default-image

দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রার শুরুর দিকে, ১৯৯৫ সালে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। একজন বড় মানের শিক্ষাবিদ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। ড. এ বি এম মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের খ্যাতিমান অধ্যাপক। বহু বই লিখেছেন তিনি। মানবাধিকার বিজ্ঞানী হিসেবেও তাঁর পরিচিতি আছে।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো, শ্রেণিকক্ষে শুধু ভালো পাঠদান করলেই চলবে না, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সুবিধা-অসুবিধা ও অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও শিক্ষকদের সর্বোচ্চ মনোযোগী ও যত্নবান হতে হবে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা খাতে যে পরিবর্তন এসেছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা একাডেমিক কার্যক্রমে নিজেদের মেধাকে শুধু সীমাবদ্ধ রাখেনি, বছরের বিভিন্ন সময় ফুটবল টুর্নামেন্ট, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ইনডোর গেমস, ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরের আয়োজনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ ইউনিভার্সিটিতে একটি বিতর্ক ক্লাব রয়েছে। ক্লাবটি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

বিজ্ঞাপন
(বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে নিয়োজিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. কে এম মোহসীন গত ২২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মইনুল হোসেন উপাচার্যের চলতি দায়িত্বে রয়েছেন।)

অনুষদভিত্তিক বিষয় ছাড়াও আমাদের রয়েছে গবেষণার বিভিন্ন সেল।যেমন সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি, ধূমপান নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা সেল এবং সামাজিক ব্যবসায় একাডেমিক সেল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি সেল। এসব গবেষণা সেলের উদ্যোগে সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। বছরে দুবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নাল অব ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রকাশিত হয়।এখানে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং দরিদ্র ও মেধাবীদের জন্য নীতিমালা অনুযায়ী বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলসহ (আইকিউএসি) বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পন্ন করে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অ্যান্ড ইউনাইটেড নেশনস একাডেমিক ইমপেক্টের সদস্য হিসেবে মানবাধিকার, শ্রমিক অধিকার, পরিবেশ, দুর্নীতিবিরোধী অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন নিয়মিতই করে। ভারত, মালয়েশিয়া, নেপালসহ বিশ্বের অনেক দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষর করেছে ডিআইইউ।

ঢাকার বাড্ডায় সাতারকুলে নান্দনিক স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়াও বনানী ও গ্রিন রোড ক্যাম্পাসে কিছু কিছু কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে সব কটি ক্যাম্পাসে আধুনিক লাইব্রেরি আছে। লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। ছাত্রছাত্রীরা সকাল আটটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত লাইব্রেরিতে লেখাপড়া করতে পারে। শিক্ষার্থীরা ই-লাইব্রেরি সুবিধা পায়, বাসায় বই নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। ছাত্রছাত্রীদের আবাসনের জন্য সাতটি হোস্টেল রয়েছে। বর্তমানে এখানে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য পরিবহনব্যবস্থা রয়েছে।

অধ্যাপক ড. এ বি এম মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এখনো যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে। কেননা অন্যান্য ইউনিভার্সিটির তুলনায় এখানে টিউশন ফি অনেক কম।

বিজ্ঞাপন
উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন