বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নেহাল আহমেদ আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের এইচএসসির অভিজ্ঞতাটি তাঁদের সামনে আছে। আর যেহেতু কেবল আবশ্যিক বিষয়, ফলে খুব সমস্যা হবে না এই কাজ করতে।

আজ ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, করোনো পরিস্থিতি অনুকূলে এলে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচির আলোকে গ্রুপভিত্তিক শুধু তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ের ওপর পরীক্ষার সময় ও পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। বিভাগভিত্তিক নৈর্বাচনিক বিষয়, যেমন বিজ্ঞান বিভাগের জন্য পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ইত্যাদি। সম্ভাব্য সময় অনুযায়ী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হবে।

জেএসসি পর্যায়ে যেসব বিষয় পড়ানো হয়, তার সব কটি এসএসসি বা এইচএসসির স্তরে থাকে না। আবার এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়লেও অনেকে উচ্চমাধ্যমিকে গিয়ে বিভাগ পরিবর্তন করে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষায় পড়ে। ফলে পড়ার বিষয়ও পরিবর্তিত হয়। আবার পরীক্ষা না হলে আগের পাবলিক পরীক্ষার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নম্বরকে বিবেচনা করে কাজটি করা হয়। এটি করা হয় বিষয় ম্যাপিং করে। যেমন গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হয়েছিল বিষয় ম্যাপিং করে। তখন জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষার আবশ্যিক বিষয় বাংলা, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমানের আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের নম্বরের ৭৫ শতাংশ বিবেচনা করে এইচএসসিতে বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এইচএসসির এই সিদ্ধান্ত সামনে রেখে আলোচনা করে বিষয় ম্যাপিং চূড়ান্ত করা হবে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমিরুল ইসলাম।

প্রতিবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি এবং এপ্রিল মাসে এইচএসসি পরীক্ষা হতো। কিন্তু করোনার কারণে গত বছর থেকে পুরো শিক্ষাপঞ্জি এলোমেলো হয়ে গেছে। করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের পরিকল্পনায় ছিল, সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করিয়ে এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার।

কিন্তু এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হবে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ৩১ জুলাই পর্যন্ত ছুটি আছে। কিন্তু সরকার ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবারও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটিও স্বাভাবিকভাবে বাড়বে। এর মধ্যে আজ শিক্ষামন্ত্রী দেশে এখন সংক্রমণের যে হার এবং মৃত্যুর সংখ্যাও যা, তাতে এই মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে বিষয়টি আরও স্পষ্ট যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিগগির আর খুলছে না। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মুখে থাকা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিকল্প সিদ্ধান্ত জানাল সরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, আবশ্যিক বিষয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, আইসিটি ও ধর্ম বিষয়ের মূল্যায়ন জেএসসি ও এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় হয়েছে। কিন্তু বিভাগভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ের মূল্যায়ন বোর্ডের পরীক্ষায় হয়নি। এ ছাড়া উচ্চতর শিক্ষার জন্যও এই বিভাগভিত্তিক বিষয়গুলোর মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেই কারণেই বিভাগভিত্তিক বিষয়গুলোর মূল্যায়ন জরুরি। সেই চিন্তা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমত, পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়নটি হচ্ছে, এটি ভালো দিক। কিন্তু তাঁর পরামর্শ হলো বাংলা ও ইংরেজিতে অন্তত একটি করে পত্রে (দুই পত্রকে একটি করে) এবং গণিত বিষয়েও মূল্যায়ন হওয়া উচিত।

পরীক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন