default-image

কারিগরি জটিলতার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়া আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে একটা থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী রোববার পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে। রোববার রাত থেকে আবারও অনলাইনে ভর্তির আবেদন করা যাবে। ভর্তিপ্রক্রিয়া কয়েক দিন বন্ধ থাকায় সময় বাড়ানো হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আজ দুপুরে প্রথম আলোকে এই তথ্য জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আবেদনপ্রক্রিয়ার শুরুর দিন থেকেই ওয়েবসাইটের কারিগরি সমস্যার কথা জানিয়ে আসছিলেন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অনেকে।

মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবার আবেদনপ্রক্রিয়ার শুরুর দিকেই আগের চেয়ে অনেক গুণ বেশি আবেদন পড়েছে। প্রথম দিকে এত আবেদন আগে কখনো পড়েনি। প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় পাঁচ ইউনিটে মোট ১ লাখ সাড়ে ৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ফলে, ওয়েবসাইটের বেশ চাপ পড়েছে। এ কারণেই মূলত এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। গতবার পাঁচ ইউনিটে ২ লাখ ৭০ হাজার আবেদন পড়েছিল। এবার হয়তো পাসের হার বেশি, এবার সাড়ে তিন লাখ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

২ দিনে ১ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘আজ বেলা পৌনে একটা থেকে আমরা আবেদনপ্রক্রিয়াটি বন্ধ রাখছি। ওয়েবসাইটে এখন যে রিসোর্স আছে, তাতে একই সঙ্গে সাড়ে চার হাজারজন ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করতে পারেন। আগামী তিন দিনে ওয়েবসাইটের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। একই সময়ে (অ্যাট এ টাইম) অন্তত ১২ হাজারজন যাতে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে তাঁদের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন, সে জন্য রিসোর্স বাড়ানো হবে। বিভিন্ন বিভাগ থেকে রিসোর্সগুলো আনা হচ্ছে, এগুলো কনফিগার করে রোববার রাত থেকে আবার আবেদন গ্রহণ করা হবে। মার্চ মাস পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এখন কারিগরি জটিলতার কারণে যে সময়টুকু নষ্ট হচ্ছে, এপ্রিল মাসে সেই সময়টুকু আমরা যুক্ত করে দেব (বাড়িয়ে দেওয়া হবে)।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাঁদের আবেদনে কোনো ভুল হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের উপায়ও আসছে। আগে তদন্ত করে আমরা ভুলগুলো শনাক্ত করছি। আশা করি, ওয়েবসাইটের সক্ষমতা বাড়ালে আর সমস্যা থাকবে না। এ ছাড়াও কোনো শিক্ষার্থীর আবেদনে কোনো ধরনের সমস্যা শনাক্ত হলে শিক্ষার্থীদের ফোন করে আমরা যাচাই করে নেব।’

ইন্টারনেটর সুবিধাসংবলিত কম্পিউটার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন ওয়েবসাইটের (https://admission.eis.du.ac.bd) মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়া উদ্বোধন করেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। আগামী ২১ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ক ইউনিট, ২২ মে কলা অনুষদভুক্ত খ ইউনিট, ২৭ মে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত গ ইউনিট, ২৮ মে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ঘ ইউনিট ও ৫ জুন চারুকলা অনুষদভুক্ত চ ইউনিটের বহুনির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আর অঙ্কন পরীক্ষা হবে ১৯ জুন। প্রতিটি ইউনিটের পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

ক, খ, গ ও ঘ ইউনিটে মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা হবে। এ ক্ষেত্রে ৬০ নম্বরের বহুনির্বাচনী ও ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। উত্তর দেওয়ার জন্য ৪৫ মিনিট করে সময় থাকবে। চ ইউনিটে ৪০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষা হবে। সময় ৩০ মিনিট। এর ফলাফলের ভিত্তিতে পরে মেধাক্রম অনুযায়ী ১ হাজার ৫০০ জন ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষায় অংশ নেবেন। অঙ্কন পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। পাঁচটি ইউনিটেই প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ওপর ১০ করে মোট ২০ নম্বর যোগ করে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।

ক ইউনিটে আবেদন করতে হলে এসএসসি ও এইচএসসিতে আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ-৩.৫-সহ মোট ৮.৫; খ ইউনিটে আলাদাভাবে জিপিএ-৩-সহ মোট ৮; গ ইউনিটে আলাদাভাবে জিপিএ-৩.৫-সহ মোট ৮ থাকতে হবে। বিভাগ পরিবর্তনের ঘ ইউনিটে নিজ নিজ ইউনিটে যোগ্যতাপূরণ সাপেক্ষে আবেদন করা যাবে। এ ছাড়া চ ইউনিটে আবেদন করতে হলে এসএসসি ও এইচএসসিতে আলাদাভাবে জিপিএ-৩-সহ মোট ৭ থাকতে হবে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে। বিভাগীয় শহরে কেন্দ্র হওয়ার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের ভর্তি পরীক্ষায় পাঁচটি ইউনিটেই আবেদন ফি ৬৫০ টাকা, যা গতবার পর্যন্ত ছিল ৪৫০ টাকা।

ইন্টারনেটর সুবিধাসংবলিত কম্পিউটার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন ওয়েবসাইটের (https://admission.eis.du.ac.bd) মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
ভর্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন