default-image

বিসিএস, ব্যাংকের নিয়োগ, জুডিশিয়াল নিয়োগ, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ—এসব নিয়োগ পরীক্ষার প্রিলিমিনারি বাছাইয়ে পরীক্ষার্থীদের সম্মুখীন হতে হয় বহুনির্বাচনী প্রশ্ন বা এমসিকিউয়ের। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক, উচ্চমাধমিক বা স্নাতক যে পর্যায়েই পড়াশোনা করুন না কেন, সবাইকেই একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে হয়। এ কারণে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করা একজন পরীক্ষার্থীর কাছে বাংলাদেশের আইন, সংবিধান ও অর্থনৈতিক সমীক্ষাবিষয়ক প্রশ্নগুলো যেমন নিছক কিছু তথ্য ছাড়া আর কিছুই নয়, একইভাবে একজন মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থীর জন্য সাধারণ বিজ্ঞান বা গাণিতিক সমস্যাবিষয়ক প্রশ্নগুলোও একই রকম দুর্বোধ্য র‌্যানডম তথ্য হিসেবেই ঠেকে।

বিভিন্ন তথ্য মনে রাখার জন্য কগনিটিভ লার্নিং ব্যাপারটা শিক্ষাক্ষেত্রে খুবই কার্যকর এবং জনপ্রিয়ও বটে। যেমন GRE, IELTS পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বহুল প্রচলিত প্ল্যাটফর্ম Magoosh, Prinston, Kaplan–এর সবাই কগনিটিভ শিক্ষণ পদ্ধতিতেই চলে। বাংলাদেশে বিসিএস, ব্যাংকের নিয়োগ, জুডিশিয়াল নিয়োগ, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগজাতীয় চাকরির পরীক্ষার জন্য আছে Lojens.com প্ল্যাটফর্ম। কগনিটিভ শিক্ষণের ধারণার যথাযথ প্রয়োগ করেই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এবং শিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের (এইচইকিউইপি) শিক্ষণ বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনায় বুয়েটের তিনজন ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ রাশেদ আলম, ফুয়াদ বিন নাসের ও প্রিয়ম মজুমদার তৈরি করেছেন কগনিটিভ লার্নিং–ভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম লজেন্স। লজেন্সে চাকরির পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ও অনুশীলন করার প্রশ্নপত্র সবই সংকলিত হয়েছে কগনিটিভ লার্নিং ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই।

বিজ্ঞাপন

কগনিটিভ লার্নিং বিষয়টা কী?

default-image

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে সেটিকে অধ্যায়, টপিক ও কনসেপ্ট সেগমেন্টে ভাগ করে নিতে হবে। তাতে করে কতটুকু উন্নতি হয়েছে এবং সীমিত সময়ের মধ্যে আর কতটুকু উন্নতি করতে হবে, তা অনুসরণ করা সহজ হবে।

—নিয়মিত টপিক ধরে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। যেকোনো একটি টপিকের প্রতিটি কনসেপ্ট একবার পড়েই দ্রুত অনুশীলনে চলে যেতে হবে। প্রতিটি কনসেপ্ট পড়া শেষে নিজেকে প্রশ্ন করে যাচাই করে নিতে হবে। কোনো প্রশ্নের উত্তর ভুল হলে বা মনে না থাকলে তার সঠিক উত্তর দেখে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পরের প্রশ্নে চলে যেতে হবে। সব কটি ধারণা এভাবে একবার করে অনুশীলনের পরে ভুল বা ভুলে যাওয়া প্রশ্নগুলোর পুনরায় উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

—পূর্বের জানা তথ্যের সঙ্গে নতুন শেখা তথ্যের সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করা খুব জরুরি। নতুন শেখা জিনিসকে কোনোভাবে আগের জানা জিনিসের সঙ্গে সম্পর্কিত করা গেলে মনে রাখা অনেক সহজ হয়ে যাবে। যেমন চর্যাপদের আদিকবি কে? এই প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করলে ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু চর্যাপদ কেন বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ, কে খুঁজে পেয়েছেন, কতজন কবি ছিলেন—এমন একটু বিস্তারিত ইতিহাস পড়াশোনা করা থাকলে এর বিষয়ের সব তথ্য মনে রাখাটা সহজ হবে।
—ভোকাবুলারি। কোনো নামের তালিকা মুখস্থ করাটা খুবই অকার্যকর। এ ধরনের তালিকার ক্ষেত্রে কনটেক্সট বুঝে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। যেমন ভোকাবুলারির ক্ষেত্রে অর্থ, সমার্থক, বিপরীতার্থক শব্দগুলোসহ পড়লে মনে রাখার সম্ভাবনা বেশি থাকে। https://www.youtube.com/watch?v=3v0s5578UaI

—পড়তে হবে বাস্তব, প্রায়োগিক উদাহরণসহ। সে ক্ষেত্রে নিজের জীবন বা বাস্তব জীবনের সঙ্গে তথ্যের যোগাযোগ স্থাপন করা গেলে সুবিধা হবে। যেমন গণিত বা বিজ্ঞানজাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে বাস্তব উদাহরণের সঙ্গে মেলানো যায় এমন সমস্যার সমাধান করা গেলে শিক্ষণের জন্য উপকারী হবে।

https://www.youtube.com/watch?v=RWTzq9Y4lTU
—কাছাকাছি ধরনের বিষয় একসঙ্গে পড়াশোনা করে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণের ক্ষেত্রে কাছাকাছি নিয়ম অনুসরণ করে এমন অনেক টপিক আছে। এই টপিকগুলোর নিয়মের সামঞ্জস্য ও পার্থক্য জেনে পড়লে মনে রাখতে সহজ হবে। https://www.youtube.com/watch?v=YCwmFaa4EVg

কগনিটিভ লার্নিংয়ের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে যোগাযোগ খুঁজে বের করা। পূর্বে জানা তথ্যের সঙ্গে নতুন শেখা তথ্যের যোগাযোগ, পড়াশোনার সঙ্গে অনুশীলনের যোগাযোগ। আমরা যখন গুগলে কোনো সার্চ দিই, সেখানে বানান ভুল করলেও গুগল আমাদের সঠিক ফলাফল দেখাতে পারে। কারণ, তার নিউরাল নেটওয়ার্কে সবার করা ভুল বানান ও কাছাকাছি তথ্যগুলোর সম্পর্ক তৈরি করা আছে। মানুষের মস্তিষ্কও একইভাবে কাজ করে। অকার্যকর মুখস্থবিদ্যার জোয়ারে গা না ভাসিয়ে এখনই সব শিক্ষার্থীর উচিত কগনিটিভ শিক্ষণের ধারায় এসে প্রস্তুতি নেওয়া। নিজের মস্তিষ্কের ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগের জন্য তোতাপাখির মতো মুখস্থ না করে আসুন, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শিখি।

বিজ্ঞাপন
উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন