default-image

‘মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে আর আমি মা এখনো ডিগ্রি পড়ি’—এমন একটি প্লাকার্ড নিয়ে প্রেসক্লাবে সামনে ইডেন মহিলা কলেজের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী মারিয়া দাঁড়িয়ে। তাঁর অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর তাঁর মতো তিন বছরের ডিগ্রি অর্জন নয় বছরে সম্ভব হয়নি। আবার সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। ফলে, বছরের পর বছর সেশনজটে শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেশনজট ও ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের জন্য মানববন্ধন করেন। ‘সাত কলেজের ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এতে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দাবি জানিয়ে বারবার আন্দোলন করার পরও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠু কোনো সমাধান দিতে পারেনি। উল্টো শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

মানববন্ধনে সাত কলেজের চলমান সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘সাত কলেজের দাবি, মেনে নাও ঢাবি,’ ‘সময়মত পরীক্ষা নাও, নইলে মোদের চাকরি দাও,’ ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে তিতুমীর কলেজ মাসুদ বিল্লাহ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো সব সেশনকে পরবর্তী সেশনে ক্লাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, অনার্স ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের অতি দ্রুত পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ, সব বর্ষের ফলাফল ৯০ দিনের মধ্যে প্রকাশ, ডিগ্রি ২০১২-১৩ বর্ষের চলমান বিশেষ পরীক্ষা অতি দ্রুত নিয়ে এক মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ন্যূনতম পয়েন্টে পরবর্তী বর্ষের প্রমোটেড নিয়ম বাতিল ও তিন বিষয় পর্যন্ত অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রমোটেড দেওয়া, সব ইমপ্রুভ পরীক্ষা অতি দ্রুত নেওয়া ও ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্স সব বর্ষের ফলাফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণসহ খাতা পুনর্মূল্যায়ন এবং প্রিলিমিনারি মাস্টার্স ২০১৫-১৬ সেশনের প্রথম পর্বের চলমান পরীক্ষা নিয়ে অতি দ্রুত ফল প্রকাশ ও একই সেশনে একের অধিক বর্ষের শিক্ষার্থী না রাখা।

ঢাকা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মোস্তফা কামাল বলেন, ‘২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ। কিন্তু এখনো আমাদের তৃতীয় বর্ষের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।’

মন্তব্য পড়ুন 0