বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গ্রন্থাগার খোলার প্রথম দিনে আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের মূল ফটকে শিক্ষার্থীদের শারীরিক দূরত্ব মেনে প্রবেশের জন্য প্রতি তিন ফুট পর বৃত্তাকার চিহ্ন দেওয়া হয়। প্রথমে টিকার প্রমাণপত্র ও পরিচয়পত্র দেখিয়ে ঢুকতে হয় শিক্ষার্থীদের। এরপর ভেতরে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। ফটকের ভেতরে শিক্ষার্থীদের জন্য মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ছিল, ছিল হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রন্থাগারের ফটকে স্বাস্থ্যবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি করছেন গ্রন্থাগারের কর্মকর্তারা। সকালে কিছু শিক্ষার্থী লাইন ধরে গ্রন্থাগারে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পরপর শিক্ষার্থীরা আসতে থাকেন। বাইরে থেকে কোনো বইপত্র নিয়ে কাউকে গ্রন্থাগারে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। যাচাই করা হচ্ছে টিকার প্রমাণপত্র ও পরিচয়পত্রের বিষয়টি ৷ স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির বাইরে অন্য শিক্ষার্থীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

কিন্তু ক্যাম্পাসের দোয়েল চত্বরের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের বিজ্ঞান শাখায় ঢোকা নিয়ে সকালে ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরে শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুপুরে বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে গিয়ে দেখা যায়, গ্রন্থাগারের ফটকে টিকার প্রমাণপত্র বা পরিচয়পত্র যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রেও সেখানে ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে।

বেলা পৌনে একটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার পরিদর্শনে আসেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নিজামুল হক ভূইয়াসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। গ্রন্থাগার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন উপাচার্য।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রন্থাগারে আসায় শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত বা পরামর্শ অনুযায়ী গ্রন্থাগারে আসায় শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ দিই। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এভাবেই একটি জাতি ওঠে। পুরো জাতি এখান থেকে শিখবে। এই সুন্দর মূল্যবোধের জন্য শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের ধন্যবাদ দিই। ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর থাকবে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা সেই সুন্দর দিনের অপেক্ষায় আছি, যেদিন সব শিক্ষার্থীকে আমাদের মধ্যে পাব। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে না থাকায় আমরা শিক্ষকেরা অস্বস্তিতে আছি।’

default-image

গ্রন্থাগারের বিজ্ঞান শাখায় ঢিলেঢালা স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের সচেতনতার জায়গাটি খুবই প্রখর। আমরা আনন্দিত যে সবাই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আমরা মানুষের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা প্রত্যেক অংশীদার যদি দায়িত্বশীল আচরণ করি, তাহলে কিন্তু একটি সুন্দর-শিক্ষানুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারি।’

আগামী ৫ অক্টোবর স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরেক শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খোলার কথা। হল খোলার পর শিক্ষা কার্যক্রম কবে থেকে শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘একটি পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে আমাদের অগ্রসর হতে হবে। কারণ, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ফলে আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই সব সিদ্ধান্ত নেব।’

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন