বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আরও আছে নন–ক্রেডিট এসেনশিয়াল স্কিলস কোর্সগুলো। শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপে প্রয়োজনীয় স্টাডি স্কিলস, হেলদি লাইফ স্কিলস, প্রফেশনাল স্কিলস আর সোশ্যাল স্কিলস কর্মশালার ব্যবস্থা। আর আগামী বিশ্বের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীরা টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা পান বিশ্ববিদ্যালয়ের এসডিজি লক্ষ্য থেকে।

‘গ্রেড অর্জনের চেয়ে শিক্ষা অর্জনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি ইউল্যাবের ইংরেজি বিভাগে পড়তে গিয়ে লিবারেল আর্টস শিক্ষার সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পেরেছি। এটি এমন একটি জ্ঞান সাধনা, যা আমাদের পুরো জীবনকে সম্পৃক্ত করে।’ ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ২০১৬ সালের ভ্যালেডিকটরিয়ান হোসনে আরা ইয়াসমিন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে এভাবেই তাঁর নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।

হোসনে আরার কথাগুলো বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মনের কথার প্রতিধ্বনি। যখন নতুন শিক্ষার্থীরা ইউল্যাব ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন, তখন সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে এমনভাবে তাঁরা মিশে যান যে ক্যাম্পাসই তাঁদের দ্বিতীয় বাড়িতে পরিণত হয়। চার বছর পর এমএ যাঁরা করেন, তাঁদের জন্য আরও এক বছর বিভাগ হয়ে ওঠে এক পরিবার।

default-image

ইউল্যাবের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক আরিফা গনি রহমানের ভাষায়, ইংরেজি বিভাগ একটি পরিবারের মতো, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে সারা জীবনের জন্য স্মৃতি গাঁথেন। শিক্ষার্থীরা এখানে একটি আন্তবিভাগীয় শিক্ষণ পদ্ধতির পরিবেশ পান, যা তাঁদের জীবনব্যাপী শিক্ষা গ্রহণ ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনায় উৎসাহিত করে এবং এটি তাঁদের বিজ্ঞ ও নৈতিকতাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।

ইউল্যাবের ইংরেজি বিভাগের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন দেশবরেণ্য শিক্ষকেরা। একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, স্বনামধন্য কবি অধ্যাপক কায়সার হক, খ্যাতিমান কলাম লেখক ও অনুবাদক অধ্যাপক সামসাদ মর্তূজা, অধ্যাপক কাজী আনিস আহমেদ, অধ্যাপক শায়লা সুলতানা ও অধ্যাপক আজফার হুসাইনকে আমরা আলোর মশালের সঙ্গে তুলনা করতে পারি, যাঁদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা আলোকিত হতে পারেন। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের ৫০ শতাংশই পিএইচডি ডিগ্রিধারী, বাকিদের কমপক্ষে বহির্বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে।

ইউল্যাবের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক। তাঁর ভাষায়, ‘ইউল্যাবের ইংলিশ অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগ আমাকে এমন বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ দিয়েছে, যা আমাকে নতুন চিন্তার অন্বেষণ করতে সাহস যুগিয়েছে এবং এটা আমার কর্মজীবনে নতুনকে স্বাগত জানাতে এবং সহজেই মানিয়ে নিতে খুব সহায়ক হয়েছে।’

এ বিভাগের শিক্ষকেরা চিন্তাশীল, সচেতন, সহনশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মে নিয়োজিত। কোর্সগুলো এখানে কোনো গতানুগতিক নির্দিষ্ট সীমায় আবদ্ধ নয়, বরং উন্মুক্ত। এই গতিশীল পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সংবেদনশীলতা বিকাশে বিশেষভাবে সহযোগিতা করে। ফলে ইউল্যাবের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকেরা যেকোনো পেশাগত চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সক্ষম হয়েই গড়ে ওঠেন। শিক্ষকতা, কমিউনিকেশন ও মিডিয়া, ব্যবসায় উদ্যোগ ও বিপণন, এনজিও, সরকারি–বেসকারি ক্ষেত্র, যা–ই বলি না কেন, এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা যোগ্যতায় সহজেই উতরে যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা প্রচলিত পাঠ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বিশ্ব সাহিত্যসম্ভার থেকেও জ্ঞানের সমন্বয় করতে পারেন। তাঁরা ভাষাবিজ্ঞান ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার বিভিন্ন আলোচনার সঙ্গে জড়িত হতে পারেন এবং সৃজনশীল লেখার বিভিন্ন ধারা, চলচ্চিত্রের নানা দিক ও ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ অন্বেষণের শিক্ষা লাভ করেন।

অপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জয়নাব তাবাসসুম বানুর মতে, ‘ইউল্যাবের ইংরেজি বিভাগ আমার মাতৃতুল্য প্রতিষ্ঠান। শিশুরা যেমন মায়ের কাছে শেখে, আমিও তেমন এখান থেকে শিখেছি একটি শিশুর মতোই।’ ইংরেজি বিভাগের অতুলনীয় যত্নের কথাই উঠে এসেছে জয়নাবের কথায়।

ইউল্যাবের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী পিউ চৌধুরী বর্তমানে ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তিধারী স্নাতক ছাত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘ইংলিশ অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের একজন শিক্ষা সহকারী, শিক্ষার্থীদের ম্যাগাজিন ‘MUSE’–এর সম্পাদক, পেপার কেনো ক্লাবের সদস্য ও ইউল্যাবের রিসার্চ সেন্টারে অনুবাদকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যা পেয়েছি, সেটিই আজকের আমাকে গড়ে দিয়েছে এবং আমার স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে।’

প্রতিটি সেমিস্টারে এ বিভাগ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা আয়োজন করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকনির্দেশনার আলোকে এ বিভাগ আজকের বিশ্বে সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সব উপাদান সন্নিবেশ করেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সম্পাদনায় ম্যাগাজিন ‘MUSE’, ইংলিশ জোন রাইটিং সেন্টার শিক্ষার্থীদের হাতে–কলমে শেখার সুযোগ করেছে।

২০১৫ সাল থেকে নিয়মিত প্রতিবছর ইউল্যাবের ইংরেজি বিভাগ আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সম্মেলন, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকে। সারা বাংলাদেশে সরকারি–বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, সাংস্কৃতিক সচেতনতা ও সৌহার্দ্য বাড়ানোর জন্য এ তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভাগটি সেই স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্কলারস প্রোগ্রাম চালু করেছে, যাঁরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষার গভীর অন্বেষণে স্বচেষ্ট। এটি তাঁদের জন্য একটি সহায়ক ক্ষেত্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে। বিভাগের কারিকুলাম ইন্টিগ্রেশন প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের সুযোগ প্রদান করে প্রতি সেমিস্টারে এমন প্রকল্প তৈরি করতে, যা তাঁদের কোর্সের উপকরণগুলোকে সামাজিকভাবে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে।

বিভাগটি ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করে। স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের তিনটি ধারায় অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে—লিটারেচার অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ, অ্যাপলাইড লিঙ্গুইস্টিকস অ্যান্ড টেসল এবং বাংলাদেশের প্রথম ক্রিয়েটিভ রাইটিং ধারা। সমালোচনামূলক ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা তৈরিতে, অপরিচিত বিশ্বে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে এবং নতুন নতুন মানবিক চিন্তার পথ উন্মুক্ত করতে শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিভাগ স্বকীয় পাঠ্যক্রম সাজিয়েছে। চলমান বিশ্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং উদ্ভূত নতুন বিষয়াবলি আত্মস্থ করতে এ বিভাগ পর্যায়ক্রমে কারিকুলাম সংযোজন–বিয়োজন করে থাকে। এ ছাড়া বিভাগটির কোর্সগুলো ফলাফলভিত্তিক এবং এসডিজি লক্ষ্যের সঙ্গে সংযুক্ত, যা শ্রেণিকক্ষে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি ইউল্যাবের সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজের সঙ্গে যৌথভাবে ইংলিশ অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগ ‘এনটেঙ্গলড ইংলিশেজ ইন ট্র্যান্সলোকাল স্পেসেস’ শিরোনামে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে, যাতে বিশ্ববরেণ্য ভাষাতাত্ত্বিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির ইমেরিটাস অধ্যাপক অ্যালেসটার পেনিকুক মূল আলোচক হিসেবে যোগ দেন। ১১ দেশের বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীরা এ সম্মেলনে যোগ দেন। ইংরেজি ভাষা ব্যক্তিক ও সামষ্ঠিক জীবনের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বস্তুগত বাস্তবতার সঙ্গে কতটুকু সম্পৃক্ত, তা তুলে আনাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ইউল্যাবের ইংরেজি বিভাগ প্রতিবছর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন আয়োজন করে থাকে।

ইউল্যাবের ইংলিশ অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগে যেভাবে ভর্তি হওয়া যাবে

এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন বৃত্তি ও টিউশন ফি মওকুফের সুবিধা আছে এখানে। এ ছাড়া প্রতিটি সেমিস্টারে ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীরা টিউশন ফিতে শতভাগ পর্যন্ত মেধাবৃত্তি পেতে পারেন। অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই ভর্তি হওয়ার সুযোগ আছে। বিস্তারিত জানা যাবে https://admissions.ulab.edu.bd/ এ ঠিকানায়।

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন