বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বলছিলাম অভিজিৎ হীরার কথা, যিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক ছিলেন, পরে মার্কুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করতে আসেন। জীবনের এ অল্প সময়ে তাঁর ১২টি গবেষণাকর্ম প্রকাশিত হয়। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, চলতি বছরের শুরুতে আবাসিক ভবনের কক্ষে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়। এখনো তাঁর মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।

default-image

এই তো মাস খানেক আগের কথা, মাহফুজুর রহমান নামের আরেক শিক্ষার্থীর কথা বলছি, যিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া টেক ইউনিভার্সিটির পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছিলেন। অজ্ঞাত কারণে তাঁর আত্মহত্যার খবর শুনতে পাই।

জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অপূরণীয় ক্ষতি মোকাবিলায় আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার আলোকে কতিপয় সুপারিশ—

১.

উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অতিরিক্ত চাপ। অতিরিক্ত কাজের চাপ মন ও শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। সে কারণেও মন খারাপ হতে পারে। একাডেমিক চাপ মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া জরুরি। কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিতে ভুলবেন না।

২.

যেকোনো ধরনের চাপ মোকাবিলায় বন্ধুমহলের সঙ্গে আড্ডার জুড়ি নেই। এ ক্ষেত্রে খেলাধুলা, আড্ডা আপনার দেহ ও মন—দুই সতেজ করতে পারে।

৩.

যেসব কাজ আপনাকে আনন্দ দেয়, মন খারাপের সময় সেসব কাজ বেশি করে করুন। যেমন প্রিয় কোনো বই পড়ুন, পছন্দের মুভি দেখুন, রান্না করুন, দেশে কিংবা বিদেশে অবস্থানরত পুরোনো কোনো বন্ধুর সঙ্গে ফোনে আড্ডা জমিয়ে দিন, প্রকৃতির কাছাকাছি কোথাও ঘুরতে যান।

৪.

নিজের একটা গাড়ি থাকলে ড্রাইভ করুন, কোনো জরুরি কেনাকাটা না থাকলেও শপিং সেন্টারে ঘুরে বেড়ান। দেখবেন, মন ভালো হয়ে যাবে।

৫.

নেতিবাচক চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন। আপনার অতীত জীবনে কী কী ইতিবাচক ঘটনা ঘটেছে, তা স্মরণ করতে থাকুন, দেখবেন মন ভালো হয়ে যাবে।

৬.

অনেক সময় অনিদ্রা থেকেও মানসিক বিষাদ আসতে পারে। কাজেই ভালো একটা ঘুম দিন। ভালো ঘুম হলে শরীর ও মন ফ্রেশ লাগতে পারে।

৭.

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সুস্থ জীবনযাপন বাঞ্ছনীয়! আমেরিকার প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শরীরচর্চাকেন্দ্র রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা যেতে পারে। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম মানসিক চাপ দূর করে।

৮.

উপাসনা ও যোগব্যায়াম মনকে সতেজ রাখে। উপাসনা ও যোগব্যায়াম সামাজিক যোগাযোগ যেমন বৃদ্ধি করবে, তেমনি আপনার মানসিক সতেজতা আনতে সহায়ক হবে।

৯.

প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিউনিটিভিত্তিক ক্লাব রয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত কার্যক্রমের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করুন। দেখবেন মন ভালো হয়ে যাবে।

১০.

পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে বেশি সময় কাটান। এ ক্ষেত্রে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সহানুভূতিশীল ভূমিকা অতীব প্রয়োজন।

১১.

গবেষণামতে, মানসিক কষ্ট ও বিষাদ দূরীকরণে কান্না বেশ সহায়ক। তাই কিছুতেই কাজ না হলে কান্না করুন।

১২.

সর্বোপরি, উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক রোগের পরামর্শকেন্দ্র রয়েছে। আপনি যখন হতাশা ও বিষণ্নতায় ভুগবেন, কালবিলম্ব না করে পরামর্শকেন্দ্রের শরণাপন্ন হোন।

সব শিক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। উচ্চশিক্ষার যাত্রা সুগম হোক।

লেখক: মো. সায়েদুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, ন্যাচারাল রিসোর্স ইকোনমিকস, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন