গত ২০ এপ্রিল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ও ফি জমা নেওয়া শুরু হয়। পাঁচটি ইউনিটেই এবার আবেদনের যোগ্যতার শর্ত কিছুটা শিথিল ছিল। মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদনের সুযোগ ছিল। ১৬ মে থেকে প্রতি ইউনিটের পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগপর্যন্ত প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে।

default-image

এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পাঁচটি ইউনিটে (ক, খ, গ, ঘ ও চ) দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩ জুন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের ভর্তি পরীক্ষা। এরপর ৪ জুন কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিট, ১০ জুন বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিট, ১১ জুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিট আর ১৭ জুন চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ক, খ, গ ও ঘ ইউনিটের পরীক্ষা হবে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত (দেড় ঘণ্টা)। তবে চারুকলার সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষাটি হবে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত (৩০ মিনিট)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৪৮ জনের আবেদন ফি জমা হয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার ধীরগতির কারণে কিছু আবেদন ফির তথ্য এখনো জমা হয়নি। সব ফির তথ্য জমা হলে আবেদনের সংখ্যা আরও ১০০টির মতো বাড়তে পারে।

ইতিমধ্যে যেসব শিক্ষার্থীর আবেদন ফি জমা হয়েছে, তাঁদের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ক ইউনিটে আর সবচেয়ে কম চ ইউনিটে। আসনপ্রতি প্রতিযোগীর সংখ্যার দিক থেকেও সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ক ইউনিটে আর সবচেয়ে কম হবে খ ও গ ইউনিটে। ক ইউনিটে ১ হাজার ৮৫১ আসনের বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭১২ জন (আসনপ্রতি প্রার্থী ৬২ জন), খ ইউনিটে ১ হাজার ৭৮৮ আসনের বিপরীতে ৫৮ হাজার ৫৫৪ জন (আসনপ্রতি প্রার্থী ৩৩ জন), গ ইউনিটে ৯৩০ আসনের বিপরীতে ৩০ হাজার ৬৯৫ জন (আসনপ্রতি প্রার্থী ৩৩ জন), ঘ ইউনিটে ১ হাজার ৩৩৬ আসনের বিপরীতে ৭৮ হাজার ৩১ জন (আসনপ্রতি ৫৮ জন) ও চ ইউনিটে ১৩০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৭ হাজার ৩৫৬ শিক্ষার্থী (প্রতি আসনে ৫৬ জন)।

default-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক, খ, গ ও ঘ ইউনিটে এবার মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে ৬০ নম্বরের বহুনির্বাচনী ও ৪০ নম্বরের লিখিত অংশ থাকবে। দুই অংশের উত্তর দেওয়ার জন্য ৪৫ মিনিট করে মোট ৯০ মিনিট সময় থাকবে। চ ইউনিটে সাধারণ জ্ঞান অংশে ৪০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষা হবে। এর উত্তর দেওয়ার জন্য সময় থাকবে ৩০ মিনিট। এ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরে মেধাক্রম অনুযায়ী ১ হাজার ৫০০ জন ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ওই পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪৫ মিনিট সময়। পাঁচটি ইউনিটেই প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ওপর ১০ করে মোট ২০ নম্বর যোগ করে মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে।

আবেদন ফি থেকে সংগ্রহ বেড়েছে
২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি ছিল ৩৫০ টাকা। ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ফি ৪৫০ টাকা করা হয়। এর পরের শিক্ষাবর্ষে (২০২০-২১) আরও ২০০ টাকা বাড়িয়ে আবেদন ফি করা হয় ৬৫০ টাকা। সর্বশেষ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন ফি একলাফে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে আবেদন ফি ১০০ টাকা বাড়ানোর কারণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছিল, প্রথমবারের মতো লিখিত অংশ থাকায় ফি ‘সামান্য’ বাড়ানো হয়েছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ২০০ টাকা বাড়ানোর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার অতিরিক্ত খরচের কথা। এবার একলাফে ৩৫০ টাকা বাড়ানোর কারণ হিসেবে গত বছরের ফিতে খরচ সংকুলান না হওয়ার কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান।

বিগত তিন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েছে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ৮ কোটি ১৭ লাখ ৫৩ হাজার, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১২ কোটি ৪৪ লাখ ৪১ হাজার এবং সর্বশেষ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে আবেদন ফি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২১ কোটি ৮ লাখ ২১ হাজার টাকা সংগ্রহ করে।

ভর্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন