বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে গিয়েছিলেন প্রিয় স্যার একরামুল হককে
বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে গিয়েছিলেন প্রিয় স্যার একরামুল হককেছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকতা করতে বারণ করেছিলেন আমার ছোট চাচা। তিনি ছিলেন গ্রামের প্রাইমারি স্কুলশিক্ষক। বাড়িতে অনেকের সঙ্গে আলাপকালে গ্রামের এক প্রবীণ চাচা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘পড়ালেখা শেষ করে কী করবে?’ পাশে বসা এক ফুফা বলেছিলেন, ‘কেন! মাস্টারি করবে।’

সেই সময় ছোট চাচা আমার মাথা হাতিয়ে বলেছিলেন, ‘বাবা রে আর যা–ই করিস, মাস্টারি করবি না!’ আমি ছোট চাচার কথা রক্ষা করতে পারিনি।

এক পড়ন্ত বেলায় আমার সেই ছোট চাচা পুকুরপাড়ে পেঁয়াজখেত নিড়ানি দিচ্ছিলেন। সে সময়ে একটি মিষ্টি গানের সুরে, ‘পৃথিবী তো ভালোবাসে না, বাসিতে চায় না’, কে যেন গান গেয়ে খেতের আইল দিয়ে ফিরছিলেন গ্রামে। সেই মুহূর্তে ঘাস নিড়ানি কপালে ঠেস দিয়ে ধরে চাচা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘গানটা কে গায়?’

এরপর কিছু বোঝার আগেই হঠাৎ জোরে নিশ্বাস টেনে দুই হাত প্রসারিত করে মাটিতে চিত হয়ে পড়ে গেলেন চাচা। ধরাধরি করে বাড়ি আনা হলো, কিন্তু না ফেরার দেশেই পাড়ি দিলেন। চাচার কথা মনে হলে কষ্ট পাই, তবে আমার শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রগাঢ় বন্ধনে সেই কষ্ট অনেক আগেই মন থেকে মুছে গেছে।

খেলার জগতে বিকেএসপি একটি অনন্য ও ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আজ এই প্রতিষ্ঠানের বয়স ৩৪ বছর প্রায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই অতিবাহিত হতে হয়েছে এবং হচ্ছে। গাজীপুরের ভাওয়াল গড়ের কিছু জায়গাজুড়ে বিকেএসপির অবস্থান। পূর্বে ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে এর পরিমাণ প্রায় ১৩৩ একর। এখানে গজারিগাছ প্রায় শূন্য, তবে এই স্থানেই চাষ করা হয় খেলোয়াড়। গ্রামের চাষিরা খেতে পরিচর্যা করে দেশের জনগণের খাদ্যের চাহিদা মেটান। ঠিক তেমনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ছেলেমেয়েদের চাষিদের মতোই পরিচর্যা করে দেশের খেলার অঙ্গনকে সজল ও উজ্জ্বল রেখেছে এই বিকেএসপি। বাবা–মায়ের অবর্তমানে শিক্ষক-প্রশিক্ষকের ছায়া ও মায়ায় বেড়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। তারা মাথা উঁচু করে আলো ছড়ায় ক্রীড়াজগতে। দেশের অন্ধকার জগৎ থেকে মুক্ত থেকে আলোর পথে পা বাড়ায়।

default-image
বিজ্ঞাপন

বিকেএসপির যাত্রা শুরুর পর এই অবহেলিত অঞ্চল বর্তমানে অনেক উন্নত। ৩০ বছর আগে যা দেখেছি, তা বর্তমানে অভূতপূর্ব পরিবর্তন। এলাকার জনগণের মনমানসিকতা অনেক উন্নত হয়েছে। বিকেএসপি হওয়ায় এই এলাকার জন্য আশীর্বাদ। দেখেছি, এলাকার বেশ কিছু শিক্ষার্থী, যারা সাঁতার, হকি, জিমনাস্টিক, টেনিস, অ্যাথলেটিকস ও অন্যান্য বিভাগে ভর্তি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তারা খেলাধুলায় ও পড়ালেখায় বেশ সফলতা অর্জন করেছে। শিক্ষক-প্রশিক্ষকের প্রাণবন্ত প্রচেষ্টায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষিত খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তরিকতা ও শিক্ষক-প্রশিক্ষকের প্রচেষ্টা অতুলনীয়।

খেলোয়াড় মানেই ধরে নেওয়া হয় একটু চঞ্চল, ডানপিটে, পড়ালেখায় অমনোযোগী। তবে তাদের সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে প্রকৃত উন্নতমানের শিক্ষিত খেলোয়াড় তৈরি করা হয়। ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই সবাই একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রশিক্ষক-শিক্ষকের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। তবে এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করানোর দায়িত্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।

অবহেলিত নারী কোনো দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অন্তরায়। ১৯৯৭ সালে এই প্রতিষ্ঠানে প্রথম মেয়ে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমাদের মতো দেশে মেয়েদের খেলার জগতে ভেড়ানো সত্যই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। সাধারণত দেশের গরিব ঘরের সন্তানেরাই এই প্রতিষ্ঠানে ভিড় জমিয়েছে। তাদের কাছে বিকেএসপি খেলার জগতে একটি তীর্থস্থান।

এই নির্মল সবুজ ছায়াঘেরা মনোরম পরিবেশে ছাত্রছাত্রী ভর্তির প্রাক্কালে মেনে নিতে কষ্ট হতো। তাদের বাবা-মাকে ছেড়ে এই আবাসিক প্রতিষ্ঠানে মন টেকে না। তবে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পর তাদের বিকেএসপিকে ভালো লাগতে শুরু করে। প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করার পর এই প্রতিষ্ঠানের মায়া আরও বেড়ে যায়। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সেই অনুভূতি বুঝতে পারি। আরও বুঝতে পারি, বিকেএসপির পরিবেশ ও তাদের শিক্ষাগুরুদের অন্তর থেকেই উপলব্ধি করে। বিশেষ করে বিকেএসপির প্রত্যেকটি মানুষ তাদের অন্তরে জায়গা করে নেয়। গ্রাউন্ডসম্যান থেকে শুরু করে হাউস বেয়ারা, ডাইনিং বয়। এখানকার মাঠ, মাঠের ঘাস, গাছপালা, শ্রেণিকক্ষ, হোস্টেল—সবকিছুই তাদের অন্তরে চিরস্থায়ী জায়গা করে নেয়।

default-image

১৯৮৮ সাল সারা দেশে ভয়াবহ বন্যা। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। নবীনগর থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে বিকেএসপিতে যোগদান করি প্রভাষক (গণিত) পদে। দীর্ঘ ৩২ বছর শিক্ষকতা জীবনে অনেক নামীদামি খেলোয়াড়কে ছাত্র হিসেবে পেয়েছি।

তাদের খেলা শেখাইনি, তবে দেশের মানুষ ও দেশকে ভালোবাসতে শিখিয়েছি। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি আমার স্নেহ ও ভালোবাসা রেললাইনের মতোই বহে সমান্তরাল। শিক্ষার্থীদের কাছে আমি গণিতের মাস্টার হিসেবে পরিচিত হতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমি গণিতের পণ্ডিত নই, তবে যেটুকু শিক্ষা দিয়েছি, তা আন্তরিকতার সঙ্গেই দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাক্ষাতে অথবা টেলিফোনে আলাপ হলে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তাদের যেমন সোহাগ করেছি, তেমনি শাসন করেছি। আমার চাওয়া–পাওয়ার কিছু নেই। যেটুকু পেয়েছি, তা শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, যার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও কখনোই বুঝতে দিইনি আমার কোনো দুঃখ আছে। সব সময় বর্তমানকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছি। অতীত বা ভবিষ্যৎকে পেছনে বা সামনে না রেখে বর্তমানকে উপভোগ করার চেষ্টা করেছি।

বিকেএসপি যা দিয়েছে, তা ভোলার নয়; চির অম্লান ও স্মরণীয়। চাকরিজীবন শেষে হাজারো শিক্ষার্থীর মুখচ্ছবি অন্তরে ভেসে উঠবে, আনন্দ-বেদনার মহিমায় নয়নের জলে সিক্ত হবে সেই সব সুখস্মৃতি।

১৯৯০-৯১ সাল তখন দেশে ফুটবলের জোয়ার। বিকেএসপির সোনার ছেলেরা ডানা কাপ ও গোথিয়া কাপ জয় করে দেশে ফিরল। তাদের বিমানবন্দরে ও বিকেএসপিতে যে অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছিল, তা আজও অন্তরে নাড়া দেয়। সেই সময় বিকেএসপি দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। খেলাধুলার প্রতি জনগণের আগ্রহ বেশ বৃদ্ধি পায়। বীরের বেশে ফিরে আসা ছেলেদের ফুটবল দলকে নিয়ে প্রথম যশোরে সামসুল হুদা গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করলাম। টিম ম্যানেজার আমি, কোচ হিসেবে জসিম ভাই। টুর্নামেন্টে আমরাই চ্যাম্পিয়ন হলাম।

বিজ্ঞাপন

ফাইনাল খেলায় বিদেশি কোচ (কোরিয়ান) মি. কিলসহ আমি মাঠের কিনারে ঘাসের ওপর চাদর বিছিয়ে বসে খেলা দেখছিলাম। উপচে পড়া ভিড়, স্টেডিয়ামে তিল ধারণের জায়গা খালি নেই। মাঠে কিছু দর্শক এই বুঝি আমাদের গায়ের ওপর পড়ল বলে। আমার কিছু শিক্ষার্থী আমাদের ঘিরে চিৎকার করছিল, ‘আপনারা কি স্যারের গায়ের ওপর পড়বেন?’ সেই মুহূর্তে এক দর্শক বলছিলেন, ‘জাতা খাওয়া স্যার নিয়ে আসেন কেন?” আমাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছিলেন।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে রাতে ডিনারের আয়োজন। সবাই লাইন ধরে হোটেলে প্রবেশ করছি। সেই সময় হোটেল ম্যানেজার ভুল করে আমার পিঠ চাপড়িয়ে বলেছিলেন, ‘আরে ৫ নম্বর দারুণ খেলেছ।’ ৫ নম্বর খেলোয়াড় ছিল ইউনুস নামে এক ছাত্র।

ডিফেন্সে অসাধারণ খেলত। সে ‘রাডার’ ইউনুস নামে বেশ জনপ্রিয়। সেকালে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ছিল খুবই মধুর। তবে দুষ্টুমি বা বেয়াদবি কখনোই ক্ষমা করা হতো না, শাস্তি অবধারিত।

আমি যেখানেই যাই, আমার চোখ দুটি তাদের খোঁজে। শুধু স্বনামধন্যকে তালাশ করি, তা-না। আমার কাছে সব শিক্ষার্থীই সমান, কখনোই বাঁকা চোখে তাকাইনি। দুষ্টুমির জন্য শাসন করেছি, পরক্ষণে আদরও করেছি। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে তাদেরকে আমার জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর গল্প শোনাতাম। আমার সেই গল্প নাই–বা বলি। আমার ছাত্রদের মজার গল্পই আপনাদের শোনাই।

default-image

একরাতে হাউস (ছাত্র হোস্টেল) ভিজিটে গেলাম। এক প্রতিভাবান খেলোয়াড় (নাম বললে হয়তো সবাই চিনবেন) নামাজে দাঁড়িয়ে আছে। আমি ভাবলাম, এটা কোন ওয়াক্তের নামাজ। ভালো করে লক্ষ করলাম, ছেলেটির কানে মোবাইলের হেডফোনের তার। আমি অপেক্ষা করছি, ভান করা নামাজ শেষে সালাম ফেরাতেই আমার দিকে চোখ পড়ল। ছাত্রটিকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কি সুরা পড়ে নামাজ পড়লি?’ ছাত্রটি আমার ভয়ে কাঁপছে। কাঁপা কাঁপা গলায় বলছিল! ‘স্যার আপনার ভয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে গেছি, ক্ষমা করে দেন। সত্যি কথা বলতে, স্যার, গান শুনে অঙ্ক করতে ভালো লাগে।’ আমি বললাম, ‘তোমার এখন সেই বয়স হয়নি যে গান শুনে অঙ্ক করতে হবে। আগে সুর করে নামতা শিখো, সেটাই পরে অঙ্কে কাজে লাগবে।’ অভিভাবক দিবসে অভিভাবকের কাছে ফোন দিয়ে বলেছিলাম, এবারের মতো ক্ষমা করা হলো, পরবর্তী সময়ে ফোন পেলে আপনার সন্তানকে বহিষ্কার করা হবে।

৩২ বছর শিক্ষকতার জীবনে অনেক ধরনের শিক্ষার্থী পেয়েছি। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী খেলায় ভালো হলেও পড়ালেখায় দুর্বল। খুব কমসংখ্যক ছাত্রছাত্রী পেয়েছি, যারা ‍উভয় ক্ষেত্রে অসাধারণ। অনেকের প্রতিভা অনেক ভালো, যা পরবর্তী সময়ে বিকশিত হয়েছে। খেলায় ভালো করতে না পারলেও জীবনযুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে সমাজের বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত আছে।

যেখানেই যাই, আমার মন বলে, ছাত্রছাত্রীরা আমার আশপাশেই আছে। সে কারণে আমার সাহস দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তাই তো আমার চোখ দুটি সর্বক্ষণ তাদেরই খোঁজে।

শিক্ষার্থীদের অন্তরজুড়ে আছে বিকেএসপির নির্মল পরিবেশ এবং ছায়া সুনিবিড় ও শান্তিময় কোলাহলের এক বিশাল ছবি। দেশে অথবা বিদেশে অবস্থানরত সবাই মুছে যাওয়া দিনগুলো ফিরে পাওয়ার আশায় মাঝেমধ্যেই মিলিত হয় একত্রে, সেই মুহূর্তে স্মৃতিগুলো হৃদয়ে দোলা দেয়। একদিন আমিও অনুভব করব, ঠিক তাদের মতোই।

বিকেএসপিতে নেই জিপিএ ফাইভ নামের সোনার হরিণের পেছনে ছোটা। এখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর লক্ষ্য একজন দেশসেরা খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা। খেলাধুলার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় প্রকৃত মানুষ হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়। ক্লাসের ফাঁকে তাদের প্রকৃত মানুষ হওয়ার গল্প শোনাতাম।

আমার শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক ও দেশপ্রেমিক হতে উদ্বুদ্ধ করছি। কতটা সফল হয়েছি, তা আমার ছাত্রছাত্রীরাই ভালো জানে। একটা ঘটনা বলি, একদিন প্রাক্তন দুই ছাত্র সালাম দিয়ে আমার অফিসকক্ষে প্রবেশ করল। এদের দেশের অধিকাংশ মানুষ একনামে চেনে এবং বিদেশে তাদের আছে যথেষ্ট সুনাম। আমার বসার টেবিলের সামনে দুটি খালি চেয়ারে হাত লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তাদেরকে চেয়ারে বসতে বললাম, কিন্তু তারা আমার সামনে চেয়ারে বসছে না। কয়েকবার বললাম, তবু একইভাবে দাঁড়িয়ে থেকে শুধু বলছে, ‘না স্যার’। আমি তাদেরকে স্যালুট দিয়ে বললাম, ‘এই মাস্টারের আর কী পাওয়ার আছে।’

যাদের পরিচয়ে আমি পরিচিত হই। মাস্টারকে এই সম্মান দেখানোর জন্য সত্যই আমি মুগ্ধ। এখানেই শিক্ষকতার আসল প্রাপ্তি, শ্রদ্ধা–সম্মান আর আত্মতুষ্টি, যা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

*একরামুল হক, সাবেক শিক্ষক, বিকেএসপি

মন্তব্য পড়ুন 0