বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কোথায় পড়ানো হয়?

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৫০টি, ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৫০টি, লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৫০টি এবং কুয়েটে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৬০টি আসন রয়েছে। প্রতিবছর এ খাত থেকে ২১০ জন শিক্ষার্থী বের হন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

কী নিয়ে পড়ানো হয়?

লেদার প্রকৌশল, ফুটওয়্যার প্রকৌশল, প্রোডাক্টস প্রকৌশল, ম্যানুফেকচারিং টেকনোলজি, প্রোডাকশন, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স, পলিমার সায়েন্স, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড প্যাটার্ন মেকিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, টেস্টিংসহ আরও অনেক টপিকে ডিপার্টমেন্টাল এবং নন–ডিপার্টমেন্টাল কোর্স পড়ানো হয়। মূলত রসায়নসংক্রান্ত বিষয়ের ভালো সংযোগ আছে বিষয়টির সঙ্গে।

উচ্চশিক্ষার সুযোগ

বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং করার পর চাইলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একজন লেদার প্রকৌশলী চাইলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, আইপিই, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানেজমেন্ট অব টেকনোলজি, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টসহ আরও অনেক বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে পারবেন। লেদার প্রকৌশল বিষয়টি রিসার্চের জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে। তাই আগ্রহী কেউ চাইলেই রিসার্চ নিয়ে কাজ করতে পারবেন।

চাকরিক্ষেত্র

লেদার প্রকৌশলীদের জন্য সরকারি-বেসরকারি দুই ধরনের চাকরি রয়েছে বাংলাদেশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা, সায়েন্টিফিক অফিসার (লেদার), রিসার্চারসহ আরও প্রতিষ্ঠানে সরকারি চাকরির সুযোগ রয়েছে।
এ খাতে বেসরকারি চাকরির জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে। দেশে ছোট–বড় মিলিয়ে লেদার ও ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি আছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি। একই সঙ্গে দেশে বর্তমান ট্যানারির সংখ্যা প্রায় ১৬০। প্রতিবছর ২১০ জন প্রকৌশলী বের হন এ বিষয়ে পড়াশোনা করে, যা দেশে বর্তমানে থাকা চাহিদার থেকে অনেক কম। যোগ্য ও দক্ষতাপূর্ণ প্রকৌশলীর তীব্র চাহিদা রয়েছে এই খাতে।

এ ছাড়া দেশে বাটা, অ্যাপেক্স, বে, লোটো, ওয়াকারের মতো আরও অনেক বহুজাতিক কোম্পানি ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ইপিজেডে লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্বের নামীদামি ব্র্যান্ড, যেমন পুমা, অ্যাডিডাস, নাইকির মতো আরও অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের অনেক নামীদামি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে তাদের কারখানা স্থাপন করেছে। নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও অনেক কারখানা স্থাপন হতে চলেছে।

এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটির অনেক অ্যালামনাই সফলতার সঙ্গে তাঁদের কর্মজীবন অতিবাহিত করছেন এবং অনেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য রয়েছেন। এ ছাড়া কুয়েটের শিক্ষার্থীর দুবার ওয়ার্ল্ড ইয়াং লেদার সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড জেতার গৌরবময় রেকর্ড রয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার ৪০৭ দশমিক ৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৮ সালে ৬২৪ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে পৌঁছাবে। ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন বিলিয়ন ডলারের এ বাজার বাংলাদেশ ধরতে পারছে না দক্ষ জনশক্তির অভাবে। আমাদের পাশের দেশ ভারতে গড়ে উঠেছে লেদার ভিলেজ।

সাভারে ট্যানারি পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। সিইটিপি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড’ তৈরি করা হয়েছে। লেদার নিয়ে উচ্চতর গবেষণার জন্য বাংলাদেশে রয়েছে ‘লেদার রিসার্চ ইনস্টিটিউট’। প্রতিনিয়ত পণ্যগুলো আপডেট হচ্ছে। এখন লেদারের পাশাপাশি সিনথেটিক‌ লেদার ও আর্টিফিশিয়াল লেদারের কদর বাড়ছে। বাটা প্রথম পরিবেশবান্ধব জুতা বাংলাদেশে এনেছে। পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এখন এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। গত এক দশকে চামড়া রপ্তানি আয় ৫০০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ উৎপাদনে ষষ্ঠ এবং রপ্তানিতে ২০তম অবস্থানে আছে। বাংলাদেশের পণ্যগুলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮টিসহ আরও বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশের কারখানাগুলোর বেশির ভাগ ১০০ শতাংশ রপ্তানিমুখী কারখানা। সামনে আরও নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার উদ্ভাবনের সুযোগ রয়েছে। যেমন স্মার্ট শুয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে আরও নতুন কিছু উদ্ভাবন করা সম্ভব।
লেখক: সাদমান সাদিক শোভন, শিক্ষার্থী, লেদার প্রকৌশল বিভাগ, কুয়েট

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন