরিয়া পার্ক হিসেবে। আন্টাঘর ময়দানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস, যার নাম দেওয়া হয়েছিল সিপাহি বিদ্রোহ। যুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যরা জিততে পারেনি, তাদের আন্টাঘর ময়দানে নির্মমভাবে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেওয়া হয়। এই ঘটনার ঠিক এক শ বছর পরে স্বাধীনতার জন্য জীবনদানকারী সৈনিকদের স্মৃতিতে এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়। বাংলার শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ্ জাফরের নামে পার্কটির নামকরণ করা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক। পার্কটি ইংরেজদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মিতালীর দেখা বাহাদুর শাহ পার্ক ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন