বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি দুটি বিষয় বিশেষভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে৷ এই বিষয়গুলো ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ‘ব্যঙ্গ বিদ্রূপ’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন৷ তখন সেটিকে বৃহত্তর সমাজের কিছু মানুষের ভিন্ন রুচি ও ভিন্ন মূল্যবোধ হিসেবে ধরে আমলে নেওয়া হয়নি৷ সম্প্রতি কোনো কোনো দায়িত্বশীল মহলও বিভিন্নভাবে সেসব যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করছেন, যা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তুত কিছু অসাধুচক্র কোনো অপ তথ্য বারবার ব্যবহার করে সেটিকে তথ্যে পরিণত করতে চায়, যা জনমনে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে৷

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে টিএসসিতে নবীন শিক্ষার্থীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি ক্যাম্পাসের মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করেন৷ সহজ, সরল, সাধারণ ও সাবলীল জীবনাচারের গুরুত্বের কথাও উপাচার্য বলেন৷ অনুষ্ঠানস্থল টিএসসির গৌরবময় ভূমিকাও প্রসঙ্গক্রমে চলে আসে৷ তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাস্যরসে ক্যাফেটেরিয়ার সাধারণ, স্বল্পমূল্যের খাবার মেন্যু ও সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার অবারিত সেবা কার্যক্রমের কথাগুলোও বলেন৷ একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ক্যামেরাবিহীন এক সাংবাদিক অনাহূতভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উপাচার্যের বক্তব্যের মূল অংশ কাটছাঁট করে এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাক্য ও শব্দ অবলোপন করে ক্যাফেটেরিয়ার বিভিন্ন খাবারের মূল্য বিষয়ক বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে ১৫-২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল করে৷ ওই সাংবাদিক অবশ্য পরে সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন৷ একজন শিক্ষক হিসেবে উপাচার্য বিষয়টিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন৷ প্রসঙ্গত, টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার খাবার মেন্যুর নজিরবিহীন স্বল্পমূল্য বিষয়ে উপাচার্যের মন্তব্য ‘বিবিসি বাংলা’ পরিচালিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সত্য প্রমাণিত হয়৷

এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বিতীয় বিভ্রান্তিকর তথ্যটি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়নি, কোভিড-১৯ টেস্টিং কার্যক্রম শুরু করে বেশ বিলম্বে, কিছুদিন পর আবার ল্যাব বন্ধ করে দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ডজনেরও বেশি আরটি-পিসিআর মেশিন থাকা সত্ত্বেও সেসব দিয়ে জাতির মহাদুর্যোগে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা না করে বসে আছে৷ এ বক্তব্যটি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছিল৷ প্রকৃত ঘটনা হলো কোনো বিলম্ব ছাড়াই ২০২০ সালের ১৯ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানী, জিন প্রকৌশলী ও প্রাণরসায়নবিদদের নিয়ে প্রথম কোভিড-১৯ রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করে মহামারি প্রতিরোধে কতিপয় সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রস্তাবনা দেয়৷ কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য হাসপাতাল বা ডেডিকেটেড ল্যাবের মতো কোনো ল্যাব ও প্রশিক্ষিত জনবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না৷ তিনটি বিভাগের ল্যাবে পঠন-পাঠন ও নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি করে মোট তিনটি মেশিন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যগুলো প্রথাগত পিসিআর মেশিন৷ সেগুলো কোভিড টেস্ট করার উপযোগী নয়৷

বর্তমানে এ ল্যাবটিকে ভাইরোলজি বিষয়ে উচ্চতর গবেষণার জন্য বায়োলজিক্যাল হ্যাজার্ড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ল্যাবরেটরি নামে একটি স্বতন্ত্র ল্যাবে রূপান্তর করা হয়েছে৷ এই ল্যাবে টেস্টের পাশাপাশি ভাইরাসের জিনোম সিক্যুয়েন্সিংও করা হয়েছিল৷
বিজ্ঞপ্তির একদম শেষে বলা হয়, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে অক্সফোর্ড বা জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মৌলিক গবেষণা পরিচালনা করে টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার বা টেস্টিং কিট উদ্ভাবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারেনি৷ তবে এর কারণ বোধ করি অনেকেই জানেন৷ গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শ্রদ্ধাশীল একই সঙ্গে কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমালোচনার রীতিনীতি ও মূল্যবোধ উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের মানহানি ঘটায়, তাহলে দেশের আইন যে তার প্রতিকার দেয়, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল৷ অতি সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ব্যঙ্গচিত্র ও খণ্ডিত তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে৷ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা হেয় প্রতিপন্ন না হয়, সে জন্য আলোচ্য বিষয়টির স্পষ্টিকরণ প্রয়োজন হলো৷ বিভ্রান্তিকর ও খণ্ডিত তথ্য ব্যবহার করে কোনো বিশেষ মহল যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে এবং মানহানি ঘটাতে না পারে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সকলের সদয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে৷