default-image

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

কারণ যে সফটওয়্যার দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছিল তা দিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। তারা বলছেন, সফটওয়্যার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মতো বড় পরীক্ষা নেওয়ার মতো এখনো দেশে সক্ষমতা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অনুষ্ঠিত এক সভায় গাজীপুরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মুনাজ আহমেদ নূরের নেতৃত্বে তৈরি করা ওই সফটওয়্যারটি বিশেষজ্ঞরা পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের মত দেয়। প্রস্তাবিত ওই সফটওয়্যারটি যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবুসহ মোট পাঁচজন বিশেষজ্ঞ নিয়ে কমিটি গঠন করেছিল ইউজিসি।

ইউজিসির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই সফটওয়্যার দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া নেটওয়ার্ক ও কারিগরি সমস্যার কারণে অনেক ভর্তি ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীর সঠিক মূল্যায়ন নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের কোনো দেশে একটিমাত্র সফটওয়্যার দিয়ে বড় পরিসরে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় না। সফটওয়্যার দিয়ে যদি পরীক্ষা নিতে হয় সেক্ষেত্রে ইউজিসিকে একটি নীতিমালা করার পরামর্শ দেয় কমিটি।

বৈঠকে উপস্থিতি ইউজিসির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বিশেষজ্ঞ কমিটির সভায় প্রস্তাবিত সফটওয়্যারের উদ্ভাবক গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মুনাজ আহমেদ নূর উপস্থিতি হয়ে সফটওয়্যারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সেখানে তিনিও বলেছেন, ওই সফটওয়্যারটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি বর্তমান অবস্থায় অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য উপযোগী নয়।

যে সফটওয়্যার দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছিল তা দিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। তারা বলছেন, এই সফটওয়্যার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মতো বড় পরীক্ষা নেওয়ার মতো এখনো সক্ষমতা হয়নি। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া তা পরে আলোচনা করে ঠিক করা হবে

এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া তা জানতে চাইলে ইউজিসির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, সেটি পরে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা করেছিলেন উপাচার্যরা। এ জন্য গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের নেতৃত্বে তৈরি করা সফটওয়্যারকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আর সেটি হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে দেশে ৪৬টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও ৩৯টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তিনটি গুচ্ছ করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এখনো সেই সিদ্ধান্ত আছে।

এর মধ্যে ঢাকা, রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেবে সেটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের।

অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন-অর-রশিদ আগেই প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোয় আগের মতোই পরীক্ষা ছাড়া এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0