default-image

করোনায় ইউরোপের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্য অন্যতম হলো ইতালি। এখন পর্যন্ত কোভিড–১৯–এর কারণে ৪৮ হাজার ৫৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিশ্বের অন্য দেশের মতো ইতালিতেও বন্ধ আছে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন বাড়িতে বসে অনলাইন ক্লাস আর ঘরে বসে একঘেয়ে জীবন চলছে শিক্ষার্থীদের। এতে অতিষ্ঠ আনিতা লোকোভ্যালি ও তার বন্ধুরা। তাই বন্ধুদের নিয়ে রাস্তার পাশে টেবিল পেতে পড়তে বসে গেছে আনিতা। স্কুল সরাসরি ক্লাস বন্ধ রাখার প্রতিবাদেই আনিতা ও তার বন্ধুরা এমনটা করছে।

শিক্ষার্থী আনিতা লেকোভ্যালির বয়স ১২ বছর। সে ও তার বন্ধু লিসা রোজলিয়াত্তি প্রতিদিন অনলাইন ক্লাসের সময় হলেই তুরিনে তাদের ক্যালভিনো স্কুলের সামনে চেয়ার-টেবিল পেতে পড়তে বসে যায়। শুরুতে মাত্র কয়েকজন ছিল। দিনকে দিন বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

বিজ্ঞাপন

করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় ইতালির তুরিন ৬ নভেম্বর থেকে রেড জোনে আছে। ইতালির কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিন্তু আবার খোলা। তবে বয়সজনিত কারণে সরাসরি ক্লাস করতে পারছে না আনিতার মতো অনেকেই। মধ্য বয়সী শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্লাসে পড়তে যায়। ষষ্ঠ গ্রেডের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়ার অনুমতি পেলেও সপ্তম এবং অষ্টম গ্রেডের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারবে না। আনিতাদের মতো সপ্তম এবং অষ্টম গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা আছে। অন্যরা সরাসরি ক্লাস করবে আর আনিতারা পারবে না, এরই প্রতিবাদে স্কুলের সামনে বসে অনলাইন ক্লাস শুরু করে আনিতা। এরপরই যোগ দেয় তার বন্ধুরা।
আনিতা লেকোভ্যালি বলে, যখন স্কুল বন্ধের কথা বলা হলো, তখনই আমার মনে হয়েছে, আবারও অনলাইনে ক্লাস করতে পারব না। ক্লাসে বসে শিক্ষকের কথা শুনে পড়াশোনার যে মজা, তা অনলাইনে পাই না। আমি স্কুলে ক্লাসসহ সবকিছু মিস করি। ক্লাসে শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলা, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্কুলের জন্য তৈরি হওয়াসহ সবকিছুই মিস করি। এর বদলে আমরা এখন কম্পিউটারে অনলাইন ক্লাসে বসি।

default-image

সড়কের পাশের স্কুলে সামনে ভিন্নধর্মী এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে আনিতা লেকোভ্যালি বলে, ‘আমি জানি, এটা পড়াশোনার জন্য উপযুক্ত জায়গা না। চারপাশের পথচারীরা হেঁটে যাওয়ার সময় অদ্ভুতভাবে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু এটি বাড়িতে থেকে ল্যাপটপে ক্লাস করার চেয়ে ভালো। আমি আমার স্কুলকে খুব মিস করছি।’

আনিতা ক্যালভিনো স্কুলের সামনে তার মা ক্রিস্টিনা পেরোনের সঙ্গে বসে ক্লাস করে। এভাবে পড়াশোনা শুরু করার পর তার সঙ্গে আরও শিক্ষার্থী এসে যোগ দেয়। আনিতার ১২ বছর বয়সী বন্ধু লিসা যোগ দেয় এরপরই।

ক্রিস্টিনা পেরোন বলেন, সে আমাকে বলেছে, আমি স্কুলের সামনে যাচ্ছি। আমি তাকে বললাম যে ওই এলাকা রেড জোনে আছে। স্কুল বন্ধ। শুনে সে রেগে গিয়েছিল। কিছুতেই তাকে বোঝাতে পারছিলাম না। তার কথা, ষষ্ঠ গ্রেডের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়ার অনুমতি পেলে সপ্তম এবং অষ্টম গ্রেডের শিক্ষার্থীরা কেন যেতে পারবে না।

বিজ্ঞাপন

ইতালির শিক্ষামন্ত্রী লুসিয়া অ্যাঞ্জোলিনা আনিতার এই প্রতিবাদকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। কিছুদিন আগে এভাবে ক্লাস করার সময় আনিতা তার পেছনে ‘স্কুলে ক্লাস করা আমাদের অধিকার’ লেখা একটি পোস্টারও রেখেছিল। তার সেই ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইতালির শিক্ষামন্ত্রী আনিতাকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন।

আনিতা লেকোভ্যালি বলে, ‘শিক্ষামন্ত্রী আমাকে ডেকেছিলেন। তিনি আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। কারণ, আমার প্রতিবাদটি তাঁর পছন্দ হয়েছে। তিনি স্কুল খুলে দেওয়ার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন বলেও আমাকে কথা দিয়েছেন।’ তথ্যসূত্র: সিজিটিএন এবং দ্য সানডে টাইমস।

মন্তব্য পড়ুন 0