বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি কমাতে এ বছর গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম পাঁচটি করে বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন (সিলেক্ট) করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রকাশ করা হয়। প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার পর শহিদুল ইসলামের মতো অনেক শিক্ষার্থী ন্যূনতম পছন্দের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় কোনোটিতেই কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেনি। পছন্দের বাইরে থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ জানান।

শিক্ষার্থী সাঈদ ইসলাম বলেন, ডেন্টাল, মেডিকেলে পরীক্ষা দিলাম, ঢাকায় তিনটি কেন্দ্র নির্বাচন করেই একটিতে পেয়ে গেছি। অথচ গুচ্ছে পাঁচটির কোনোটিতে পেলাম না। এসেছে দেশের শেষ প্রান্তে। এ ভোগান্তির সমাধান চাই। ঢাকা বা আশপাশের এলাকায় সিট চাই। নতুন করে পছন্দের তালিকা দেওয়ার সুযোগ চাই।

গুচ্ছে আবেদনকারী জিল্লুর রহমান বলেন, এর চেয়ে সব শিক্ষার্থীকে ঢাকায় ডাকলেও ভালো ছিল। বাড়ি গাইবান্ধা সিট দিয়েছে গোপালগঞ্জে। বাড়ি কুড়িগ্রামে সিট দিয়েছে খুলনায়। তাঁর প্রশ্ন, পছন্দের অপশন রাখার দরকার কি ছিল?

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরীক্ষার্থীদের নির্বাচন (সিলেক্ট) করা পাঁচটি পরীক্ষাকেন্দ্রে আসন না পড়ার কিছু কারণ আছে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী রাজধানী ও বিভিন্ন বড় বড় শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষাকেন্দ্র নির্বাচন করা এবং এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্টসংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার ধারণক্ষমতা। ভর্তি পরীক্ষা নির্দেশনা অনুযায়ী, চূড়ান্ত আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের ২৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে ন্যূনতম পাঁচটি কেন্দ্র পছন্দের তালিকায় রাখতে বলা হয়। এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান, পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর, পাসের বছরসহ সংশ্লিষ্ট ছয়টি বিষয়ের ওপর প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি কেন্দ্র-নির্ধারণী স্কোর প্রস্তুত করা হয়। সর্বোচ্চ ১০০ নম্বরের প্রাপ্ত স্কোর ও কেন্দ্রের পছন্দক্রমের ভিত্তিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

default-image

এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার উপাচার্যদের সমন্বয়ে গঠিত কোর কমিটির আহ্বায়ক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর জন্যই আমরা এই বিশাল চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পাঁচটি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার আসন হিসেবে নির্বাচন করতে বলা হয়েছিল। তবে রাজধানীসহ বিভিন্ন বড় শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি থাকায় নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে তাদের সিট পড়েনি। কারণ এ সব প্রতিষ্ঠানের নিদিষ্টসংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার ধারণক্ষমতা রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দীন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল রাজধানী এর মধ্যে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পছন্দের আবেদন ছিল ৩৭ হাজার ৭৪৯ জনের। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পরীক্ষা নেওয়ার ধারণক্ষমতা রয়েছে ১০ হাজার ৯১৫ জনের। আবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ হাজার জনের পরীক্ষা নেওয়ার ধারণক্ষমতা আছে। সেখানে আবেদন করেছিল ২০ হাজার ৮৯৪ জন। ফলে নির্ধারিত আসনের বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী পছন্দ থাকায় যারা স্কোরে এগিয়ে ছিল, তারাই পরীক্ষার আসন পেয়েছে।

default-image

উপাচার্য বলেন, আমরা বুঝতে পারি, অনেক শিক্ষার্থীদের মন খারাপ হয়েছে। তবে এ আসনবিন্যাস পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে সিট পড়েনি, বিজ্ঞান বিভাগের মাত্র ২ শতাংশ শিক্ষার্থীর। মানবিক ও বাণিজ্যের সবাই পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা দিতে পারছে। যেহেতু শিক্ষাজীবনে ভর্তি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একবারই ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা। তাই সামান্য কষ্টটুকু মেনে নিয়ে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করব।

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য মুনাজ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম পাঁচটি করে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করতে বলেছিলাম। তবে যাদের স্কোর একটু কম ছিল, তারা যদি আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করত, তবে তারা সেখান পরীক্ষার আসন পড়তে পারত।

উপাচার্য বলেন, স্কোরে পিছিয়ে ছিল এবং পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আসনবিন্যাস সম্ভব হয়নি। তাদের ফাঁকা থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করে অনলাইনে আসনবিন্যাস নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

ভর্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন