মানসম্মত পাঠদান ও যুগোপযোগী গবেষণাই লক্ষ্য

‘সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ’ গড়ায় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করে যুগোপযোগী স্নাতক তৈরি করা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই ঢাকার বেগম রোকেয়া সরণিতে সিটি ক্যাম্পাসের পাশাপাশি পূর্বাচল আমেরিকান সিটিতে গড়ে উঠেছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আধুনিক, স্থায়ী ক্যাম্পাস।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈশ্বিকভাবে ‘২০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক’ নীতি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এটি বজায় রাখতে চেষ্টা করছে। এখানে কয়েক ধাপে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকদের নিয়োগ হয়। পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আছে চার মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। সেই লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর টিচিং অ্যান্ড লার্নিং (সিইটিএল)।

করোনার প্রকোপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই অনলাইন ক্লাস শুরু করেছিল গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কোর্সগুলোতে ‘আউটকাম বেজড এডুকেশন’ বা ওবিই পদ্ধতিতে পাঠদানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস বিভাগ পেয়েছে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) স্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল টেকনোলজিস ফর ইন্ডাস্ট্রি ৪.০’ সম্মেলন এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ২০১৯ ও ২০২০ সালে আয়োজিত এই সভায় বিশ্বের প্রায় অর্ধশত দেশের শিক্ষাবিদ-গবেষকেরা অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া আইন, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ আলাদাভাবে নিয়মিত জার্নাল প্রকাশ করছে।

ইউএস-বাংলা গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সিজিপিএ ও দক্ষতা সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি পাচ্ছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকেরা। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা দিতে গড়ে তোলা হয়েছে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিসিডি)।

এ ছাড়া স্থায়ী ক্যাম্পাসের খেলার মাঠ, পরিবহনব্যবস্থা, গ্রিন ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার, সেন্টার ফর এয়ার অ্যান্ড স্পেস ল, গবেষণা চালু রাখতে সেন্টার ফর রিসার্চ ইনোভেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন, শিক্ষার্থীদের জন্য ১৭টি ক্লাব, স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ফান্ড, স্টুডেন্ট মেন্টরশিপ প্রকল্প, ইনিশিয়েটিভ ফর ফিউচার ট্রান্সফরমার প্রোগ্রাম, জাপানে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য নাট টেস্ট পরীক্ষা আয়োজন, রাজধানীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-এআই প্রকল্প ও দেশব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতা ব্যাটল অব ব্রেইনস ও নলেজের মতো উদ্যোগগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে করেছে আরও সমৃদ্ধ।

বিজ্ঞাপন

প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের কথা

default-image

জেসিয়া শারমিন

সহকারী গবেষক, মাস্টার্স অব কম্পিউটার সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব মালয়, মালয়েশিয়া

আমার জীবনের পথপ্রদর্শক হলো গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ ও বন্ধুসুলভ শিক্ষক পাওয়ার কারণেই আজ আমি মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা, র৵াঙ্কিংয়ে বিশ্বের ৫৯তম বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তিসহ পড়ার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে প্রতি সেমিস্টারে ভিসি ও ডিন অ্যাওয়ার্ডের ভূমিকা অনন্য। সেই সঙ্গে চূড়ান্ত শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে যোগদান, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইন্টারভিউতে অংশগ্রহণ ও সাফল্য অর্জনের জন্য পিএলএসডি কোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

default-image

হাফিজ শিকদার

শিক্ষার্থী, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল

বাবা মারা যাওয়ার পর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু গ্রিন ইউনিভার্সিটি আমাকে হারিয়ে যেতে দেয়নি। পরম মমতায় আগলে রেখেছে। গ্রিন ইনিশিয়েটিভ ফর ফিউচার ট্রান্সফরমারের (গিফট) সুবাদে জাপান থেকে বৃত্তি পেয়েছি। বন্ধুসুলভ শিক্ষকেরা পাশে দাঁড়ানোর কারণেই আজ আমি এত দূর এসেছি। জগন্নাথ কিংবা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে না পারার দুঃখকে হারিয়ে গ্রিনে পড়ার গৌরব আমার মনে জায়গা করে নিয়েছে।

একনজরে

default-image

যেসব বিষয় পড়ানো হয়

গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে চারটি অনুষদের অধীন বেশ কিছু বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে পড়তে পারেন কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল, টেক্সটাইল প্রকৌশল, বিবিএ, আইন, সমাজবিজ্ঞান, ইংরেজি এবং জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন। এ ছাড়া স্নাতকোত্তরে এমবিএ, ইএমবিএ ও আইন পড়ার সুযোগ আছে।

ভর্তির যোগ্যতা

গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নীতিমালা অনুসরণ করে ভর্তি করানো হয়। এ ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসিতে আলাদা আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ–২.৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা ভর্তি ফরম সংগ্রহ করতে পারেন।

বৃত্তি ও বিশেষ সুবিধা

সিটি ক্যাম্পাসে ২০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ এবং স্থায়ী ক্যাম্পাসে ৫০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃত্তি সুবিধা দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সব কটি বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ এবং চতুর্থ বিষয়সহ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ৬০ শতাংশ বৃত্তির সুবিধা আছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ছাত্রী, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও খেলোয়াড়দের জন্য আছে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃত্তি। গরিব ও মেধাবীদের জন্য আছে বিশেষ ‘স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ফান্ড’। এ ছাড়া ভর্তির পর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় ভালো ফলের ওপর ভিত্তি করে আলাদা বৃত্তি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা সেমিস্টারে তিনটি কিস্তির মাধ্যমে অনলাইনে ও সরাসরি টিউশন ফি জমা দিতে পারেন।

দেশে-বিদেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার

কানাডা, যুক্তরাজ্য, চীন, মালয়েশিয়া, ইতালি, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী বৃত্তিসহ পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া দেশে ইউজিসি অনুমোদিত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ রয়েছে।

টিউশন ফি

বিস্তারিত: green.edu.bd/admissions/tuition-fees/

ঠিকানা

সিটি ক্যাম্পাস: ২২০/ডি বেগম রোকেয়া সরণি, ঢাকা-১২০৭

স্থায়ী ক্যাম্পাস: পূর্বাচল আমেরিকান সিটি।

ফোন: ০১৭৫৭০৭৪৩০১-৪

ওয়েবসাইট: www.green.edu.bd

বিজ্ঞাপন
উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন