এদিকে দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। পরীক্ষার পর মুক্তমঞ্চ, ভলিবল গ্রাউন্ড, কাঁঠালতলায় শিক্ষার্থীদের আড্ডা দিতে দেখা গেছে। শিক্ষকদের উপস্থিতি দেখা গেছে প্রতিটি বিভাগে। প্রশাসনিক ভবনে পুরোদমে চলছে কর্মযজ্ঞ। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে চলছে পরীক্ষার নানা প্রস্তুতিও।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া, গণস্বাক্ষর ও বিক্ষোভ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৩ জুন একাডেমিক কাউন্সিলের সভাপতি ও উপাচার্য এমরান কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের অনলাইন সভায় সশরীর চূড়ান্ত (ফাইনাল) ও মিডটার্ম পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ জুন সকালে ১০টায় চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। ১৩ জুন ৮টি বিভাগের ১৩টি পরীক্ষার মধ্যে ১২টি পরীক্ষা হয়। ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থীর জ্বর থাকায় পরীক্ষা কমিটি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি ২৪৪ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা স্থগিত করে। ১৪ জুন ৬টি বিভাগের ৯টি পরীক্ষা হয়। ১৫ জুন আট বিভাগের সাতটি পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে চারজন শিক্ষার্থীর করোনা উপসর্গ থাকায় বাংলা বিভাগের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের বাংলা ২১০৩ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা স্থগিত হয়। ১৬ জুন ১৩টি বিভাগের ১৫টি পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে ইংরেজি বিভাগের একটি পরীক্ষা স্থগিত হয়। আজ ১০টি বিভাগের ১৪টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী শনিবার ছয়টি বিভাগের আটটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ১৫ জুলাই পর্যন্ত টানা পরীক্ষা চলবে। ঈদের ছুটির পর ২৯ জুলাই থেকে পুনরায় পুরোদমে পরীক্ষা হবে। ইতিমধ্যে রুটিন চূড়ান্ত হয়েছে।

আজ বেলা একটায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবনের চতুর্থ তলায় ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাকিং বিভাগে দেখা গেল, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের বিজনেস ফিন্যান্স ১১১ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা হচ্ছে। প্রতি বেঞ্চে মাস্ক পরে একজন করে পরীক্ষা দিচ্ছেন। এ কক্ষে ১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছেন।

জানতে চাইলে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাকিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফেরদৌস জাহান বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের কারণে প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা আজ প্রথমবারের মতো চূড়ান্ত পরীক্ষা দিলেন। এক বছর আগে এ ব্যাচের ক্লাস শুরু হয়েছিল। করোনা না থাকলে এত দিনে তাঁদের দুটি সেমিস্টার ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নিচ্ছি। পরীক্ষার হলে পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। শিক্ষক–শিক্ষার্থী সবাই সেটি মানছেন।’

এদিকে দুপুরে মুক্তমঞ্চে ও কাঁঠালতলায় কথা হয় শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান, ফারহানা আক্তার ও নাজমুল হাসানের সঙ্গে। তাঁরা বলছিলেন, ‘অনেক দিন পর মুক্ত ক্যাম্পাসে এসে ভালো লাগছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু বাসে স্বাস্থ্যবিধি নেই। একজনের গা ঘেঁষে আরেকজনকে বসতে হয়েছে। পরীক্ষার হলে স্বাস্থ্যবিধি আছে।’
বাংলা বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিল্কী বলেন, চার শিক্ষার্থীর করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় বাংলার একটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরে ওই পরীক্ষা নেওয়া হবে।

ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই পালা করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এ দপ্তরে এখন ব্যস্ততা বেশি। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পরীক্ষা নিচ্ছে বিভাগগুলো।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবীর চৌধুরী বলেন, পরীক্ষা নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কারও শরীর খারাপ থাকলে পরীক্ষা স্থগিত করা হচ্ছে। স্থগিত পরীক্ষা পরে নেওয়া হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটানা পরীক্ষা চলছে।