বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিক্ষাবিদদের অনেকেই পিইসি পরীক্ষা বাদ দেওয়ার পক্ষে। আপনার মত কী?

তারিক মনজুর: বাংলাদেশে পিইসি পরীক্ষা চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীর প্রকৃত জ্ঞান অর্জনে মারাত্মকভাবে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের দেখে বোঝা যায়। এ ছাড়া এটা তো সবারই জানা, এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বাজারের গাইড-বিক্রেতা, কোচিং সেন্টারের মালিক, স্কুলের শিক্ষকসহ সুবিধাভোগী কিছু লোকের মধ্যে অর্থ-বাণিজ্যের খেলা চলে। এ কারণে, শুরু থেকেই শিক্ষাবিদেরা এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও শিক্ষার্থীদের পড়ার চাপ কমাতে এবং বইয়ের ভার কমাতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই পরীক্ষা চালু রাখা মানে, বাংলাদেশের শিক্ষার বুনিয়াদকে ধ্বংস করা।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের শিখন ও আদর্শিক মূল্যায়ন কীভাবে হতে পারে বলে মনে করেন?

তারিক মনজুর: নিশ্চয় শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে, কিংবা শিক্ষার সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তির মধ্যে এই ধারণা রয়েছে যে পরীক্ষার মাধ্যমে আর কিছু না হোক, কিছু পড়াশোনা তো হয়। তাদের কাছে শিক্ষা মানে বেশি বেশি পড়া, আর বেশি নম্বর পাওয়া। এর ফলাফল হয়েছে এই, পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে একই জাতীয় অন্য প্রশ্ন দিলে শিক্ষার্থীরা লিখতে পারে না। এর মানে হলো, শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিখন-যোগ্যতা অর্জন করছে না। যোগ্যতা অর্জিত হচ্ছে কি হচ্ছে না, সেটি পাঁচ-ছয় বছর পড়াশোনা শেষ করে একবার পরীক্ষা নিয়ে যাচাই করার বিষয় নয়। এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া শ্রেণিকক্ষেই চালাতে হবে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ে মূল্যায়নে অংশ নেবে। এমনকি শ্রেণিকক্ষের বাইরে অভিভাবকও যুক্ত হবেন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে।

পরীক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন