বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে বক্তব্য চাওয়া হয়েছিল। তবে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় অধিকতর তদন্ত কমিটি হয়েছে। তবে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কমিটির কাজে অগ্রগতি নেই।

মন্ত্রণালয় কী কী ব্যবস্থা নিতে পারে, তা জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একজন সদস্য। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসির তদন্তের ভিত্তিতে প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটকে ব্যবস্থা নিতে বলতে পারে। তারা যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আচার্যের (রাষ্ট্রপতি) পরামর্শে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। তিনি বলেন, সাবেক উপাচার্যের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য সংস্থার মাধ্যমে মামলা করে বিচারের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া যায়। চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও মামলা করতে পারে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে গত ৬ মে ছিল অধ্যাপক আবদুস সোবহানের শেষ কর্মদিবস। ওই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে ১৩৮ জনকে ‘অ্যাডহক’ (অস্থায়ী) ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। উপাচার্যের বিদায়ের দিন এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

ঘটনার দিনই এই নিয়োগকে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত বলেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই দিন এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করতে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মো. আলমগীরকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ঈদুল ফিতরের পর জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে কমিটি ১৩৮ জনের নিয়োগকে সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়োগকে অবৈধ বলার পর নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যোগদান স্থগিত করা হয়। এখন তাঁরা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

শুধু এই নিয়োগ নয়, অধ্যাপক আবদুস সোবহান উপাচার্যের বিরুদ্ধে দায়িত্ব থাকার সময়ে নীতিমালা শিথিল করে এবং অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তাঁর মেয়ে ও জামাতাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়াসহ আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ইউজিসির তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তখনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই মাসেও নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়নি। উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা সহ-উপাচার্য
আনন্দ কুমার সাহার মেয়াদ ১৬ জুলাই শেষ হয়। গতকাল উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলামকে। এর আগে ১৩ জুলাই তাঁকে সহ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে সাবেক উপাচার্য আবদুস সোবহানসহ তাঁর প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। তাঁকে সহ–উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশ সুলতান-উল-ইসলামের নিয়োগেরও বিরোধিতা শুরু করেছে। অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম দাবি করেন, অন্যায় ধরিয়ে দেওয়ায় একটি পক্ষ তাঁর বিরোধিতা করছে।

নিয়মিত উপাচার্য না থাকা ও ১৩৮ জনকে নিয়োগ নিয়ে জটিলতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম নানাভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ইউজিসির সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান অধ্যাপক মো. আলমগীর গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেকোনো বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। না হয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। দেখে মনে হচ্ছে, এখানেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে। ফলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন