বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গণরুম-ব্যবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনসংকটের ফলাফল। এ ব্যবস্থায় এক কক্ষে অনেক শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন এই কক্ষগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এসব কক্ষে ওঠা নবীন শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়, পোহাতে হয় ‘গেস্টরুমের’ বিভীষিকাও। একসময় ছাত্রদল গণরুম নিয়ন্ত্রণ করত, এখন করে ছাত্রলীগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঘোষিত পথরেখা অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে করোনার টিকা নিতে হবে। এর অগ্রগতি সাপেক্ষে শুধু স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য হল খোলার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তাঁদের শ্রেণি ও পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। মধ্য নভেম্বরে প্রথম থেকে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে উঠিয়ে সরাসরি পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে। হলে কোনো গণরুম থাকবে না। এর অংশ হিসেবে কিছু হলের গণরুমে ইতিমধ্যে খাটও বসানো হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার রাতে পরিবেশ পরিষদের ভার্চ্যুয়াল সভা ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সভায় ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানীর সঞ্চালনায় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ, সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামালসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদস্থ ব্যক্তিরা যুক্ত ছিলেন। সভায় প্রায় সব ছাত্রসংগঠনের নেতারাই সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে হল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

default-image

সভায় ছাত্রলীগ নেতারা গণরুম সংস্কৃতি বিলোপে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গণরুমের বাস্তবতার কারণে শিক্ষার্থীদের মর্যাদাহীন পরিবেশে থাকতে হয়। এই পদ্ধতি ছাত্ররাজনীতিতে অনেক নেতিবাচক উপাদান যুক্ত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবশ্যই এ প্রথা সরিয়ে নিতে হবে। আমরা এ ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা করব।’ সাদ্দাম জানান, ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সভায় এ বিষয় ছাড়াও শিক্ষার্থীদের মেস ও বাসাভাড়ার সমস্যাকে প্রাধান্য দিয়ে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই হল খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিট বণ্টন নিশ্চিত করা, আইসোলেশন সেন্টার ও টিকাদানকেন্দ্র স্থাপন, সেশনজট নিরসনে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া, শিখনঘাটতি নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া জন্যও তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম গণরুম বিলোপের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিবেশ পরিষদের সভায় আমরা গণরুম বাতিলের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছি। পাশাপাশি সংশয় প্রকাশ করেছি এ কারণে যে অতীতেও এই ধরনের উদ্যোগ নিলেও দৃশ্যমান সফলতা দেখা যায়নি। গণরুম বাতিলের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন আদৌ হবে কি না, সে বিষয়ে আমরা সন্দিহান। তবে এ ক্ষেত্রে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি। এ ছাড়া ক্যাম্পাস খোলার পর সব ছাত্রসংগঠন যেন স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে জন্য আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানিয়েছি। ছাত্রদলসহ অধিকাংশ সংগঠন সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।’

default-image

বাম ধারার তিনটি ছাত্রসংগঠনের মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, সংকট ছিল বলে গণরুম ছিল। তাহলে কোন সংকটগুলো মোকাবিলার মধ্য দিয়ে গণরুমগুলো আর থাকছে না, সে বিষয়ে সভায় সুস্পষ্ট কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। এ সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হবে কি না, সে বিষয়ে আমরা সন্দিহান। আমরা বলেছি, গণরুম থাকবে না—এটা খুবই ভালো ব্যাপার; কিন্তু সেটি যেন কোনোভাবেই ছাত্রদের হলে থাকার যে অধিকার ছিল, সেখানে নতুন করে হয়রানি বা সংকটের জন্ম না দেয়। হলগুলোয় যে আবাসনব্যবস্থা আছে, ততটুকুতেও যদি প্রশাসনিক তদারক নিশ্চিত হয় এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের দখলদারি উচ্ছেদ করা যায়, অন্তত অনেক দূর পর্যন্ত সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। এ ছাড়া নতুন হল-ভবন নির্মাণের দিকেও আমাদের যেতে হবে।’ সভায় করোনাকালে শিক্ষার্থীদের সব ধরনের ফি মওকুফ, আবাসিক হল-বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্র ও ব্যায়ামাগারে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন, এগুলোর মনিটরিংয়ে মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা, ক্যাম্পাস করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা ও টিকাদানকেন্দ্র স্থাপনের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

এ সভার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে আমাদের ভালো আলোচনা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। আবাসিক হলগুলো সেপ্টেম্বরের মধ্যে খোলা যায় কি না, সে বিষয়ে সেখানে আলোচনা পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন