ইফতার আয়োজন নিয়ে ক্যাম্পাসগুলো এখন মুখর। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় গত দুই বছর পবিত্র রমজান মাসে এই মিলনমেলার সুযোগ ছিল না। ইফতার আয়োজনগুলো এবার তাই আরও বেশি জমজমাট। দুই বছর ক্লাসরুমে তালা ঝুললেও ভর্তি হয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী, যোগ হয়েছে অনেক নতুন মুখ। দল বেঁধে ইফতার করার ব্যাপারে তাঁদের আগ্রহ আরও বেশি। ইফতারের সময় কে কোন বিভাগ, কে কোন বর্ষ, সেসবের ভেদাভেদ থাকে না। নির্ধারিত জায়গায় হাজির হয়ে গেলে কোনো না কোনো দল ঠিকই টেনে নেয়।

default-image

এমনই একটি দলে বসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এই ইফতার আসলে সবার সঙ্গে সবার দেখা হওয়ার একটা উপলক্ষও বটে। বিভিন্ন বিভাগ নিজেদের মতো ইফতার আয়োজন করে। অনেক সময় সিনিয়র ভাইবোনেরাও এসে যোগ দেন। স্মৃতি রোমন্থন করেন। কে কোন বিভাগ, কোন ব্যাচ, সেসবের ভেদাভেদ থাকে না। সবাই আমরা একসঙ্গে বসে খাই।’

ক্যাম্পাসকে আরেকটা পরিবার বলে মনে করেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাঈদী মো. সৌরভ। সৌরভের ভাষ্য, ‘সারা দিন রোজা রাখার পর ক্যাম্পাসের বন্ধু, বড়-ছোট ভাইবোনদের সঙ্গে ইফতার করার অনুভূতি অন্য রকম। বাড়িতে থাকলে হয়তো পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতাম, সেটা মিস করি ঠিক। কিন্তু এই প্রাঙ্গণ আমার ঠিকানা হয়েছে মাত্র চার থেকে পাঁচ বছরের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষে এই বন্ধুত্ব-বন্ধনের স্মৃতি নিয়ে যদি বের হতে না পারি, তাহলে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সার্থকতা কোথায়?’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), কার্জন হল প্রাঙ্গণ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবলিস চত্বর, শহীদ হবিবুর রহমান হলের মাঠ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল মাঠ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসহ প্রায় প্রতিটি ক্যাম্পাসেই ইফতারের জন্য নির্দিষ্ট কিছু স্থান আছে। প্রতিদিনই বিকেল হলে এসব জায়গায় শিক্ষার্থীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও এ সুযোগে প্রিয় প্রাঙ্গণে ঢুঁ মারেন।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিভাগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিজের মতো ইফতার আয়োজন করে। তারা যে শুধু নিজেরাই ইফতার করে, তা নয়, অনেক সংগঠন নিজেরা চাঁদা দিয়ে দুস্থ মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করে।

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন