এই দৃশ্য ২ এপ্রিলের। আন্তবিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রোগ্রামিং ক্লাব। সিনিয়র ও জুনিয়র বিভাগে প্রায় ৮০টি দল অংশ নেয় এই প্রতিযোগিতায়। যেসব দলের তিন সদস্যই নারী, তাদের জন্য ছিল বিশেষ পুরস্কার।

আপাতদৃষ্টে এ আয়োজনকে সহজ, সাধারণ মনে হতে পারে। ভেতরে ভেতরে এটি কিন্তু বিশাল এক মহাযজ্ঞের মহড়ামাত্র। কারণ এ বছরই আন্তর্জাতিক কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার (আইসিপিসি) চূড়ান্ত পর্ব (ওয়ার্ল্ড ফাইনাল) আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)। আইসিপিসিকে বলা হয় প্রোগ্রামিংয়ের বিশ্বকাপ। এত বড় অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে ইউএপির দায়িত্ব কম নয়। তাই আগে থেকেই শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সবাই প্রস্তুতিটা ঝালাই করে নিচ্ছেন।

ইউএপির প্রোগ্রামিং ক্লাবের এই আয়োজনের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ কায়কোবাদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল আহসান, ইউএপির কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলাম এবং প্রোগ্রামিং ক্লাবের আহ্বায়ক প্রভাষক মো. নাহিয়ান উদ্দীন।

অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি অঙ্গ–প্রত্যঙ্গের বিকাশের জন্য অনুশীলন প্রয়োজন। না দৌড়ালে যেমন পায়ের মাংসপেশি শক্তিশালী হয় না, তেমনি মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন অনুশীলন। সেটা হলো চিন্তা করা এবং সমস্যার সমাধান করা। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় আমরা এই কাজই করি। এবারে আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল বাংলাদেশের মাটিতে হবে। এটি আমাদের জন্য বিশাল ব্যাপার, যা অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের জন্য সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, তিনি তা দেখে যেতে পারলেন না। বিশ শতকের যে চ্যালেঞ্জ, তা আমাদের দেশ মোকাবিলা করতে পারবে কেবল মস্তিষ্কের কাজের দক্ষতা দিয়ে। তাহলেই আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে পারব।’

সবকিছু ঠিক থাকলে, এ বছরের নভেম্বরেই আসছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৪৫তম আইসিপিসির চূড়ান্ত পর্বের পর্দা উঠতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। এ প্রসঙ্গে ইউএপির উপাচার্য ড. কামরুল আহসান বলেন, ‘এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আমরা আমাদের দেশে করতে পারছি বলে আমরা সত্যিই গর্বিত। একই সঙ্গে আমরা এবারের আয়োজনের একাডেমিক হোস্ট। জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারকে ছাড়া এই সম্মান অর্জন সম্ভব ছিল না। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা উৎসাহ পাবে। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নে কাজ করব। প্রতিনিয়ত চর্চার মাধ্যমেই প্রতিযোগীর সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উঠে আসা মেধাবীদের নিবিড় প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।’

প্রতিযোগিতার আয়োজক, প্রোগ্রামিং ক্লাবের আহ্বায়ক মো. নাহিয়ান উদ্দীন বলেন, ‘ঠান্ডা মাথায় ধৈর্যসহকারে চিন্তা করলে প্রোগ্রামিং শেখাটা খুব সহজ এবং আনন্দের। শিক্ষক হিসেবে আমার সব সময়ের চাওয়া, আমার ছাত্রছাত্রীরা যেন প্রোগ্রামিং বিষয়টা উপভোগ করে। একটা প্রোগ্রাম লিখতে বসলে যেন সবাই কৌতূহল ও আগ্রহ অনুভব করে। একটা ধাঁধা মেলানোর সময় আমরা যেমনটা কৌতূহলী হয়ে উঠি, ঠিক তেমনই। এ বছরের আইসিপিসি চূড়ান্ত পর্বের আয়োজক হিসেবে আমাদের স্বপ্নটাও বড়। আমরা চাই, আমাদের দল সেখানে ভালো করুক। তবে এটা কেবল পথচলার শুরু, সামনে আরও অনেক পথ বাকি।’